Naya Diganta

পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভূক্ত হতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:৪৮


পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি বড় কোম্পানিকে তালিকাভূক্ত করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেছেন, এই বাজারে গভীরতা তথা স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভূক্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ করা উচিৎ।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজায় তিনদিনব্যাপি বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল অর্থসূচক এ মেলার আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ২০১০ সালে মার্কেটে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সঠিক নেতৃত্বের কারণে আজ মার্কেট স্থিতিশীল।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে কীভাবে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সুদের হার সবার চেয়ে বেশি। অন্যদিকে আমানতের সুদের হার কম। এ কারণে আমাদের এফডিআর কমে গেছে। তাহলে মানুষ করবে কী? মানুষ ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করছে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সবাইকে সর্তক থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দেশে অর্থনীতির বড় শক্তি ব্যাংক। ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সর্তক থাকতে হবে। এক সময় ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ব্যাপক ব্যবসা করেছে।

তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিভিন্ন সময় অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমরা এ হাহাকার, আর্তনাদ শুনিনা। সেজন্য মার্কেট সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একটি দেশের অর্থনীতি সৃষ্টিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হতে বাধ্য।

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চুপ করে বসে থাকতে পারে না।

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি অনিয়ম হয় সে ক্ষেত্রে চুপ করে বসে থাকতে পারে না বিএসইসি। যেখানে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএসইসি আইন প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের ফলে পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন সময় এসেছে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করার। বিনিয়োগ জ্ঞান অর্জন করে নিজেকে সমৃদ্ধ করার। কারণ নিজের জ্ঞান ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারলে বিনিয়োগে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগ নির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে না উঠলে তা কখনো স্থিতিশীল হবে না। তাই বিনিয়োগ নির্ভর পুঁজিবাজার গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। কেননা দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের জন্য আমাদের পুঁজিবাজার হতে পারে নির্ভরযোগ্য।

এসময় বিএসইসি কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়- তা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় বিনিয়োগ এখন দুরূহ ব্যাপার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. একে মোমেন বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে হলে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। কারণ আগামী ৫ বছরে পুঁজিবাজার কোথায় কোন অবস্থানে থাকবে তার পরিকল্পনা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে আগে যে শঙ্কা ছিল- তা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে। তার প্রধান কারণ হলো আমাদের সরকার আন্তারিকভাবে চান এই পুঁজিবাজারের উন্নতি হোক।

তিনি বলেন, এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাজারকে ঝুঁকিমুক্ত করার পাশাপাশি সচেতন বিনিয়োগকারী গড়ে তোলা। আর এজন্যই পুঁজিবাজারের ঝুঁকি যেন আগের তুলনায় কমে আসে সে লক্ষে আমরা সবাই কাজ করছি।

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫