Naya Diganta

জমে উঠেছে রোবট রেস্টুরেন্ট

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

২১ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৬:৪৮


রোবট বয়ের কাছ থেকে খাবার নিচ্ছেন কাস্টমাররা

রোবট বয়ের কাছ থেকে খাবার নিচ্ছেন কাস্টমাররা

চালু হতেই সাড়া ফেলে দিয়েছে দেশে প্রথম ব্যতিক্রমী আপ্যায়নকেন্দ্র রোবট রেস্টুরেন্ট। গত বৃহস্পতিবার চালু হওয়া এ রেস্টুরেন্ট দ্বিতীয় দিনেই রেকর্ড গড়েছে। অর্থাৎ শুক্রবার একদিনেই তারা এক হাজারের বেশি গ্রাহককে আপ্যায়িত করতে সক্ষম হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল সাত শতাধিক। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রাহকেরা ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গ্রাহকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেস্টুরেন্ট পরিচালকদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, এ রেস্টুরেন্টটির বিশেষত্ব হচ্ছে দু’টি রোবট। অন্য ওয়েটারদের পাশাপাশি তারাও গ্রাহকদের আপ্যায়ন করছে। অর্ডার নেয়া এবং খাবার সঠিকমতো সরবরাহ করতে পারবে এরা মানুষের চেয়েও দ্রুত গতিতে। মূলত রোবটের হাত থেকে খাবার নিতেই নারী ও শিশুদের আগ্রহ বেশি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোবট দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখে অনেক শিশুই মা-বাবার কাছে রোবটের হাতে খাবার খাওয়ার বায়না ধরছে। এতেই উপচেপড়া ভিড়।

আসাদগেট প্রধান সড়কের ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জুড়ে এ রেস্টুরেন্টের অবস্থান। একসাথে এতে ১২০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। রোবট প্রস্তুতকারী সংস্থা এইচজেডএক্স ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানি এটি দেশে এনেছে।

এ দিকে গতকাল সন্ধ্যায় রোবট রেস্টুরেন্টটির কনসালটেন্ট গিয়াসউদ্দিন মজুমদার নয়া দিগন্তকে জানান, গ্রাহকদের সাড়াতে আমরা অভিভূত। রীতিমতো সিরিয়াল দিয়ে কাস্টমারদের এ রেস্টুরেন্টটিতে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তিনি জানান, একই ভবনে আরো কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থাকলেও সব ভিড় এখন এ রোবট রেস্টুরেন্টে। প্রাথমিক অবস্থায় আগামী এক মাসের জন্য শিশুদের ‘কিডমিল’ এবং দেশীয় খাবারের সেট মেন্যু পরিবেশন করা হবে। যার মূল্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলে জানান তিনি। এ ছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে এসব রোবট বাংলায় কথা বলতে পারবে। তবে তারা একটিকে বাংলায়, অন্যটিকে ইংরেজিতে কথা বলার ব্যবস্থা করবেন।

চায়না থেকে আনা রোবট দু’টির একটি পুরুষ, অপরটি মহিলা। এরা দৈনিক ৮-১০ জনের কাজ করবে। তবে কাস্টমারের কথা বা ইশারা এরা বুঝবে না। শুধু গ্রাহক যেখানে বসে থাকবে সেখানে ওয়ার্ডার মতো সার্ভিস দিতে পারবে। এদের চলাফেরা শুধু কাউন্টার থেকে টেবিলে যাওয়া-আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে চলার পথে কারো সাথে ধাক্কা লাগলে সরি বলে নিজেরা সরে যাবে। খাবার পরিবেশন শেষে তারা গ্রাহকদের ধন্যবাদ দেবে।

গুণগত মান নিশ্চিতেই এমন রোবট বয়
উদ্যোক্তরা জানান, একজন ওয়েটারের পক্ষে সব সময় খাবারের গুণগতমান নিশ্চিত করা ও জীবাণুমুক্ত থাকা সম্ভব হয় না। একজন মানুষের পক্ষ থেকে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই রোবট দিয়ে এসব কাজ করানোর আয়োজন করা হয়েছে।

এমন উদ্যোগের নেপথ্যে
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানান হয়, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আনোয়ারুন নবী মজুমদারের দুই সন্তান তাসিন রওনাক নবী ও রাহিন রাইয়ান নবী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অধ্যয়নরত অবস্থায় চীন সফরে যান। সেখানে গিয়ে তারা চীনের রোবট দ্বারা খাবার সরবরাহ পদ্ধতি দেখে আকৃষ্ট হন। তারা তখন সংশ্লিষ্ট রোবট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স সোয়ার্জের সাথে যোগাযোগ করেন এবং বাংলাদেশে রোবট রেস্টুরেন্টের চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরে এটি বাংলাদেশে চালু করা হয়।

রেস্টুরেন্টের কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজার তানভিরুল হক জানান, বাংলাদেশে এটিই এ ধরনের প্রথম রেস্টুরেন্ট যেখানে রোবটের মাধ্যমে কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে এ রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করবে। শিশুদের বিনোদন ও খাবারের বিষয়টি চিন্তা করেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

রেস্টুরেন্টটির পরিচালক রাহিন রাইয়ান নবী বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যে, ওয়েটারেরা কয়েক ঘণ্টা কাজ করার পরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই ক্লান্ত অবস্থায়ই তারা কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য হন, কিন্তু রোবট কখনোই ক্লান্ত হবে না।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫