Naya Diganta

ইতিহাস বিকৃতকারীরা কি বিএনপির প্রভু?

মিনা ফারাহ

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:২২


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতকারী ও স্বাধীনতাবিরোধী কারা? যে মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখসমরে থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন করলেন, তার দল কেন ইতিহাস বিকৃতকারী হবে? নাকি যারা লুকিয়ে ছিল, এ তাদেরই দৈন্য! স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিলো, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের লেশমাত্র নেই। ভয়-গুজবের অদ্ভুত মঞ্চ তৈরি করেছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে বুদ্ধিজীবীদের বেশির ভাগই ‘দালাল’ হয়ে গেছেন। সাধারণ মানুষেরা পক্ষ-বিপক্ষের রক্তারক্তিতে মেতে উঠেছে। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি ইঞ্চিতে যে পচন ধরেছে, ৯ বছর আগে ছিল না।
আসলে স্বাধীনতাবিরোধীরাই ভোটের অধিকার চুরি করে বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে। এমনকি ২০৫০ পর্যন্ত অগ্রিম প্রোগ্রামও দেয়া হচ্ছে। ৯ বছরে এই অপশক্তি যেন জানালা-দরজাবিহীন অন্ধকার কুঠুরি, যেখানে আলোর চিহ্ন নেই। আর একেই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘রক্তকরবী’।

যে বিতর্কগুলো প্রাসঙ্গিক-
’৭৪-এ ১৯৫ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি দেয়ার দীর্ঘ ৪৩ বছর পর ইতিহাসবিদের মনে হলো, বিএনপিই ইতিহাস বিকৃতকারী। এ জন্য তাদের কিছুতেই আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না (হায় রে ইতিহাসবিদ)! ‘১৬ ডিসেম্বরে ওসমানীর বদলে অরোরার সই!’ গণহত্যার নায়ক ভুট্টোকে সাথে করে ১৯৭৪ সালে সাভারে শহীদদের বুকের ওপর হেঁটে যাওয়ার প্রমাণ স্বয়ং তোফায়েল আহমেদ। ভুট্টো-টিক্কাখানের মতো গণহত্যাকারীদের সাথে করমর্দনের ভূরি ভূরি ছবি ইন্টারনেট থেকে লুকানো যাবে কি? ৪৬ বছর পরও মুক্তির তালিকা করার বদলে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক জিইয়ে রেখে অন্যদের ওপর দায় চাপাচ্ছে ইতিহাস বিকৃতির। স্বাধীনতাবিরোধীরাই গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে পারে এবং পক্ষের শক্তি সেটা বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে। এটাই স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস হওয়া উচিত।

যে দলেরই হোক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কখনোই মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে হানাহানিতে মাতবে না। ঘোষকবাদের বিরুদ্ধে আমিত্ববাদকে চরমপর্যায়ে নেবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্যান্টনমেন্টে পাওয়া বাড়ি থেকে ৩০ বছর পর বীর উত্তমের স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে বের করাই শেষ নয়। সেক্টর কমান্ডারের পদক পর্যন্ত গার্বেজে দিয়ে, কবর নিয়ে টানাহেঁচড়া কোন শক্তির পক্ষে সম্ভব? কথিত রাজাকারদের সাথে সুবিধামতো নির্বাচন এবং প্রয়োজনমতো ফাঁসি... একমাত্র সুবিধাবাদীদের পক্ষেই সম্ভব।

সংসদে রাজাকারতনয় মন্ত্রী এবং বাইরে রাজাকার মুসা কাদের আত্মীয়? অথচ সব রাজাকারই নাকি ‘বিএনপির ভাগে’। আসলে সেই সময়ে শীর্ষস্থানীয়রা পালিয়ে গিয়েছিলেন বলেই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা নেই। রামপাল বন্ধের চিঠি দিলে ইউনেস্কো পাগল, পক্ষে দিলে বুদ্ধিজীবী... একটি দৃষ্টান্তই ‘স্বাধীনতা’ ব্যবসায়ীদের চরিত্র বোঝার জন্য যথেষ্ট। ট্রাইব্যুনালের দুর্নীতি ধরা পড়লে, স্বাধীন বিচার বিভাগের ডিফেন্সে হাইকমান্ড। আবার ১৬তম সংশোধনীর রায়ে যখন ক্ষমতা যায় যায়, শুধু তখন একই বিচারপতি পাগল, রাজাকার, দুর্নীতিবাজ, দুদকের পণ্য...।

১/১১-এর রিমান্ডে কাদের, সেলিম, জলিলসহ অনেকের ভিডিও জবানবন্দীতে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণের বিস্তারিত বয়ান এবং সে হিসেবেই দুদকের মামলা। অথচ ক্ষমতাবান শক্তির চোখে একমাত্র দুর্নীতিবাজ জিয়া পরিবার! লতিফ সিদ্দিকী ফাঁস না করা পর্যন্ত মাসে দুই লাখ ৬০ হাজার ডলার বেতনের ঘটনা কেউ কি জানতেন? এর পরই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মূলত লতিফের অভিযোগ স্বীকার করা হলো। বিচারপতিরা পক্ষে গেলেই ‘স্বাধীন’ কিন্তু না গেলে? তারেককে ‘নির্দোষ’ বলায়, দেশ ছেড়ে প্রাণে বাঁচলেন বিচারপতি। আর সিনহাকে যা করা হলো, স্বাধীনতার পক্ষ তা করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, সংবিধান সংশোধন করে সংসদ পবিত্র করা হলো; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অনুপস্থিত সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদ সংসদে থাকলেও অপবিত্র হয় না। আবার পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী থেকে বেছে বেছে রাখলে, ‘তেঁতুল হুজুর’ এবং বন্ধুরাষ্ট্র উভয়ই খুশি। কোন শক্তির পক্ষে এসব করা সম্ভব?
তাদের সব সমালোচনার শুরুই ’৭৫। বাকশাল নামের সরকারের পথে কেউ হাঁটে না। তখন জাসদ আর বাকশালীদের পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান বন্ধে ’৭৫-এর সরকারকে মানুষ কতটা গ্রহণ করেছিল, একমাত্র ইতিহাস বিকৃতকারীরাই অস্বীকার করবে। এমনকি ’৭৫-এর সরকারের বদান্যতাতেই বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হলো। সাড়ে তিন বছরের স্বেচ্ছাচারী রাজত্ব অস্বীকার- ইতিহাস বিকৃতির প্রমাণ।

কোষাগারের মাল্টিমিলিয়ন ডলার নষ্ট করে ’৭৫-এর হত্যাকারীদের খোঁজা হয়, কিন্তু দোষীদের সংসদে পাশে বসিয়ে খুনি খুঁজে পাওয়া যায় না! বলছি, ‘সংহতি দিবসে’ টকশোগুলোতে জাসদকে এবার যে গণধোলাই এবং মুজিব হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী করা হলো... এটাই ইনুদের ‘২০ পয়সা’র গোসসা। ওইদিন আবারো প্রমাণিত হলো, ক্ষমতালোভী জাসদ আর বাকশালীদের পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থানই হত্যাকাণ্ডের কারণ।
’৯৬ তে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়ার দাবিতে দেশজুড়ে আগুনসন্ত্রাস ও হত্যা। কিন্তু একই দাবি যখন খালেদার?

স্বাধীনতাবিরোধীরাই জোর করে ক্ষমতায় থাকে। স্বাধীনতাপ্রেমিকরাই খুনিদের ডিফেন্সে যেতে পারে না। ৭ মার্ডারে এমপি আর খুনির লম্বা কথোপকথনে যার কণ্ঠ, ‘নূর হোসেনকে পালিয়ে গৌরদার কাছে যেতে বলেননি অমুক?’ বিশ্বজিতের নৃশংস খুনি ছাত্রলীগের অভিভাবক কে? এই দৃষ্টান্ত ইতিহাস বিকৃতকারীদের সাক্ষ্য দেয়।
ভোলা যায় না তাজরীনের ১১২টি জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা। এর হোতা দেলোয়ার এখনো জামিনে। অজুহাত, সাক্ষীরা আসে না। সাক্ষীদের দাবি, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বহির্গমনের সিঁড়িবিহীন ভবনটি স্বচক্ষে দেখেছি। এ যেন মৃত্যুকূপ! সন্দেহাতীত প্রমাণ থাকলেও কী ‘সাক্ষীর অপেক্ষা’ গ্রহণযোগ্য? নাকি বিশেষ কারো চাপে খুনিদের ছেড়ে দিয়ে হামলা-মামলায় স্বাধীনতার প্রকৃত শক্তিকে ব্যস্ত রাখতে বাধ্য দুদক-আদালত। তারেক নাকি দেলোয়ার, অপরাধী কে?

চার বছর পর হঠাৎ বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুকে খুঁজছে দুদক। এত দিন কোথায় ছিলেন? এখন এমন কিছু করে দেখাতে হবে, যেজন্য মানুষ ভাববে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো ‘ভুয়া নয়’। এ ছাড়াও ১৫টি মামলা খারিজের বেলায় কেউ তাকে আদালতে হাজিরা দিতে দেখেছেন? তাহলে মামলাগুলো গেল কোথায়?
নদী-জমি দখলের রেকর্ড। তার পরও ক্যান্টনমেন্টের ওই বাড়িটাই একমাত্র দখল বলে সাব্যস্ত হয় কী করে? এ দিকে ৩২ নম্বরের মতো অতি মূল্যবান পাবলিকের রাস্তাটিকে লোহার মাস্তুল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষার্থে দুদক ও আদালত এখনো মামলা দিলো না। তিন মন্ত্রীসহ কয়েকজন কথিত দণ্ডপ্রাপ্ত আইনপ্রণেতা সংসদে; কিন্তু ধরপাকড় শুধু প্রতিপক্ষের বেলায়। লন্ডনে কার সাথে কথা বলল, এ নিয়েও ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা? যেন ৩২ লাখ মামলার জটে পড়া আদালতের খেয়েদেয়ে কাজ নেই। এই কাজ কি গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিকদের পক্ষে সম্ভব?
খালেদার দেশে ফেরার দিন যে গণজোয়ার, ধরে রাখেনি ২০ দল। রাস্তায় যখন নামবেই না, অন্তত উচিত জবাব দেয়া তাদের কর্তব্য। কারণ, অন্যায় করছে ক্ষমতাসীনেরা, ডিফেন্সে থাকবে ওরাই। ২০ দলের কাজ তাই অফেন্সে থাকা। এসব কারণেই ক্ষমতাবাজদের ঔদ্ধত্য চরমে।

এমনকি মুগাবের ৩৭ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ানরাও জেগে উঠেছে। ক্যাস্ট্রো আর মুগাবের পার্থক্য একটাই, দু’জনই জাতির পিতা। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে কখনোই মুগাবের মতো প্রতারণা করেননি ক্যাস্ট্রো। এখনো কিউবায় ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এমন এক সুবিধাভোগী দালাল শ্রেণীর সৃষ্টি হলো, যারা গণতন্ত্রের বদলে হয়তো বন্দুকের নলকেই পছন্দ করে।
স্বাধীনতার দাবিদারেরা শুধু বিএনপির ‘প্রভু’ই নয়, তার চেয়েও কঠিন ভূমিকায়। বউ না পেটালে অনেকের পেটের ভাত হজম হয় না এবং তাকেই উৎসাহ দেয় তার পরিবার। তারাই ৫ জানুয়ারি ঘটিয়ে সব দোষ চাপিয়েছে বিএনপির ওপর। আরেকটা ৫ জানুয়ারির প্রস্তুতি নিলে সর্বনাশ। একটি ফোনের অছিলায়, চার বছর পার। যেন খালেদার বাসায় ফোন নেই এবং তিনি নির্বাচনে গেলে ভোট চুরি হতো না। অথচ খালেদাবিহীন নির্বাচনেই যে ভোট চুরি হলো, গেলে না জানি কী হতো! অন্তত না গিয়ে কয়েক লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। ভোট চুরির ‘নির্বাচন’ ইউটিউবেই। সরকার প্রধান থেকে সরে দাঁড়ালে, লাখ লাখ প্রাণ ঝুঁকির মুখে পড়ত না। একমাত্র ইতিহাস বিকৃতকারী ক্ষমতালোভীরাই ছাড় দেবে না। কারণ ’৭৪ ও ২০১১, তাদের আপেল ওপরের দিকেই পড়ে।
আমার শহরে ভোটের বাক্স ছিনতাইয়ের যে ঘটনা, সেটাই বাংলাদেশের চিত্র। তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে অ্যালার্জি; কিন্তু গর্ব করে একদিন বলেছিলেন, ‘এই সাফল্য তার অর্জন।’ সাথে এটাও বলেছিলেন, ‘সংবিধান রক্ষার নির্বাচন এটা।’ তার পরও চার বছর ক্ষমতায়? পক্ষের শক্তিরা কখনোই এ কাজ করতে পারে না।

৯ বছরে বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্যাতনের গিনেসবুক রেকর্ড বাংলাদেশ। কী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন এত বছর ভারতে? কী করেননি বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আতিউরের খবর কী? অথচ একটাকেও ছোঁয়নি দুদক এবং আদালত। মুহিতের ভাষায়, পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাচ্চু বিশেষ ব্যক্তির আত্মীয়। অশ্র“সজল চোখে আতিউরকে হাইকমান্ডের বিদায়ের পরই ভরণপোষণের ব্যবস্থায় খায়রুল হকের কথা মনে পড়ল।
প্যারাডাইস পেপার্সে যাদের নাম, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে নিয়ে ব্রেকিং নিউজে মাতামাতি। সবাই সুষ্ঠু বিচার চায়। কিন্তু এরাই পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির কাজী জাফরউল্লা এবং স্ত্রী নিলুফারের বিষয়ে চুপ। ভদ্রলোক প্রেসিডিয়াম সদস্য জাফরউল্লা এবং স্ত্রী এমপি বলে উল্লেখিত উইকিলিক্সে। ভার্জিন আইল্যান্ডে অফশোর অ্যাকাউন্ট খুলে মানিলন্ডারিংয়ের তালিকায় সামিট গ্র“পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান ও স্ত্রী আনজুমান। প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দিয়ে এসব কী চলছে? নাকি খালেদাকে বিদায় দেয়ার কৌশল?
এবার ট্রাস্টের বিষয়। সংস্থাগুলোর বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় হয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাজে, যা আইনসম্মত। মাত্র ১০-১৫ ভাগ ব্যয় জনকল্যাণে। রেডক্রস, জাতিসঙ্ঘ... সবাই তাই।

হিলারির ফাউন্ডেশনে চাঁদার বিষয়টি উত্তপ্ত রেখেছিল মার্কিন নির্বাচন। এমনকি ইউনূসের চাঁদা নিয়েও আমাদের সংসদে বকওয়াজ মহিলাদের গলাবাজি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে হিলারি যাদেরকে চাঁদার বিনিময়ে সুবিধা দিলেন, রাশিয়াকে ইউরেনিয়াম বিক্রির তদন্ত করছে কংগ্রেস। হিলারির চাঁদাদাতাদের নাম প্রকাশিত; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া ফাউন্ডেশনে কারা কোটি কোটি দিচ্ছেন এবং নিচ্ছেন, কখনোই কি তালিকা বা বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে? এমনকি সংসদে রওশন এরশাদ ত্রাণতহবিলে রানাপ্লাজার ১০৮ কোটি টাকার হদিস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

শুধু জিয়া অরফানেজ নয়, হিলারি ফাউন্ডেশনের মতো রাজনৈতিক বিশেষ ফাউন্ডেশনেরও ইতিবৃত্ত জানার অধিকার পাবলিকের। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির নায়ক চাঁদাদাতা আবার বিশেষ উপদেষ্টাও। ঠিক সে রকমই ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সব সংগঠন, যারাই ত্রাণতহবিলে মুক্তহস্তে দান করেন, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের সাথে জড়িত। বহু বাংলাদেশী বিলিয়নিয়ার, যাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও ভূমি দখলসহ ভূরি ভূরি করাপশনের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগী-ধামাধরা। এদেরই আত্মীয়স্বজন সংসদেও। এরাই দুদকের ভয়ে ১/১১-এর সময়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ অপরাধ শুধুই অরফানেজ ট্রাস্টের।

আইনের চোখে কালো কাপড়। ট্রাস্টের রায় হবে নিরপেক্ষ। একেও ‘সিনহা’ বানানোর হাত থেকে বাঁচাতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের এখনই অফেন্সে থাকার সব প্রস্তুতি নেয়া জরুরি।
এম কে আনোয়ারের মতো অসংখ্য নেতাকর্মীর আয়ু কমিয়ে দিলো স্বাধীনতার কথিত সপক্ষশক্তি। বছরের পর বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে, নারকীয় জীবন উপহার। পৃথিবীর আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই একই বালতিতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মিশ্রণ নেই। সাড়ে তিন বছরে জাসদ আর বাকশালীরা মিলে যত অপকর্ম, শুদ্ধ হওয়ার বদলে একমাত্র গণতন্ত্রবিরোধীরাই পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

মুক্তিযুদ্ধে কে পালিয়েছিল, কে সম্মুখসমরে- ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ শেষ। উন্নতির নামে লি কুয়ান কিংবা মুগাবে, আর কোনো সুযোগই দেয়া উচিত হবে না। এসব লেখার অর্থ, বিশেষ ইশারায় আদালতে প্রায় প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দিতে যাকে বাধ্য করা হচ্ছে, বয়স ও মানসিক চাপ দুটোই তার বিরুদ্ধে। পুত্রের অকালমৃত্যু সামাল দেয়ার বয়স এটা নয়। তার পরও মিথ্যা মামলা-হামলা দিয়ে কথিত নারী স্বাধীনতাবাদীরা একজন সেক্টর কমান্ডারের বয়স্ক পুত্রহারা, বিধবা স্ত্রীর প্রতি অবিচারের ভূমিকায়।

যেন অবর্তমানে দলটিকে টুকরা টুকরো করতে পারে, সেজন্য হামলা-মামলা দিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করা হচ্ছে। বিশেষ আদালতে নিয়ে সব রকম চাপে রেখে বয়সজনিত রোগের উপদ্রব বাড়িয়ে দেয়া। ‘বিচারের আগেই রায় দেয়া’ যাদের অভ্যাস, এবারো ব্যতিক্রম নয় (দ্র: ২৩ নভেম্বর, বাংলাদেশ প্রতিদিন)।
কোকো, সিনহা, এম কে আনোয়ার, সালাহউদ্দিনরা রোহিঙ্গা হয়ে খালেদার ভাগ্য জানিয়ে দিলেন। জেলে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হলে, তার দায় কি হাইকমান্ড নেবেন!
সারমর্ম : ইতিহাস বিকৃতকারীরা যেন আর কখনোই ক্ষমতায় না যেতে পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫