Naya Diganta

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম দেখতে সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হবে : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৯


সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

আজ বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার (জিআইজেড) সাথে কমিশনের পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান একথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সরকারি ও বেসরকারি সব সংস্থায় নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি বিশেষ সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হবে। এই টিমের সদস্য কারা থাকবেন তা কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কেবল চেয়ারম্যান জানবেন এবং এই সার্ভিলেন্স টিম কমিশনের প্রধান নির্বাহীর নিকট প্রতিবেদন দিবেন।

এসব প্রতিবেদনে যেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার নাম থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দুদকসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ক্যুখ্যাতি রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

মতবিনিময় সভায় কমিশনের ছয়টি অনুবিভাগের মহাপরিচালকগণ ২০১৭ সালের কর্মকৌশল অনুসারে বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং ২০১৮ সালের সম্ভাব্য কর্মকৌশল তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মোঃ শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মোঃ জাফর ইকবাল, মোঃ মঈদুল ইসলাম, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জিআইজেড’র কনসালটেন্ট রিচার্ডস মাইলস, জেরি ওজবোর্ন, কৃষ্ণা চন্দ, মোঃ আলী রেজা প্রমুখ।

সভায় বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ২০১৭ সালে কিছু ইতিবাচক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, যেমন- সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট, হাজতখানা, হটলাইন ১০৬, গোয়েন্দা ইউনিট গঠন। কিন্তু অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনে কর্মকর্তাদের নৈপুন্য দক্ষতা এবং একাগ্রতার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সার্বিকভাবে আমাদের হতাশ করেছে। তিনি বলেন কমিশনের সকল কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা কাঙ্খিত মাত্রায় থাকলে কিভাবে দুদকের মামলার আসামিরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে, মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়? কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?

তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য গাড়ি, সশস্ত্র পুলিশ সবই রয়েছে কেবল উদ্যোগের অভাবেই আসামিরা ঘুরে বেড়ায়। এর দায়িত্ব কারা নেবে। অবশ্যই কর্মকর্তাদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর আরো উদ্দীপনা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন- সবাই মনে রাখবেন আগামী বছর হয়তো কমিশন এ জাতীয় শৈথিল্য প্রশয় দিবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে কমিশন। এক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সততা সংঘ, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যমসহ ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। কতিপয় শিক্ষক-কর্মকর্তার অনৈতিক কার্যক্রমের কাছে দেশের শিক্ষা জিম্মি থাকতে পারে না। তাদের কারণেই দেশ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। আমরা সম্মিলিতভাবে শিক্ষকদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চাই।

মানিলন্ডারিং মামলার দীর্ঘসূত্রিতার উদ্বেগ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) এর জটিলতার কারণেই অনেক আন্তঃদেশীয় মানিলন্ডারিং তদন্ত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এটর্নী জেনারেল অফিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে দুদকের নিয়মিত যোগযোগ রক্ষার জন্য মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান।

জিআইজেড এর কনসালটেন্টদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুদকের দুর্বলতা সনাক্ত করুন এবং তাহলে কমিশন উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, কর্মসম্পাদন চুক্তি হবে প্রতিটি অধ:স্তন কর্মকর্তার সাথে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি কর্মকর্তা একটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় আবদ্ধ হবেন। বছর শেষে যারা চুক্তি অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলেই কেবলমাত্র সেবার মানের পরিবর্তন হতে পারে। তা না হলে এসব চুক্তি কাগজেই থেকে যাবে। কর্মসম্পাদন চুক্তির নিয়ামক হতে পারে ইনোভেশন, বিজনেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং, সেবা প্রদানে টাইম ফ্রেম এবং সর্বোপরি সেবা গ্রহীতার সন্তুষ্টি।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫