Naya Diganta

পাবিপ্রবি ছাত্রের বিষ্ময়কর আবিস্কার : মোবাইলের সাহায্যে চলবে হুইল চেয়ার

পাবনা থেকে সংবাদদাতা

০১ জুলাই ২০১৫,বুধবার, ১৬:০১


পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র তরুন দেবনাথ বিষ্ময়কর আবিস্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তার উদ্ভাবিত স্মার্ট হুইল চেয়ার শারিরীক প্রতিবন্ধী এবং পক্ষাঘাতগ্রস্থ ব্যক্তিদের জীবন পাল্টে দেবে। এই চেয়ার চলবে মোবাইল ফোনের সাহায্যে। চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পরিবারের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে যাবে। দেশের ৫ লাখ প্রতিবন্ধীর চলাচলে দারুন সহায়ক হবে এই চেয়ার। খরচও নাগালের মধ্যেই বলে জানায় নব আবিষ্কারক তরুন দেবনাথ।
সম্প্রতি দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন মেলায় দেবনাথের উদ্ভাবন প্রথম স্থান অর্জন করেছে। মেলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল রোবটস গট ফ্রিডোম’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘অ্যানড্রয়েড ফোন কন্ট্রোল স্মার্ট হুইল চেয়ার ফর ডিজেবিলিটিস’ প্রজেক্টটি। এই হুইল চেয়ারটি মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং পক্ষাঘাতগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এটাকে খুব সহজেই পরিচালনা করা যাবে। এই ক্যাটাগরিতে আরও অংশ নেয় বুয়েটের ‘মাইন্ড কন্ট্রোল রোবট’, চুয়েটের ‘হিউম্যানয়েড রোবট’ সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চমকপ্রদ অসংখ্য প্রজেক্ট।
আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন সামিট উপলক্ষে ঢাকার খামারবাড়ীতে রোবট এবং ড্রোন নিয়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সামিটটির আয়োজক কমিটির দলনেতা আরিফ রায়হান বলেন, এবারে সামিট দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে মোট ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে তরুণ দেবনাথ।
দেবনাথ বলেন, এই ধরনের চেয়ার বিদেশ থেকে আমদানি করতে গেলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রজেক্টটি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় হালকা লেদ ওয়ার্কশপের ব্যবসায়ী তপন দেবনাথের ছেলে তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা। পক্ষাঘাতগ্রস্থ ও প্রতিবন্ধীদের অসহায়ত্ব তাঁকে ব্যথিত করত শৈশব থেকেই। এ কারণে এদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তাঁর ছোটবেলা থেকেই।
তিনি আরো বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে নিজের অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলাম। হঠাৎ মাথায় এলো, কি করে এই ফোনকে আরো কল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়। এই চিন্তা থেকেই কাজে লেগে গেলাম। কিছুদিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে একটি স্মার্ট হুইলচেয়ারের মডেল তৈরি করি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ফেয়ারে চেয়ারের একটি ডেমো মডেল জমা দেই। তখন এটা প্রথম স্থান অধিকার করে। এরপর আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। অবশেষে সফলতা আসে চলতি বছরের মে মাসের শেষ নাগাদ। এরপর তিনি পূর্ণাঙ্গ অ্যানড্রয়েড কন্ট্রোলড স্মার্ট হুইলচেয়ার তৈরি করেন। মাত্র ২৪ ভোল্টের দুটি মোটর আর ৪৮ ভোল্টের ব্যাটারির সাহায্যে চলে এই হুইলচেয়ার। 'স্মার্ট এই হুইলচেয়ারে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম সিস্টেম সংযুক্ত করা আছে। এর ফলে চেয়ারে অবস্থান করা ব্যক্তি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বা তার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারের অ্যালার্ম বেজে উঠবে, যা সতর্ক করে দেবে পাশের মানুষদেকে।
ওই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের কল্যাণের জন্য উন্নত দেশগুলোতে কয়েক ধরনের স্মার্ট হুইলচেয়ার পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশি টাকায় তার দাম পড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার মতো। এর বিপরীতে দেবনাথের উদ্ভাবিত এই হুইলচেয়ার মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বাজারজাতকরণ করা সম্ভব। এর ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীরাও এই চেয়ার ব্যবহার করতে পারবে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আল নকীব চৌধুরী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র আট বছর। এরই মধ্যে এখানকার একজন শিক্ষার্থী উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আমি এজন্য তরুন দেবনাথকে ধন্যবাদ জানাই। আমার বিশ্বাস আগামীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো নতুন নুতন আবিষ্কারক বের হবে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫