Naya Diganta

হুমকির মুখে চাষাবাদ ও নৌযোগাযোগ

চিতলমারীর নদী-খাল দখলদারদের কবলে

এস এস সাগর চিতলমারী (বাগেরহাট)

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


চিতলমারী সদর বাজারের পাশে খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা : নয়া দিগন্ত

চিতলমারী সদর বাজারের পাশে খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা : নয়া দিগন্ত

এক সময়ের খরস্রোতা চিত্রা ও বলেশ্বর নদী এখন অস্তিত্বসঙ্কটে। এ অবস্থায় উপজেলার অর্ধশত শাখাখাল এখন নাব্যতা হারিয়ে মরতে বসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর দখলবাজ লোক রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে খাল ও নদীতে জেগে ওঠা চর। এ পরিস্থিতিতে চাষাবাদ ও নৌযোগাযোগ হুমকির মুখে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ নদী-খাল এখন দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কৃষক ও এলাকার সচেতন মহল।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ খাল ও নদীর অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে। ফলে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের নৌযোগাযোগ ও চাষাবাদ বন্ধের পথে। এ অবস্থায় হাজার হাজার কৃষককে পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এসব নদী ও খাল পুনঃখননসহ দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের নদী ও খাল খনন না করায় অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। ফলে চিতলমারী সদর বাজারের হক ক্যানেলসহ বেশকিছু স্থানে খালের পাশে বসবাসকারী প্রভাবশালীরা যে যার মতো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিচ্ছে সরকারি খাল। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে হক ক্যানেল। ফলে চিতলমারী সদর বাজারের পাশের একমাত্র এ খালটিতে এখন হাঁটুপানিও নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সদর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের। উপজেলার বড়বাড়িয়া, কলাতলা, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী সদর, চরবানিয়ারী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নে প্রধান তিনটি নদী ও ৫০টি খাল এবং শতাধিক শাখা খাল রয়েছে। যার অধিকাংশ এখন নাব্যতাসঙ্কটে। এক সময়ের মধুমতি, চিত্রা ও বলেশ্বর নদীর অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তির পথে। এসব নদী থেকে উঠে আসা হক ক্যানেল, পাটনিবাড়ী, পেতœীমারী, নারাণখালী, বাঁশতলী, খাগড়াবুনিয়া, শরৎখালীসহ প্রায় ৫০টি খাল ও শতাধিক শাখা খালের একই অবস্থা।
এসব নদী ও খালে নাব্যতাসঙ্কট দেখা দেয়ায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এর বেশির ভাগই ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ঠিকমতো জোয়ার-ভাটার পানি ওঠা-নামা না করার কারণে সেচ মওসুমে কৃষকরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছে না। ফলে বোরো মওসুমে চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত তারা। এতে নৌযোযোগ ও কৃষিকাজ এখন হুমকির মুখে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।
চিতলমারী সদর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হক ক্যানেলসহ বেশ কিছু খালের পাশে বসবাসকারী প্রভাবশালী লোকজন সরকারি খালের বেশির ভাগ অংশ দখল করে নিয়েছে। এসব স্থানে যে যার মতো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ ভরাট করে ফেলছে। ফলে খাল দিয়ে নৌযোগাযোগ অচল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জোয়ার-ভাটার পানি ঠিকমতো ওঠা-নামা করতে না পারায় বোরো মওসুমে কৃষকরা ঠিকমতো ফসলে পানি দেয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছে। এ অবস্থায় উপজেলার কুরালতলা, শিবপুর, কালশিরা, বারাশিয়া, আড়য়াবর্ণীসহ প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চিতলমারী সদর বাজারে আসা-যাওয়া ও কৃষিপণ্যসহ মালামাল আনা-নেয়ার জন্য নৌকা চলাচলে চরম বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। দখলদারদের কারণে খালটি এখন নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় খালটি দখলদার মুক্ত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকার সচেতন মহল।
শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাসীন রেজা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শেখ রস্তম আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক চন্দ্রশেখর মিস্ত্রিসহ অনেকে জানান, এভাবে খাল দখল হতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে এলাকায় নদী ও খালের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না এবং চাষাবাদের পানিও মিলবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তারা। একই সাথে এসব খাল পুনঃখননের জন্যও তারা জোর দাবি জানান।
সদর ইউনিয়নের পল্টু বিশ্বাস, সুখরঞ্জন বিশ্বাস, দেবাশিষ মণ্ডলসহ এলাকার কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দখলবাজদের কারণে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন জোয়ার-ভাটার পানি ঠিকমতো উঠতে নামতে না পারায় চাষাবাদ নিয়ে চরম চিন্তিত তারা। বোরো মওসুমে সেচ নিয়ে এখনই দিশেহারা কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, এটা শুকনো মওসুম। এ সময়টায় শুধু সেচের ওপর কৃষকদের নির্ভর করতে হয়। তাই নদী ও খালে পানির সমস্যা হলে সেচ কাজ ব্যাহত হবে। এর জন্য কৃষকদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
জেলা প্রশাসক তপনকুমার বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই খাল খনন ও দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা হতে নেয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫