ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

‘এক এগারো’, মাহফুজ আনাম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

সৈয়দ আবদাল আহমদ

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬,সোমবার, ১৮:১৮


আবদাল আহমদ

আবদাল আহমদ

প্রিন্ট

সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ গণমাধ্যমকে সাহস করে সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি এবং অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে এ ধরনের নীতিবাক্য বা পরামর্শ থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। তবে বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির এ পরামর্শ যেন অনেকটা অপাত্রে কন্যাদানের মতো। 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিক। সেই পাকিস্তান আমল থেকে তিনি রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ভাটির দেশ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকার মানুষ। নিজ এলাকায় খুবই জনপ্রিয়। সেখানকার অধিবাসীরা ভালোবেসে তাকে ‘ভাটিশার্দূল’ উপাধিও দিয়েছেন। অন্তত সাতবার তিনি ওই এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছাড়াও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা এবং স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সময়। দেশের রাজনীতি, সমাজ-সংস্কৃতি তার চেনা। দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি তার জানার বাইরে নয়। তিনি কথার কথা হিসেবে ওই বক্তব্য দিয়েছেন, এমন মন্তব্য করার ধৃষ্টতা নেই। তবে গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থার সাথে তার ওই কথা যেন খাপ খাইতে চাচ্ছে না।

মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা অবশ্যই সাহসী হয়ে থাকে। সে রকম পরিবেশে এ ধরনের বক্তব্য খুব মানানসই। কিন্তু যে সমাজে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটে, মুক্ত পরিবেশ হারিয়ে যায়- সেখানে সাহস করে সত্য বলা, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা কতটা সম্ভব? সাহস করে সত্য লিখতে গিয়ে; সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে গিয়ে দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তা দেশের মানুষের অজানা নয়। তেমনি, প্রকাশিত একটি সংবাদের ব্যাপারে ভুল স্বীকার করতে গিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বর্তমানে কী উটকো যন্ত্রণায় পড়েছেন, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, ‘এক-এগারো’র জরুরি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ এবং তাদের কর্মকাণ্ডের পুরো দায় যেন একা মাহফুজ আনামের। মইন, মাসুদ, আমিন, বারী গং যারা এক-এগারোর কুশীলব হিসেবে পরিচিত, তাদের যেন কোনো দায় নেই। বিচারটা মাহফুজ আনামের করলেই যেন সব হয়ে যায়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ২৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে পুনরুক্তি করেছেন, ‘দেশের গণমাধ্যম স্মরণকালের স্বাধীনতা ভোগ করছে।’ সেই স্বাধীনতার নমুনা পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলে আঁচ করা যায়। হায়রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা! এতটাই ‘স্বাধীনতা’ ভোগ করছে যে, গণমাধ্যম জগতে একের পর এক অভাবিত সব কর্মকাণ্ড ঘটে চলেছে। এ নিয়ে পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ জানাতে জানাতে কাহিল হয়ে পড়েছে। এখন তারা জোরালভাবেই বলছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক বৈরী সময় মোকাবেলা করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমন ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। ভয়ভীতি এত বেশি যে, কী সংবাদপত্র, কী টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য মিডিয়া- নিজেরাই সেলফ সেন্সরশিপে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরেই গণমাধ্যম আক্রান্তের তালিকায়। যত দিন যাচ্ছে, এ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ নমুনা হচ্ছে, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ওপর সরকারের রোষানল। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৪ দিনে ৭৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২১টি। মামলাগুলোর মধ্যে ৫১টিতে এক লাখ ২২ হাজার ৪৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই টাকা বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটের প্রায় অর্ধেক। আর এসব মামলার বাদি হচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের লোকেরা।

২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত জরুরি সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য যাচাই না করে ছাপানোর কথা উল্লেখ করে সম্পাদক হিসেবে সেটা তার ভুল হয়েছিল বলে স্বীকারোক্তি করেছিলেন মাহফুজ আনাম। সেটাই তার ‘অপরাধ’। এ জন্য তার প্রতি সরকার খড়গহস্ত। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। এর পরই টার্গেট হয়ে গেলেন মাহফুজ আনাম। একের পর এক মামলা। তথ্যমন্ত্রী এবং শেখ রেহানার স্বামী মাহফুজ আনামকে আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য পক্ষে কিছুটা কথা বলার চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেননি। জয় আবারো তার বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সর্বশেষ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দু’টি পত্রিকার দু’জন সম্পাদক বিশেষ করে মাহফুজ আনামের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, আত্মসম্মানবোধ থাকলে সম্পাদকের পদ থেকে তিনি সরে যেতেন। এ প্রতিক্রিয়ার পর মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘সে সময় অনেক পত্রিকাই ডিজিএফআইয়ের খবর ছাপলেও তাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এসব বলা হচ্ছে। এরপর সাংবাদিকেরা আর ভুল স্বীকার করতে চাইবেন না। প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে ভুল স্বীকার করাটাও আমার একটা ভুল ছিল।’ কিন্তু তার কথায় কে কান দেয়? গণমামলা দায়ের এবং তার গ্রেফতার দাবি চলছেই।

এক-এগারোর কুশীলবদের একজন লে. জেনারেল মাসুদ দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে এখন চুটিয়ে ঢাকাতেই ব্যবসা করছেন। তেমনি অন্যরাও ভালো অবস্থানে আছেন। এক-এগারোর জরুরি সরকারকে ‘আন্দোলনের ফসল’ আখ্যায়িত করে ক্ষমতায় এলে তাদের কাজের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ এবং পরে ক্ষমতায় এসে তাদের বৈধতা দেয়া হয়। এটাও যেন দোষের কিছু নয়। যত দোষ নন্দ ঘোষ- মাহফুজ আনামের।

এর আগে আমরা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও নির্যাতনের শিকার হতে দেখেছি। একটি সত্য রিপোর্ট প্রকাশ করার কারণে প্রথম দফায় গ্রেফতারের পর তাকে প্রায় ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকতে হয়। রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হতে হলো। তার ‘জেল থেকে জেলে’ বইয়ে তিনি নিজেই সেই নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন। দ্বিতীয়বারও সত্য লেখা এবং সাহসী সাংবাদিকতার কারণেই মাহমুুদুর রহমান গ্রেফতার হন এবং তার পত্রিকা ‘আমার দেশ’ বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মাহমুদুর রহমান জেলে বন্দী। আগামী ১১ এপ্রিল তার কারাবন্দিত্বের তিন বছর পূর্ণ হবে। তার বিরুদ্ধে ৭০টি মামলার সব ক’টিতে জামিন পাওয়া সত্ত্বেও পুনরায় ৭১ নম্বর মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে তার মুক্তি আটকে দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। ওজন ছিল ৭৪ কেজি, এখন ৬০ কেজিরও নিচে নেমে গেছে। চোয়ালের অপারেশনের পর চেকআপে যেতে না পারায় আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যাকপেইন, ফ্রোজেন শোল্ডারসহ অন্যান্য সমস্যা তো আছেই।

সাপ্তাহিক ইকোনমিক টাইমস সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ গত ১৮ আগস্ট থেকে কাশিমপুর কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছেন। তার বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানো, ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ২১টি মামলা। সব মামলায় জামিনের পরও ২৭ ফেব্রুয়ারি আরেকটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে তারও মুক্তি আটকে দেয়া হলো। একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পর্নোগ্রাফি মামলায় আজ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দী। লন্ডনে দেয়া তারেক রহমানের একটি বক্তব্য প্রচার করাই তার ‘অপরাধ’। একুশে টিভির সাংবাদিক ড. কনক সারওয়ারও এ মামলায় জেল খেটেছেন। আবদুস সালামকে জেলে রেখে একুশে টিভির মালিকানাও পরিবর্তন করা হয়ে গেছে। এ দিকে প্রতিষ্ঠানটি ‘দখল হয়ে যাওয়া’র কথাই বেশি শোনা যায়।

আগামী ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ বন্ধের তিন বছর পূর্ণ হবে। এ পত্রিকার পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারীর বেকার জীবনের দুঃখকষ্টের সীমা নেই। চ্যানেল ওয়ান টিভি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বন্ধ করে দেয়ার ছয় বছর পূর্ণ হবে আগামী ২৭ এপ্রিল। দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধেরও তিন বছর হবে ৬ মে। সরকার সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা বললেও তিন বছরেও সেই ‘সাময়িক নিষেধাজ্ঞা’র অবসান হয়নি। ‘সাময়িক’ নিষেধাজ্ঞা যে কত দিন, কত মাস, কত বছরে হয়, কেউ তা জানে না।
তেমনি নিউ এজ পত্রিকায় পুলিশি তল্লাশি, সম্পাদক নূরুল কবীরকে হুমকি, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে মামলা দিয়ে জেলে নেয়া, টিভি টকশোতে অতিথির তালিকা নির্দিষ্ট করে দেয়া, বাংলা ভিশনের জনপ্রিয় টকশো ‘ফ্রন্টলাইন’ বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, ভাইবার বন্ধ করার নজিরও এ সময়ে মানুষ লক্ষ করেছে। সম্প্রচার নীতিমালা, অনলাইন নীতিমালা, আইসিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে মিডিয়া দমনের অপচেষ্টার উদাহরণও আছে সবার সামনে।

(মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমের ১৮১২ জন সাংবাদিক নানাভাবে রোষের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জনকে হত্যা, ৮৩০ জন আহত, ২৫২ জন মারধর, ৮০ জনের ওপর হামলা, ২৫ জন গ্রেফতার, তিনজন গুম, ৩২৪ জনকে হুমকি, চারজনকে নির্যাতন এবং ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই রিপোর্টে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যার কথা বলা হলেও সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে-ডিইউজের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২৭।) সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড এ সময়ের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনা। সাংবাদিক সহকর্মীরা গত ১১ ফেব্রুয়ারি এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের চার বছর পালন করেছে। সাগর-রুনি হত্যার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিরা ধরা পড়বে। কিন্তু ৪৮ মাসেও খুনি চক্রের টিকিটির পর্যন্ত নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের তৎকালীন আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য’ অগ্রগতি হয়েছে। এর পরই ডিবি পুলিশ হাইকোর্টে গিয়ে জানায়, তদন্তে তারা ব্যর্থ। এরপর তদন্তের ভার পড়ে র‌্যাবের ওপর। র‌্যাব ২১ জন সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য আমেরিকা পাঠায়। কিন্তু তিন বছরেও তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। এ অবস্থায় সাগরের মা ক্ষোভে-দুঃখে বলেন, ‘আমি বুঝে গেছি, ৪৮ বছরেও বিচার পাবো না।’ এই হলো দেশের গণমাধ্যমের হাল। আমরা সাংবাদিকেরাও দায় এড়াতে পারি না। আমাদেরও দোষ আছে। আমরা এক নই। ঐক্যবদ্ধভাবে কিছু করতে পারি না। বহুধা বিভাজন। একজন সম্পাদক আক্রান্ত হলে সব সম্পাদক একসুরে কথা বলতে পারি না। সম্পাদকেরা বিভক্ত, সাংবাদিক ইউনিয়ন বিভক্ত। সরকার তো সুযোগ নেবেই।

বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা তাদের দুর্বলতা কোথায়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটহীন, ভোটারহীন, প্রার্থীহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জা করেছেন। তারা যে বৈধভাবে ক্ষমতাসীন নন, সে কথা তাদের চেয়ে ভালো কেউ জানে না। একবার বাঘের পিঠে চড়ে বসলে নামা খুব বিপজ্জনক। তাই ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা ছাড়া উপায় থাকে না। এ জন্যই হয়তো তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। সরকারের জন্য ভয়ের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে এক এক করে নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। মিডিয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এলে আর ‘সমস্যা’ থাকে না। সেটাই এখন অগ্রাধিকার। পঁচাত্তরে তাদের সরকার চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার সরকার সেই কৌশলে না গিয়ে সব মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া বানাতে চাচ্ছে। যেসব মিডিয়া রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়, সেগুলো আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি মিডিয়া থাকবে, কিন্তু তারা শুধু সরকারের জয়গান গাইবে, এটাই কাম্য। স্মর্তব্য, জার্মানির সব ধরনের গণমাধ্যম ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে। সংবাদপত্র, সাময়িকী, রেডিও, চলচ্চিত্র, বইপত্র, সমাবেশ-শোভাযাত্রা, চিত্রকর্ম- নাৎসিবাদের বিপক্ষে যায়, এমন কোনো মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। ক্ষমতাসীনদের প্রোপাগান্ডা শোনাতে জনগণকে সস্তায় রেডিও পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়।

লেখক : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫