Naya Diganta

অতিরিক্ত সেলফোন ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আনিসুর রহমান এরশাদ

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৭:১৯


অতিরিক্ত সেলফোন ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত ফোনালাপ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, মস্তিষ্কে এর প্রভাব পড়ে, মস্তিষ্ক উত্তপ্ত হয়, বাড়ায় নিদ্রাহীনতা। স্মার্টফোন স্ক্রিন থেকে নির্গত কৃত্রিম নীল আলো ঘুমের চক্র নষ্ট করে দিচ্ছে এবং স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

যারা রাত জেগে একটানা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার করেন বা মোবাইল ফোনে কথা বলেন তাদের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিদ্রাহীনতার জন্য রাতের বেলা স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দায়ী। রাতের বেলা অতিরিক্ত সময় সেলফোন ব্যবহারে চোখের সমস্যা হতে পারে, রেটিনার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। শরীরে মেলাটোনিনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরে সহজেই রোগ বাসা বাধতে পারে।

সেলফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টি দেখা দিতে পারে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দু’’কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চশব্দে গান শুনায় এবং মোবাইল ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলার কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস করছে, কানের মধ্যে ব্যথা হচ্ছে, কানের অন্তঃপর্দা ও অন্তকর্ণের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 গর্ভবতীদের সেলফোন নিজের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত। তা না হলে গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, মানসিক বিকলাঙ্গ হয়েও জন্ম নিতে পারে শিশু। সেলফোনে আসক্ত ব্যক্তিদের ব্রেইন ক্যান্সারও হতে পারে। প্যান্টের পকেটে সেলফোন রাখলে ছেলেদের প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মোবাইল থেকে নির্গত রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন গুণগতমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ বা বার্তা টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেলফোন বুকের কাছে সেল ফোন রাখলে হৃদপিন্ড, যকৃত ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। টয়লেট সিটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে সেলফোনে। সেলফোন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এটি জীবাণুর অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। ৩০ মিনিটের বেশি সেলফোনে কথা বললে মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতা কমে যায়, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।

 সেলফোন থেকে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তা মানুষের হার্টের স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যহত করে। এর ফলে রক্তের লোহিত রক্তকণিকাতে থাকা হিমোগ্লোবিন আলাদা হয়ে যেতে থাকে। এছাড়া হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকার মাঝে তৈরি না হয়ে দেহের অন্যত্র তৈরি হতে থাকে। যারা হার্টে পেসমেকার বসিয়েছেন তাদের সেলফোন ব্যবহার ক্ষতি করে।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫