Naya Diganta

প্রধান প্রধান সামাজিক সমস্যা সরকার ও এনজিওদের নজর দেয়া জরুরি

শাহ্ আব্দুল হান্নান

২০ এপ্রিল ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৩


শাহ্ আব্দুল হান্নান

শাহ্ আব্দুল হান্নান

বাংলাদেশের অনেক সামাজিক সমস্যা বেশ গভীর হয়ে গেছে। যেকোনো দেশের জন্য সামাজিক সমস্যাকে অর্থনৈতিক সমস্যার মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে হবে। এখানে প্রধান কয়েকটি সামাজিক সমস্যার কথা উল্লেখ করছি, যেগুলো সমাধানের জন্য সরকার এবং এনজিওগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রথমে বাংলাদেশে সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারের কথা উল্লেখ করছি। এদের সংখ্যা অনেক। তারা সবখানে এ সুদের ব্যবসা করছে। সবাই জানি, সুদকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন। তবুও এরা অনেক কুযুক্তি দিয়ে সুদকে বৈধ প্রমাণ করতে চায়। এদের সুদের হার প্রতি হাজার টাকায় প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা, অর্থাৎ সুদের হার বছরে ১২০ থেকে ২৪০ শতাংশ। এ সংক্রান্ত আইনগুলো দেখা দরকার, আরো কঠোর করা দরকার। এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণসুবিধা বৃদ্ধি করা দরকার, ইসলামি ব্যাংকগুলোর করজে হাসানা সুবিধাও বৃদ্ধি করা দরকার।
এরপর আমি রাস্তার ছিন্নমূল শিশু এবং একেবারে একা থাকা রাস্তার মহিলাদের সমস্যার কথা উল্লেখ করব। যদি বৃহৎ এনজিওগুলো একত্র হয় এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে, একই সাথে সব শহরের মেয়র বা পৌর চেয়ারম্যান যদি চেষ্টা করেন, তাহলে সব শহরেই এ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়, মহিলা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এসব ব্যবস্থা নিতে পারেন। উদ্যোগটি পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় নিতে পারে।
এরপর পারিবারিক নির্যাতনের (domestic violence) কথা উল্লেখ করব। বেশির ভাগ নারী আমাকে বলেন, তাদের স্বামীরা মারধর করেন। এসব ঘৃণ্য কাজ। এ ব্যাপারে আইন আরো কঠোর করা দরকার। আলেমদের উচিত এ বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে ‘দারাবা’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যা করেন অনেকেই। আজকাল অনেক পণ্ডিত বলেছেন, ‘দারাবা’ শব্দের ১৭টি অর্থ আছে, যার মধ্যে ‘প্রহার’ একটি। ‘দারাবা’ শব্দের প্রধান অর্থ হলো- সরে যাওয়া, দূরে চলে যাওয়া। যেমন একবার রাসূলুল্লাহ সা: স্ত্রীদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে এক মাস দূরে ছিলেন। যারা ‘দারাবা’ শব্দের অর্থ হিসেবে ‘প্রহারকে’ প্রাধান্য দেন, তারাও বলেন, ‘মেসওয়াক (tooth brush) দ্বারা মারা যায়, যদি অনৈতিক আচরণকারী স্ত্রী সংশোধন না হয় বোঝানোর পর’ বা ‘বিছানা আলাদা’ করার পরও। এটি সারা বিশ্বেই সমস্যা। পাশ্চাত্যে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে স্ত্রীদের নির্যাতন করে স্বামীরা। কিন্তু আমাদের দেশে এ কারণ নেই। (দ্রষ্টব্য Chasting women রচনা ড. আবদুল হামিদ আবু সুলেমান), এ বইটির বাংলা অনুবাদ BIIT প্রকাশ করেছে।
এরপর আমি কর্মজীবী নারীদের থাকার সমস্যার কথা বলব। এ জন্য সরকার এবং এনজিওগুলোর উদ্যোগে ঢাকায় ও অন্যান্য প্রধান শহরে ‘মহিলা হোস্টেল’ করা দরকার। এখন ঢাকা শহরে ৩০টি মহিলা হোস্টেল দরকার। অন্যান্য শহরেও দরকার।
‘যৌতুকের’ সমস্যার কথাও উল্লেখ করতে পারি। ইসলাম ‘যৌতুক’ শব্দ ব্যবহার করেনি। কুরআনে ‘সাদকাহ’ ও ‘আজর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সাদকাহ শব্দের অর্থ দান বা উপহার, আজর অর্থ পুরস্কার, দান। যেমন আল্লাহ বলেছেন, তিনি সব মুমিন পুরুষ ও নারীকে আজর বা পুরস্কার দেবেন (সূরা আহজাব, আয়াত-৩৫)। বাংলাদেশে বর্তমানে এ সম্পর্কে আইন আছে। তবে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। আইনে এটা থাকা দরকার যে, কোনো অবস্থাতেই বর বা বরের পরিবারকে উপহার হিসেবে ১০ হাজার টাকার বেশি কিছু দেয়া যাবে না। ছেলেপক্ষ উপহারকে যৌতুক গ্রহণের রাস্তা বানিয়েছে। ‘কন্যার’ অধিকার মোহর বা সাদকাহ বা আজর পাওয়ার, এটি ফরজ। ড. হাম্মুদাহ আব্দুল আতি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ছেলেপক্ষের এই নিশ্চয়তা দান করা যে, তারা কন্যা বা পাত্রীর ভরণপোষণে সক্ষম এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। (The family structure in Islam)
নারী নির্যাতনের আরো কিছু বিষয় আছে, তা উল্লেখ করছি। অনেক নারী গুম হয়ে যায় তাদের পতিতালয়ে নেয়ার জন্য। পতিতার কাজ কোনো বৃত্তি বা পেশা নয়। এদের ংবী ড়িৎশবৎ বলে অপমানিত করা উচিত হচ্ছে না। দেশে বর্তমানে মাত্র কয়েকটি পতিতালয় আছে। অথচ পতিতালয় আমাদের সংবিধান মোতাবেক বন্ধ করার কথা। এখন যারা এতে বাধ্য হয়ে জড়িত রয়েছে, তাদের পুনর্বাসন করা খুবই সম্ভব এবং একই সাথে যে ক’টি পতিতালয় দেশে রয়েছে তা বন্ধ করা দরকার। সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
নারী নির্যাতনের আরেক পদ্ধতি হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘র‌্যাগিং’-এর নামে ছাত্রীদের ওপর অশালীন নির্যাতন করা। এ ব্যাপারটি কঠোরভাবে বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মহিলা গৃহকর্মীও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিত হয় বা অধিকার পায় না। এ ব্যাপারে আইন করা হয়েছে। আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

 

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,     চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫