Naya Diganta

বিএনপিতে উচ্ছ্বাস আ’লীগে কোন্দল

বরগুনা-১ আসন

গোলাম কিবরিয়া বরগুনা

০৩ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৬:৪৪


বিএনপিতে উচ্ছ্বাস আ’লীগে কোন্দল

বিএনপিতে উচ্ছ্বাস আ’লীগে কোন্দল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরগুনায় সরগরম হয়ে উঠেছে প্রধান দুই দলের রাজনীতি। মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকে। জাতীয় সংসদের আসন-১০৯ বরগুনা-১ (বরগুনা-আমতলী-তালতলী) আসন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মরিয়া বিএনপি। বর্তমানে এ আসনটিতে রয়েছে বিএনপির শক্ত অবস্থান। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লাকে পেয়ে আসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট দলের নেতাকর্মীরা।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের ডাক নিয়ে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক তরুণ নেতা। তাদের অভিযোগ, সারা দেশে উন্নয়ন হলেও স্থানীয় এমপির অবহেলার কারণে উন্নয়ন হয়নি বরগুনায়। তাদের আশা সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত তরুণ প্রার্থীকেই এবার মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ তথা সরকারের দমন-নিপীড়ন, গুম-খুন, মিছিল, সভা-সমাবেশে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট তাদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বরগুনা-১ আসনে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও একই সুরÑ দল এবার ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লাকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষেই কাজ করবেন তারা।

বরগুনার তিনটি আসন একত্র করে ২০০৮ সালে দু’টি আসন করা হয়। বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন।

বিএনপি : বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লা, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এমপি আলহাজ মো: মতিয়ার রহমান তালুকদার এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি লে. কর্নেল (অব:) আবদুল খালেক। তবে স্থানীয় নেতাদের দাবি দলের এ দুর্দিনে ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন, তাই তাকেই যাতে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়Ñ এটাই তাদের প্রত্যাশা।
জেলা যুবদলের সভাপতি তালিমুল ইসলাম পলাশ বলেন, আমরা এত দিন দলের কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে পাইনি, এবার পেয়ে উজ্জীবিত, তাই দল যদি ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লাকে মনোনয়ন দেয় তবে এ আসনটি পুনরুদ্ধারে আমরা সচেষ্ট থাকব।

এ দিকে ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লা নয়া দিগন্তকে বলেন, বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট আনার মতো কোনো প্রার্থী বিগত বছরগুলোতে ছিলেন না, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে দলীয় মনোনয়নে তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়া। তিনি আরো বলেন, আমি কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি নেতাকর্মীদের সামনে থেকে পালন করে আসছি। যত দিন জীবিত থাকব শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে যাবো। বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হয়ে বিএনপিকে আসনটি আবার উপহার দিতে পারব বলে আশাবাদী।

সাবেক সংসদ সদস্য মো: মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন, দুইবার সংসদ সদস্য ও একবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমতলী-তালতলী অঞ্চলের মানুষ ছিল অবহেলিত। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি এবং দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি, তাই আমার বিশ্বাস দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

আওয়ামী লীগ : বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাবেক আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমান শিহাব, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বরগুনা-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। বরগুনার জনগণকে একত্রিত করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত করেছি। আশা করি, আগামী নির্বাচনেও দল আমার ওপর আস্থা রাখবে।
এ দিকে সফল ব্যবসায়ী তরুণ নেতা মশিউর রহমান শিহাব বলেন, ১/১১ থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দলের সব নেতাকর্মীর সুখে-দুঃখে পাশে থেকে আসছি। ব্যক্তি উদ্যোগে এলাকার হতদরিদ্রদের আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। মসজিদ-মাদরাসা ও গরিব শিক্ষার্থীদের অনুদান দেই। ঈদ, কোরবানিতে অসহায়দের সহযোগী করে আসছি। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ নেতা হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এর আগেও মনোনয়ন চেয়েছি, এবারো চাইব। আশা করি দল বিবেচনায় নেবে।
জেলা যুবলীগ সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দল ও নৌকা প্রতীকের সম্মান অক্ষুণœ রাখতে পৌর নির্বাচনে গুলি খেয়েছি। নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম, আছি থাকব। বরগুনার উন্নয়ন এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবর্তন দরকার। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখতে পারব বলে আমি বিশ^াস করি।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫