Naya Diganta

সেনাদের ছোঁড়া পেলেটে অন্ধ, দুর্দান্ত রেজাল্টে শিরোনামে এই কাশ্মীরি কন্যা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১২:৩৩


ইনসা মুস্তাক

 

নিরাপত্তারক্ষীদের ছোড়া পেলেটে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল কিন্তু লড়াই থামায়নি সে। অবশেষে লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেল কাশ্মীরের ১৬ বছরের কিশোরী ইনসা মুস্তাক। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় পাশ করল সে। আর রাজ্যের মেয়ের এই সংগ্রামকে অভিবাদন জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ-সহ উপত্যকার প্রতিটি মানুষ।

গত বছর জুলাইয়ে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত কাশ্মীর উপত্যকা। যার রেশ এখনও রয়েছে। ধিকিধিকি করে জ্বলছে হিংসার আগুন। কিন্তু গত বছর এই আগুনই ভয়াবহ স্ফুলিঙ্গের আকার ধারণ করেছিল। আর সেই আগুনেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল ইনসা।

 জানালায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ দেখছিল ইনসা, তখনি ...

 

বাড়ির জানালায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ দেখছিল সে। সে সময়েই বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে নিরাপত্তাবাহিনীর। আর সেনার ছোড়া পেলেট বন্দুকের গুলি এসে লাগে ইনসার চোখে। তারপরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেটিনা এবং অপটিক নার্ভ। দেশের সেরা হাসপাতালে ছয়বার অপারেশনের পরেও সুস্থ করা যায়নি ইনসাকে।

ইনসার খবর গোটা দেশে আলোড়ন ফেলেছি। প্রশ্ন উঠে, কাশ্মীরে সেনার কী পেলেট গান ব্যবহার করা উচিত?

 হাসপাতালে ইনসা

 

এত কিছুর মাঝেও দমেনি ইনসা। শুরু হয় নতুন লড়াই। শেষপর্যন্ত নিজের প্রচেষ্টাতেই দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষাও পাশ করল সে।

আপাতত ইনসার লক্ষ্য পড়াশোনাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তার সাফল্যে খুশি পরিবারের লোকজনও।

 ওই ঘটনা দমাতে পারেনি ইনসাকে

 

ইনসার বাবা মুস্তাক আহমেদ লোন বলেন, ‘মেয়ে এত ভালো রেজাল্ট করবে আমরা এতটা ভাবতেই পারিনি। এই রেজাল্টের পর ও আরো অনুপ্রাণিত হবে।’

ইনসাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫