Naya Diganta

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৮:২৩


ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। এ সমস্যার সমাধানে মানুষের যাতায়াতের সমস্যার সমাধানের চেয়ে যানবাহনের জট কমানোর বিষয়টি সবসময় প্রাধান্য দিয়ে পরিবহন পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে যানের জট কমাতে বিগত কয়েক বছরে ফ্লাইওভার, ওভারপাসসহ বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রাইভেট গাড়িবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গণপরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি না করে প্রাইভেট গাড়িবান্ধব অবকাঠামো ও বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যানজট আরো প্রকট হচ্ছে। সুতরাং মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবে যানের জট কেবল কমানো নয় মানুষের যাতায়াত কিভাবে নির্বিঘ্ন হবে সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আজ পবা কার্যালয়ে ‘যাতায়াতে জনদূর্ভোগ চরমে, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়বহুল প্রকল্প : গণপরিবহনে নৈরাজ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো: তৈয়ব আলী, পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, পবার সমন্বয়কারী আতিক মোরশেদ, পবার সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মো: আতিকুর রহমান, সুজনের সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী, পবার সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, এম এ কাশেম মাসুদ, ইয়ুথ সান-এর সভাপতি মাকিবুল হাসান বাপ্পী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাজধানীতে গণমানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো, রিক্সা চলাচল, বাস, স্কুটারসহ গণপরিবহন মাধ্যমগুলোর সুযোগ সুবিধা সংকুচিত করা হয়েছে। এ নগরের পরিকল্পনাকারী সংস্থা ও ব্যক্তিদের চিন্তায় বিষয়টি স্থান পায় না। হাঁটার কথা এলে বিষয়টি হকারদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। অথচ ঢাকা শহরের মাত্র ৫/৬টি এলাকায় হকার ফুটপাত দখল করে আছে। অধিকাংশ রাস্তাই ফুটপাত চলাচলে উপযুক্ত নয়। অবাক হলেও সত্য, এ নগরে একটিও নিরাপদ পথচারী পারাপার নেই। বর্তমানে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এ অবস্থা হতে উত্তরণে সরকারের দ্রুত দুটি নীতি গ্রহণ করা জরুরি। প্রথম নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম এবং দ্বিতীয় পরিবহন বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম।
তারা বলেন, প্রথম নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনের বেলায় প্রাইভেট গাড়ির গ্যাস সরবরাহ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিসহ একই পরিবারে একাধিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয় বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম হিসেবে প্রথমেই ঢাকার মানুষের যাতায়াতের সময়সূচি, মাধ্যম এবং গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহণ করতে হবে। মানুষের পায়ে হেঁটে যাওয়ার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। গলির রাস্তায় রিকশা ও সাইকেল চলাচলের রাস্তাগুলোর সংস্কার এবং রিকশার নেটওয়ার্ক উন্নত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পৃথক লেনে বাস চালু করার পাশাপাশি ঢাকার আশে পাশের এলাকা সাথে রেল যোগযোগ স্থাপন এবং ঢাকার চারপাশে রেল যোগযোগ স্থাপন করতে হবে। ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে করণীয় : নগর ও পরিবহণ পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় করে যানবাহন নয়, মানুষের যাতায়াতকেন্দ্রিক পরিবহণ নীতিমালা প্রণয়ন করা। শহরের অভ্যন্তরে যাতায়াত কমাতে মিশ্র এলাকা গড়ে তোলায় প্রণোদানা-উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫