Naya Diganta

যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবন স্লো মোশন টাইম মেশিন

আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস

০১ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০৮:২৭


যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবন স্লো মোশন টাইম মেশিন

যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবন স্লো মোশন টাইম মেশিন

তেলবিহীন গাড়ি, পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির অটোমেটিক মেশিনসহ বিভিন্ন কৃষিজ যন্ত্রপাতির উদ্ভাবক বগুড়ার যন্ত্র বিজ্ঞানী আমির হোসেন এবার উদ্ভাবন করেছেন সূর্য সোলার উইন্ড থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন ও সূর্যের অভ্যন্তর থেকে আসা তাপরশ্মিকে ক্যাপচার করে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রযুক্তি ‘স্লো মোশান টাইম মেশিন’। এই তাপশক্তি পদার্থ বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে তিনি দাবি করেছেন। ৯ বছর গবেষণা করার পর এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে বলেও জানান তিনি।


আমির হোসেন দাবি করেন, এ যন্ত্রটি সূর্য থেকে তাপরশ্মি গ্রহণ করে মানুষের শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গ সচল রাখার জন্য স্নায়ুর ভেতরে নতুন রক্তের সেল তৈরি করে নির্জীব কোষগুলোকে সজীব রাখবে। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরাও এ যন্ত্র ব্যবহার করে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বৃদ্ধাবস্থায় কোষ মরে গেলে চিকিৎসা শাস্ত্রে মরা কোষ সজীব করার কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। মৃত্যুর আগে চিকিৎসকেরা শুধু অনুমানের ওপর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, যা তিনি (আমির হোসেন) তার মায়ের মৃত্যুর আগে অবলোকন করেছেন। চিকিৎসকের কথামতো তিনি জানতে পারেন, মানবদেহে সব সময় এক ধরনের তাপশক্তি প্রয়োজন। এই তাপশক্তি যখন নিষ্ক্রিয় হয় তখন কোনো ওষুধ কাজ করে না। সব স্নায়ু ভেতরে রক্ত চলাচলের সূক্ষ্মতম গতি অচল হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। দেহের প্রতিটি কোষের একটি নির্দিষ্ট আয়ু আছে। এই আয়ুষ্কাল পার হয়ে গেলে কোষ মরে যায় এবং নতুন কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। কোনো প্রাণকে আকস্মিকভাবে যদি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় পৌঁছে দেয়া হয় তাহলে ওই প্রাণের যাবতীয় কর্মকাণ্ড মুহূর্তে থেমে যাবে।

তখন আক্ষরিক অর্থে সে মৃত। হৃদযন্ত্র ও কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে আয়ু থেমে যাবে। এ ধরনের সদ্য তাপ নিষ্ক্রিয় জীবদেহকে তাৎক্ষণিক আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবন স্লো মোশান টাইম মেশিনে তাপরশ্মি নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা সিস্টেমে ঢুকিয়ে এবং উপযুক্ত পদ্ধতি আয়ত্তে থাকলে ওই জীবের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রাণচঞ্চলতা, অজ্ঞান অবস্থায় সাময়িক নিষ্ক্রিয় থেকে জাগিয়ে তোলার পদ্ধতি হচ্ছে, আকস্মিকভাবে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলা। এতে জীবটির জৈবিক ক্রিয়া আবার শুরু হবে।

সফলভাবে সম্পন্ন হলে মনে হবে একটা দারুণ লম্বা ঘুম দিয়ে উঠল। তিনি জানান, তাপরশ্মি চিকিৎসা পদ্ধতি থাকলে আমার আম্মাকে সুস্থ করা যেত। এর পর থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন কিভাবে মানব রক্ত কোষগুলোকে সজীব করে সুস্থ করে তুলে মানবজাতির সেবা করা যায়। দীর্ঘ ৯ বছরের গবেষণায় তিনি খুঁজে বের করেন চিকিৎসাশাস্ত্রের আড়ালেই চিকিৎসা পদ্ধতি আছে।

বিজ্ঞানী আমির জানান, পৃথিবীতে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে যারা ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে আলো ও অক্সিজেনবিহীন অঞ্চলে দিব্যি বেঁচে আছে। এরা ভূগর্ভের তাপরশ্মিকে কাজে লাগায়। জীব কোষের শরীরের ভেতরের জটিলতা বাইরের থেকে বেশি। বাইরের তাপমাত্রা যদি খুব কমে যায়, তাহলে জীবকোষ থেকে প্রচুর তাপ বাইরে বেরিয়ে যায়। প্রতিটি জীবের দেহে গড়ে উঠেছে দেহ ঘড়ি। জীবদেহের বিপাক দৈহিক তাপমাত্রা, হরমোন মাত্রা, ঘুম আচরণ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘড়ির মাধ্যমে জীব দেহের শরীর বৃত্তীয় কাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বৃদ্ধাবস্থায় এক ধরনের অসুস্থতার চিকিৎসা করে বৃদ্ধাবস্থা এড়ানো সম্ভব। সাধারণত অল্প বয়সে একটি কোষ বুড়িয়ে গেলেও শরীরে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বয়সের একটা পর্যায়ে গিয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দিনে দিনে এক বিশেষ প্রকারের কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে আর এতেই বৃদ্ধ বয়সের ছাপ পড়া শুরু হয় শরীরে। বেশি বয়সী মানুষের শরীরে প্রায় ১০ শতাংশ কোষই হচ্ছে এই বিশেষ কোষ। এই কোষের বৃদ্ধি রোধ করার মাধ্যমে শরীরে বৃদ্ধ অবস্থা এড়ানো সম্ভব। এতে মানুষ দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার সুযোগ খুঁজে পাবে। সূর্য রশ্মির মধ্যে এক ধরনের এনজাইম আছে, যা প্রয়োগ করলে কোষ মারা যাওয়ার প্রক্রিয়া থেমে যাবে।

আমির হোসেনের উদ্ভাবিত এই যন্ত্রের দ্বারা বিশেষ এনজাইম সূর্য থেকে ক্যাপচার করে চিকিৎসা করা সম্ভব। এই শক্তিটাই নতুন রক্তের কোষ গঠন করবে ও বিশেষ কোষের বৃদ্ধি রোধ করবে। তিনি জানান, এ মেশিনে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ রিজার্ভ থাকবে। যে ফ্যাক্টরিতে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লোড আছে ওই ফ্যাক্টরিতে সাত দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ রিজার্ভ ধরে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সূর্য মেঘে ঢাকা কিংবা কুয়াশায়াচ্ছন্ন থাকলেও এ জন্য ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হবে না।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫