Naya Diganta

সরকারি অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি প্রসঙ্গ

আবদুর রহমান

১৫ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:৩৭


দেশের অফিস-আদালত ও কর্মক্ষেত্রে দুই ধরনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রচলিত আছে। সরকারি-আধা সরকারি অফিস ও ব্যাংক-বীমা, সিটি করপোরেশন ইত্যাদি অফিসগুলোতে সপ্তাহে দুই দিন এবং বেসরকারি কার্যালয়, স্কুল-কলেজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় সপ্তাহে এক দিন ছুটি চালু রয়েছে।

গত বছর জুলাই থেকে সরকারি-আধা সরকারি ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। জনগণ আশা করেছিল, এবার ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্বিগুণ উৎসাহে দাফতরিক কাজকর্ম করবে; কিন্তু ঘটছে এর উল্টো। ঘুষ-দুর্নীতির পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অবসরে গেলে অনেক টাকা একাকালীন পাওয়া যাবে, এ কথা চিন্তা করে তাদের অনেকের মধ্যে গা ছাড়া ভাব। সরকারি-আধা সরকারি এবং সরকারি ব্যাংক বেতনভাতা বৃদ্ধি করা ছাড়া সুযোগ-সুবিধার অন্ত নেই। যেমন- জমি বা ফ্ল্যাট, বাড়িগাড়ি, মোটরসাইকেল কেনার জন্য নামমাত্র সুদে ঋণ, বিদেশ ভ্রমণ, বছরে দুই থেকে চার-পাঁচটি বোনাস, বৈশাখী ভাতা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি বেশুমার সুযোগ-সুবিধা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় চাকরিরত লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী হাড়ভাঙা খাটুুন খেটেও ওই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। যদি সাপ্তাহিক ছুটি আবার এক দিন করা হয়, তাহলে যে হাজার হাজার মামলা দীর্ঘ দিন অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে, তার অনেকটাই কমে আসবে এবং অগণিত বিচারপ্রার্থী উপকৃত হবেন।

যত দূর মনে পড়ে, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করার পেছনে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণও দেখানো হয়েছিল; কিন্তু এ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সে দিক বিবেচনা করলে দুই দিন ছুটি রাখার কারণ নেই। একশ্রেণীর ভাগ্যবান সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কম কাজ করে বেশি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অপর দিকে দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেক বেশি কাজ করেও তাদের সমান সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। একটি উন্নয়নশীল এবং কল্যাণ রাষ্ট্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কাঙ্ক্ষিত নয়।

সপ্তাহে দুই দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা দৈনিক লেনদেনের অর্থ ব্যাংকে জমা দিতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া দুই দিন ছুটি থাকার কারণে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে বসবাস করেন না, তারা প্রায় সবাই বৃহস্পতিবার ১২টার মধ্যে কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান এবং রোববার বেলা ১১ থেকে ১২টার আগে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন না। এতে করে প্রতি সপ্তাহে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুই দিনে অন্তত ১০ থেকে ১১ কর্মঘণ্টা কাজ থেকে অফিস বঞ্চিত হচ্ছে। সে হিসাবে সপ্তাহে কত হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে তা হিসাবের দাবি রাখে।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সব সরকারি-আধা সরকারি, অফিস, ব্যাংক-বীমা ও আদালত দুই দিনের পরিবর্তে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটি চালু করাই সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষয়টি ভেবে দেখবেন কি? 

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫