Naya Diganta

৩০ বছরে প্রাণহানি ১.৭ লাখ মানুষের

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও হুন্ডুরাস

হামিদ সরকার

০২ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৪:৫১


বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি

বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, ঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বা ৫৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি গত ৩০ বছরে (১৯৮৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত) দুর্যোগে প্রাণহানি হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের। আর ক্ষতিতে আক্রান্ত হয়েছে দুই কোটি ৬২ লাখ মানুষ। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও দুর্যোগঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে বলে এক জরিপ থেকে জানা গেছে। এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাইকার ঋণ সহায়তায় মোট ৬২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকার আজ মঙ্গলবার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে এসব দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে ৯টি ঘূর্ণিঝড়ে চার লাখ ৭৩ হাজার ৬৬১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনো দুর্যোগ মোকালোর মতো শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি, যা স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম অন্তরায় বলে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ এলাকা নি¤œ ভূমি, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটার বা তারও কম। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ৭০ ভাগ ভূমি নিমজ্জিত হয়। ২০০৭ সালের সিডরে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রায় প্রতি বছরই সাইক্লোন আঘাত হানে, যা দেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এখন জাইকার অর্থায়নে এই দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পে জাইকা ৪৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে। এ ব্যাপারে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে জাইকার কথা হয়েছে। এ দিকে, বাস্তবায়ন পর্যায়ে ক্রস-সেক্টরাল কো-অপারেশনাল কাঠামোগত অপর্যাপ্ত এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসকরণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও গাইড লাইনের অভাব রয়েছে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য দুর্যোগের সময় কার্যকর জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শক্তিশালী করা। প্রকল্পের কাজের তালিকায় আরো আছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দুর্যোগপরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন করা। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত মিনিটস অব ডিসকাশন বা এমওডি অনুযায়ী জিওবি বরাদ্দ থেকে পরিচালনা, ট্যাক্স, সিডিভ্যাট ও নির্মাণকালীন সুদ খাতে ব্যয় নির্বাহ করা হবে। এসব কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নের সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড যুক্ত থাকবে। ৩৫টি উপকূলীয় উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকা যাবে পরামর্শক খাতে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা, ভারতে মুম্বাই ও কলকাতা, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের ব্যাংকক। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশঝুঁকি অ্যাটলাস-২০১৪ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন সর্বনি¤œ ঝুঁকিপূর্ণ শহর হলেও চরম ঝুঁকিপূর্ণ শহর হলো ঢাকা, মুম্বাই, ম্যানিলা, কলকাতা, ব্যাংকক।
জার্মানওয়াচ নামের এক জরীপে বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও হুন্ডুরাস। আক্রান্ত বাকি শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনাম, নিকারাগুয়া, হাইতি, ভারত, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিলিপিনস ও চীন।

এক পরিসংখ্যানে পাওয়া যায়, বিগত ২০০ বছরেরও বেশি সময়ে উপকূলীয় জনপদে কমপক্ষে ৭০টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে গত শতকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ৪০টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত করে। এমনকি ১৯৭০ পরবর্তী সময়ে এসব এলাকায় ১১টির বেশি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। যার প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, সম্পদ, আশ্রয়স্থল, গবাদিপশু এবং উপকূলীয় অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে সংঘটিত সাইক্লোন ‘সিডর’ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫