Naya Diganta

দেশের অর্ধেক শৈত্য প্রবাহের আওতায় থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ২০:০২


কনকনে ঠাণ্ডা বয়ে যেতে পারে আগামীকাল কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া দেশের সর্বত্র।

কনকনে ঠাণ্ডা বয়ে যেতে পারে আগামীকাল কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া দেশের সর্বত্র।

শৈত্য প্রবাহের আওতায় থাকবে আগামীকাল দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা। একইসাথে থাকবে আট থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে ঠাণ্ডা বাতাস। ফলে কনকনে ঠাণ্ডা বয়ে যেতে পারে আগামীকাল কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া দেশের সর্বত্র। রাতের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে দিনের তাপমাত্রা রাতের চেয়ে বেশি নিচে নামবে না।

শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামের দিকে শীত জেকে বসেছে বেশ কয়েক দিন আগে থেকে। গ্রামাঞ্চলে দিনের সামান্য সময় সূর্যের তেজ থাকলেও বেশির ভাগ সময় কুয়াশার কারণে সেখানে বিকেল হতে কনকনে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করে এবং তা অব্যাহত থাকে সকাল পর্যন্ত। শীতটা বেশ বিলম্বিত বলে হঠাৎ ঠাণ্ডা পড়ায় গরম কাপড়ের কষ্টে আছেন গ্রামের এবং শহরের বস্তিবাসী দরিদ্র মানুষ। ইতোমধ্যে রাজধানীর ফুটপাতে অথবা রেল স্টেশনে অথবা বাসস্ট্যান্ডে রাত যাপনকারীদের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। যারা এসব স্থানে রাত যাপন করছেন এরা সত্যিই অসহায়। এদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করেই এদের রাত কাটে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার অঞ্চল অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশে-পাশের অঞ্চলে বিস্তৃতি ঘটেছে। এটা ঠাণ্ডা হাওয়া বনে আনে বাংলাদেশের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অঞ্চলে। মূলত: বছরের এ সময়টায় সব সময় দেশের একটি নির্দিষ্ট অংশ শৈত্য প্রবাহের আওতায় থাকে। উত্তরী ঠাণ্ডা বায়ু বাংলাদেশের ঊর্ধাকাশের কাছাকাছি বয়ে যায় এ সময়। এ সময় সার্বিক তাপমাত্রা নিচে নেমে যায়। তাপমাত্রা দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে একই সাথে নেমে গেলে এ অবস্থাকে শৈত্য প্রবাহ নামে অভিহিত করা হয়। সাধারণত: জেট স্ট্রিম (জেট বায়ু) সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি মাসের আধাআধি সময়ে জেট স্ট্রিম আরো নিচ দিয়ে বয়ে যায়। এটা কোনো কোনো সময় ১০ থেকে ২০ হাজার ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। তখনই দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদিনই ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অঞ্চলগুলো মৃদু শৈত্য প্রবাহের আওতায় থাকবে। এ সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নেচে নেমে যেতে পারে।

আজ বুধবার পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও নওগাঁ অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেছে। আগামীকাল এ অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা আরো কিছূটা হ্রাস পেতে পারে।

আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১২, টেকনাফে ১৪, রাঙ্গামাটিতে ৫ কুতুবদিয়ায় ৪, কক্সবাজারে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অবশ্য দেশের কোথাও বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলেও দেশের সর্বত্র হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা থাকলে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেতুলিয়ায় ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল হাতিয়ায় ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ও ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে সপ্তাহটি জুড়েই দেশের সর্বত্র কনকনে ঠাণ্ডা বিরাজ করতে পারে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫