Naya Diganta

ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ: পরিণামে কী ঘটতে পারে?

পার্সটুডে

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০৭


ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ: পরিণামে কী ঘটতে পারে?

ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ: পরিণামে কী ঘটতে পারে?

ফিলিস্তিনের পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এ বিক্ষোভ-প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে এবং আরব অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বে।

বিক্ষুব্ধ লোকজন বলছেন, ট্রাম্পের এ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করবে। মুসিলম বিশ্বের বহু দেশের গণমাধ্যম বলেছে, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির চরম লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন ব্যর্থ বলে গণ্য হবে।

জনসংখ্যার দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ পাকিস্তানও ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তুরস্ক মার্কিন পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে এ সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, দেশটি ওআইসি'র শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছে। মিশরও ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, আমেরিকার পদক্ষেপ বিপজ্জনক ও শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি টুইটার বার্তায় বলেছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে লেবানন প্রত্যাখ্যান করছে।

কাতার বলেছে, ট্রাম্পের এ ঘোষণা কথিত শান্তি আলোচনার জন্য মৃত্যুদণ্ডের শামিল। মার্কিন পদক্ষেপে মরক্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জর্দানও এ পদক্ষেপকে নাকচ করেছে। তারা বলেছে, এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে ট্রাম্প জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ মার্কিন ঘোষণাকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমেরিকার এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিনাশ করবে। ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের রাজধানী আংকারা ও ইস্তাম্বুলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।

নিঃসন্দেহে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। প্রথমতঃ শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বহু দিন ধরেই শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন।

এক কথায় বলা যায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না। দ্বিতীয়তঃ বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণার কবর রচিত হওয়া। কারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস।

তৃতীয়তঃ ট্রাম্পের ধারণার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী তৎপরতা আরও বাড়বে। ট্রাম্প ধারণা করছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রভাবশালী আরব দেশগুলোর সরকার তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব দেশের প্রতিবাদ বেশি দূর এগোবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে।

চতুর্থতঃ ফিলিস্তিন ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মতৈক্য তৈরি হবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকেও বিষয়টি অনুমান করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় কোনো কোনো মুসলিম দেশে ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

এসবের বাইরেও আরেকটি প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে তাহলো, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া কুদস ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান জোরদার হবে। এমনকি নতুন যুদ্ধের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গতরাতে গাজা ও পশ্চিমতীরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ শু্রু করেছে এবং মার্কিন পতাকায় আগুন দিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হবে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫