ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ নভেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

উন্নয়ন দেশের, নাকি পকেটের!

ইকতেদার আহমেদ

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬,সোমবার, ২০:১৬


ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ

প্রিন্ট

পৃথিবীর যেকোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি সামাজিক অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। অপর দিকে, সব ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো যথাÑ সড়ক, মহাসড়ক, উড়াল সেতু, রেল, নৌ, আকাশপথ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। এ দু’টি অবকাঠামো যত বেশি সুদৃঢ় হবে, তা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য তত বেশি সহায়ক হবে। পৃথিবীর সব উন্নত রাষ্ট্রেই এ দু’টি অবকাঠামো দেশের সব শ্রেণীর জনমানুষের জন্য কাক্সিক্ষতমানের সেবা নিশ্চিত করছে। 

সামাজিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এগুলোর একটি ক্ষুদ্র অংশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং অবশিষ্টাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন। অপর দিকে, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রায় সম্পূর্ণটাই রাষ্ট্্রীয় মালিকানাধীন, যদিও ক্ষেত্র বিশেষে কিছু স্থাপনার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কিছু শর্তের অধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেয়া হয়। আবার অনেক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে এগুলোর মালিকানা সরকার লাভ করে।
যেকোনো দেশের উন্নয়নের সাথে দেশের নাগরিকদের সুখ-সমৃদ্ধি সম্পৃক্ত। সরকার কর্তৃক যেসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়, এগুলোর ব্যয়ভার রাজস্ব অথবা উন্নয়ন বাজেট থেকে নির্বাহ করা হয়। রাজস্ব বাজেটের অর্থের সংস্থান জনগণের দেয় কর থেকে আসে। অপর দিকে, উন্নয়ন বাজেটের অর্থের সংস্থান উন্নত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনগণের দেয় কর থেকে এলেও উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনগণের দেয় করের পাশাপাশি বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে এটা মেটানো হয়।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো সংশ্লেষে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়, এগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা যত কম হয়, তা তত বেশি জনগণের ও দেশের স্বার্থের সহায়ক। উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত নির্বিভেদে সব দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়নকাজ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। যেসব রাষ্ট্রে এসব কাজের সাথে সম্পৃক্ত সরকারি পদধারী ব্যক্তিরা সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ, সেসব রাষ্ট্রে উন্নয়নকাজের প্রাক্কলন করার সময় ঠিকাদারের লাভসহ যে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সচরাচর সে ব্যয়ে কোনো বৃদ্ধি ঘটে না। অনেক উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উন্নয়নকাজে তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি পদধারী এবং তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের দুর্নীতির কারণে প্রাক্কলন করার সময় ঠিকাদারের লাভসহ যে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, তা কাজ শুরুর অব্যবহিত পর অথবা মাঝপথে, এমনকি শেষ পর্যায়েও এক, দুই অথবা তিন দফায় বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ অবধি পৌঁছে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধির সাকল্য অর্থ সরকারি পদধারী, তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ও ঠিকাদার সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। পৃথিবীর যেসব রাষ্ট্রে সুশাসন ও জবাবদিহিতা রয়েছে, সেসব রাষ্ট্রে প্রাক্কলিত ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটিয়ে পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলো সুশাসন ও জবাবদিহিতা ক্রমনিম্নমুখী।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। আমাদের দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার অবস্থা যে খুব নাজুক, সে বিষয়ে দেশের মানুষ সম্যক অবহিত থাকলেও এর বিরুদ্ধে জনসাধারণের সুসংহত অবস্থান না থাকায় আমাদের সামাজিক ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটছে। এ দেশের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির বড় অংশটির ভাগীদার হলো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক; আর অবশিষ্টাংশটির বেশির ভাগ সরকারি পদধারীরা নিজেদের জন্য রেখে এর একটি ক্ষুদ্র অংশ ঠিকাদারকে দিচ্ছেন।

ছোট বড় যেকোনো নির্মাণকাজের এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-পঞ্চমাংশ ব্যয় শ্রমসংশ্লিষ্ট। আমাদের দেশে নির্মাণসংশ্লিষ্ট কাজে শ্রমিকদের যে মজুরি দেয়া হয়, তা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নিরিখে অতি অল্প। আমাদের নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে বালি দেশের ভেতর থেকে সংগ্রহ করা হয়, ইট দেশেই প্রস্তুত করা হয়, পাথর কিছু দেশের ভেতর থেকে সংগৃহীত এবং কিছু আমদানীকৃত; সিমেন্ট ও লোহার রড আমদানীকৃত কাঁচামালের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে প্রস্তুত করা হয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের ঠিকাদার বা নির্মাতারা নির্মাণসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সংগ্রহ করতে পারছেন। শ্রম ও নির্মাণসামগ্রী, উভয়ের মূল্য আমাদের দেশে উন্নত ও উন্নয়নশীল থেকে তুলণামূলকভাবে কম হওয়ায় স্বভাবতই এ দেশের মানুষের মধ্যে যে ধারণা জন্মায় তা হলো, আমাদের দেশের যেকোনো অবকাঠামোর ব্যয় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম হবে। কিন্তু এ দেশের জনমানুষের এমন ধারণাকে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করে দেখা যায়, আমাদের দেশের মহাসড়ক, উড়াল সেতু, বড় ধরনের সেতু, রেললাইন, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর প্রভৃতির নির্মাণব্যয় ইউরোপ, চীন ও ভারতের চেয়ে যথাক্রমে দুই, চার ও পাঁচ গুণ অধিক। দুয়েকটি সড়কের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এ ব্যয় প্রায় চার, আট ও দশ গুণ বেশি।

আমাদের দেশে বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে- এমন দু’টি প্রকল্পের একটি হলো, মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত উড়াল সেতু এবং পদ্মা সেতু। প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কাজের মাঝপথে প্রাক্কলিত ব্যয়ের পঞ্চাশ শতাংশেরও অধিক বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং শেষোক্তটির ক্ষেত্রে, কাজের শুরুতেই প্রাক্কলিত ব্যয়ের ত্রিশ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। উভয় প্রকল্পের প্রাক্কলন প্রস্তুতকালীন শ্রমের মজুরি যা ছিল তা খুব একটা বাড়েনি। অপর দিকে, সে সময় বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর যে মূল্য ছিল, বর্তমানে তা ১০-২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ দু’টি বিষয় বিবেচনায় নিলে প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে নির্মাণব্যয় বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত নয়। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা। এখানে সব অসম্ভবই যেনো সম্ভব। এ দেশের জনগণকে অনেকটা হতবাক ও বিস্মিত করেই এ দু’টি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। আর এ বর্ধিত অর্থের বেশির ভাগই যে, নির্মাণসংশ্লিষ্ট সরকারি পদধারীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের পকেটে ঢুকবে, তা এখন আর কারো অজানা নয়।

উপরিউক্ত দু’টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথমোক্তটি কিছুটা বিদেশী সাহায্যনির্ভর এবং শেষোক্তটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় অর্থায়নে করা হচ্ছে। উভয় প্রকল্পে দেশীয় অর্থের যে সংশ্লেষ, তার জোগান আসছে জনগণের দেয়া কর থেকে। সুতরাং এ ধরনের প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়, তাতে জনগণ ও দেশ সমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পদ্মা সেতু প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক- এ চারটি বিদেশী সংস্থা এবং বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি পদধারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে যে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়, তাতে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর অপরাপর দাতা সংস্থাও বিশ্বব্যাংকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বাংলাদেশ কর্তৃক যখন প্রকল্পটির ব্যয়ভার নির্ধারণ করা হয়, তখন এর গুরুত্ব ও মান, উভয়টি বিবেচনায় নিয়েই সামগ্রিকভাবে আনুষঙ্গিক সব বিষয় পর্যালোচনাপূর্বক তা ধার্য করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক কর্তৃৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, তা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তবায়িত অনুরূপ প্রকল্পের ব্যয়ভার থেকে অধিক হয়। সে বিবেচনায় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন কালকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে ব্যয় নির্ধারণ করেছিল, তা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যয়সীমা অতিক্রমের কথা নয়। কিন্তু প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হতে-না-হতেই যেভাবে প্রকল্পব্যয় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ধারণা করা হয় শেষ অবধি এ ব্যয় আবার ৩০-৫০ শতাংশ বাড়তে পারে। এ বর্ধিত ব্যয় প্রকল্পের স্বার্থে, নাকি দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সরকারি পদধারী ও ঠিকাদারের স্বার্থে, এ বিষযে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য মতে, ২০১৩ অবধি এ দেশ থেকে চার লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ পাচারকৃত অর্থের মধ্যে ২০১৩ সালে শুধু একটি বছরে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তির শেষ বছর। পৃথিবীর বেশির ভাগ উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারের মেয়াদপূর্তির শেষ বছর পরবর্তী ক্ষমতাসীনেরা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে কি পারবে না, এ আশঙ্কায় ক্ষমতাসীন দলের অনেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশে অবস্থান প্রতিকূল বিবেচিত হলে যেন পরিবার পরিজনসহ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বিদেশে কাটাতে পারেন, সে মানসে সেখানে অর্থ পাচার করে সম্পদ আহরণ করে থাকেন।
আমাদের দেশ থেকে বিভিন্নভাবে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে, দেশের অভ্যন্তরে কালোবাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করে তা বিদেশে পাচার করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত আমদানিব্যয়ের চেয়ে অধিক ব্যয় দেখিয়ে বাড়তি যে অর্থ, তা পাচার করা হয়। আবার বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেশী ও বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিশন বাবদ যে বিপুল অংকের অর্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি পদধারীদের দিয়ে থাকে, শোনা যায়, এর সবটুকুই বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে হস্তান্তর করা হয়।
বিগত এক দশকে আমাদের যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ- এ তিনটি খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্প ব্যয়বৃদ্ধির মাধ্যমে এ তিনটি খাতের প্রকল্পগুলো থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি পদধারীরা যে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন, তার প্রায় সবটুকুই বিভিন্নভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

উপরিউক্ত তিনটি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পসহ সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প যদি প্রকৃত ব্যয়ের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো তাহলে দেখা যেত, আমাদের মহাসড়ক, উড়াল সেতু, বড় ধরনের সেতু, রেললাইন, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও টেলিযোগাযোগ স্থাপনা প্রভৃতি নির্মাণের ব্যয়ভার ইউরোপ, চীন ও ভারতের চেয়ে বহুলাংশে কম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উপরিউক্ত সব ধরনের প্রকল্পই আমাদের দেশে ইউরোপ, চীন ও ভারতের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্পগুলো অধিক ব্যয়ে সম্পন্ন করার কারণে এক দিকে দুর্নীতি লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে; অপর দিকে, প্রকল্পগুলোর ব্যয়বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে দেশ ও জনগণের স্বার্থের হানি ঘটছে। এভাবে উন্নয়নের নামে আমাদের দেশে যা হচ্ছে, তা দেশের উন্নয়ন নয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি পদধারীদের পকেটের উন্নয়ন!

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail : [email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫