Naya Diganta

আসুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক জীবিত সেনানির সাথে পরিচিত হই

এম আহমদ আলী

২২ আগস্ট ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:১৭


শাহ নূর মোহাম্মদ

শাহ নূর মোহাম্মদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জীবিত এক শতায়ু বীর সেনানি শাহ নূর মোহাম্মদ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। জন্ম পয়লা জানুয়ারি ১৯২০। তিনি ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ রয়েল সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৩ সালে পাঞ্জাবে ট্রেনিং একাডেমিতে ইনস্ট্রাকটর ও হাবিলদার, পরে অনারারি ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ইতালিতে ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। পরাজিত হয়ে জার্মানরা আত্মসমর্পণ করে। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।

যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশ সরকার তাকে আমেরিকা ও ব্রিটেনে যাওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মায়ের অসুস্থতায় দেশে ফিরে আসেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্মাননা সনদ প্রদান করে বিদায়ী অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের জন্য পাঠায়। তিনি সড়কপথে মিসর থেকে ইরাক পর্যন্ত যান। ইরাকের মোসুলে হজরত ইউনূছ আ: ও বাগদাদে হজরত আব্দুল কাদির জিলানী রহ:-এর রওজা জেয়ারত করেন। পরে ফিলিস্তিনে মসজিদে আল আকসায় নামাজ আদায় করেছেন। সেখান থেকে মিসরে পিরামিডের ভেতরে ঢুকে প্রাচীন মূর্তি দেখেন।

হজরত ইউসুফ আ:কে ফেলে দেয়ার প্রাচীন কূপে, দু’দিন চেষ্টার পর নেমে দেখে আসেন। মুম্বাই থেকে জাহাজে করে ইরাকের বসরায় যান। জাহাজের নাম ‘আল মদীনা’। মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সওদাগর আব্দুল বারী চৌধুরী। স্মৃতিচারণ করে বলেন, ইতালির ট্রান্ট, বারি, বারলেতা, রোম, নেপেলে মিলান, তুরিন শহরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি অন্যান্য ট্রেনিংসহ গ্যাস ছাড়ার ট্রেনিং গ্রহণ করেছিলেন। অবসর নিয়ে তিনি আসামে সরকারি ট্রান্সপোর্টে সহকারী স্টোরকিপার হিসেবে যোগদান করেন।

দেশ স্বাধীন হলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি সিলেট জেলা স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে সেটেলমেন্ট বিভাগে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে যোগ দেন। এর পরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেস সার্ভার হিসেবে যোগ দেন এবং তাকে বিশ^নাথে সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়। শাহ নূর মোহাম্মদ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে ৩৯৪৫ স্টার, ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল লাভ করে ছিলেন। ব্রিটিশ আর্মির বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। সহযোগিতার জন্য সশস্ত্রবাহিনী বোর্ড সিলেটের সাবেক সচিব মেজর মোশারফ হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। গত ৮ আগস্ট তাকে দেখতে বাড়িতে যান দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেদ মোস্তফা। তিনি এই বীর সৈনিককে কিছু উপহার দিয়ে সম্মান জানান। নূর মোহাম্মদের অবসর সময় কাটে আল্লাহর ইবাদত ও বই-পত্রিকা পড়ে। কুরআন তিলাওয়াত এবং ইতিহাসের বিভিন্ন বই তিনি নিয়মিত পাঠ করেন।

শতায়ু এই সৈনিক এখনো হাঁটাচলা করতে পারেন এবং চোখে ভালো দেখেন। তার স্ত্রী, চার ছেলে ও চার কন্যাসন্তান। তারা শিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তিনি মৃত্যুর আগে সুখী সমৃদ্ধ এবং দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে চান। ঈমান নিয়ে মৃত্যুর জন্য দোয়া চাইলেন সবার কাছে।

লেখক : সাংবাদিক

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫