Naya Diganta

ওয়ান-ইলেভেনকে কালো দিবস ঘোষণা করা উচিত ড. এমাজউদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


জাতীয় প্রেস কাবে গতকাল ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের আলোচনা সভা   : নয়া দিগন্ত

জাতীয় প্রেস কাবে গতকাল ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের আলোচনা সভা : নয়া দিগন্ত

১/১১’র দিনকে কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত মন্তব্য করে বরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, সে সময়ের ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে ওইভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত। তিনি গতকাল প্রেস কাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। একই সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমান সরকার ওয়ান-ইলেভেন সরকারের বেনিফিসিয়ারি।
গতকাল জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ষড়যন্ত্র ও ওয়ান-ইলেভেনের সরকার’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ইসলামিক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এহসানুল হুদা প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমার পার্টির চেয়ারম্যানসহ আমি কয়েক দিন পর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যাবো। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা। এখনো বলছি, অগণিত শহীদের জীবনের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে, এখনো গণনা হয়নি। একেবারে ৩০ লাখ, এটা কমও না একটা বেশিও না। আমি সরকারকে বলবোÑ ত্রিশ লাখ শহীদের গেজেট প্রকাশ করুন। মুক্তিযুদ্ধে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, যাদের গণহত্যার তালিকায় রাখছেন, তাদের শহীদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে পারেন, প্রতি বছর পরিবর্তন করতে পারেন, সংশোধন করতে পারেনÑ কত লোক যুদ্ধে মারা গেল, এই উদ্যোগটা নিলেন না কেন? ত্রিশ লাখ না হয়, ত্রিশ হাজারও তো হতে পারে। একটা রাউন্ড ফিগার ত্রিশ লাখ। আমি বলবোÑ দুইটা তালিকা করুন, রাজাকারের তালিকা করুন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও করুন এবং কখন কত লোক যুদ্ধেেত্র মারা গেছেন, কত লোক গণহত্যার শিকার হয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করুন। তাদের শহিদী মর্যাদা ঘোষণা করুন।
২০০৭ সালের ১/১১’এর মতো আরেকটি ষড়যন্ত্র আকাশের চারিদিকে ঘুরছে আশঙ্কা প্রকাশ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেনÑ ১/১১’র ষড়যন্ত্রের মতো আরেকটা ষড়যন্ত্র আকাশের চারিদিকে ঘুরছে। এটা আন্দোলন ব্যতিরেকে এই ষড়যন্ত্রের যে জাল সরবে না, শেষটায় আঁকড়িয়ে ধরবে। আমি বলবোÑ আমাদের মধ্যে আমরা যারা দলের সাথে, নেত্রীর সাথে বেঈমানী করছি, আগামী ষড়যন্ত্রে যেন আমরা সেই ফাঁদে পা না দিই। আমরা যদি আমাদের মধ্যে এক থাকতে পারি, আশা করি কোনো ষড়যন্ত্রই গ্রাস করতে পারবে না। বিএনপিকে নির্মূল করতে করতে নিজেরাই নির্মূল হয়ে যাবে। এ নিয়ে কোনো কথা না বলাই ভালো।
ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ওই কুশীলবদের বিচার এই সরকার করবে না। কারণ তারা বেনিফিসিয়ারি। তবে ওদের বিচার হবে না, এটা ঠিক নয়। কোনো না কোনো দিন জনগণের সরকার এলে তাদের বিচার হবে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের আদালতে নাকি খালেদা জিয়ার বিচার হবে। তাহলে জনগণ তো উল্টো তাদের বিচার করতে পারে। এ জন্য তারা প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যদি নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে তো আইনের শাসন পাওয়া যাবে না। আর আইনের শাসন না থাকলে গণতন্ত্র বিকশিত হয় না। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই লড়াই করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের ফলাফল নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, আওয়ামী লীগে একজন ইমাম আছে যিনি ছাত্রলীগের মিটিংয়ে বলছিলেন, তোমরা কী করছো। আমার এই অফিসাররাই সরকার গঠন করছে। অর্থাৎ তার অফিসার কারা? প্রিজাইডিং অফিসার-সরকারি অফিসার। এইচ টি ইমামকে জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে, তিনি নারায়ণঞ্জের নির্বাচনের ঘটনা কিভাবে ঘটাইছেন?
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ২০০৭ সালেও ১/১১ যে ঘটনা ঘটলো আমি একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে বলব, এটা একটা সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক েেত্র হস্তপে না, এটা কিয়ার মিলিটারি ক্যু। সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান এ জন্য বলি যে, ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেকোনো আইন প্রণয়নের েেত্র গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার েেত্র তখন দেখা গেছে জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারদের। অত্যন্ত নিরাপদে এখন তারা এমন একটি দেশে অবস্থান করছেন যেখানে আমাদের সরকারের কিছু করার আর ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কি না জানি না। ১/১১ দিনটাকে কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ওইভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত।
শামসুজ্জামান দুদু মঙ্গলবার দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, আপনি বলেছেন আগুন যারা দিয়েছে তাদের বিচার হবে গণআদালতে। এই বক্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিবো। গণআদালত মানে স্বচ্ছ নির্বাচন, ওখানে বিচার হবে। আমরা সঠিক নাকি আপনারা সঠিক।
তিনি বলেন, আপনারা পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছেন। ইন্দুরকানী কি জিয়াউর রহমানের চেয়ে বেশি সম্মানিত ব্যক্তি? আপনারা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করছেন না কেন? বিএনপি মতায় এলে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করব। তবে আপনাদের সাথে আলোচনা করেই করব। কারণ গোপালের চেয়ে মুজিবুর রহমান অনেক সম্মানিত ব্যক্তি। বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেন। অথচ তার জন্মস্থানের নাম রাখলেন গোপালের নামে।

 

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫