ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলার দিগন্ত

সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বার ভূঁইয়াদের স্মৃতিবিজড়িত চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ

আবুল হাসান ছাগলনাইয়া (ফেনী)

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
তিন শতাব্দীর পুরনো ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ : নয়া দিগন্ত

তিন শতাব্দীর পুরনো ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ : নয়া দিগন্ত

অযতœ, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে ফেনী জেলায় বার ভূঁইয়াদের স্মৃতিবিজড়িত মুসলিম স্থাপত্য নির্দশন চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ। বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদগাজী ভূঁইয়া ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজী এলাকায় ১১২২ হিজরিতে নির্মাণ করেছিলেন এ মসজিদটি। ২৮ শতক জমির ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদটি ছোট ছোট ইট ও সুড়কির নানা কারুকার্যখচিত।
মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৪৮ ফুট ও প্রস্থে ২৪ ফুট এবং উচ্চতায় ৩৫ ফুট। মসজিদটির ওপরে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ। দেয়ালগুলো বেশ চওড়া। মুসল্লিদের ওজুর সুবিধার্থে ১৮ শতক জমিতে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল। মসজিদের সামনে একটি আজানখানা (মিনার) রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য মোগল স্থাপত্য নিদর্শনে তৈরি কারুকার্যখচিত দরজাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাঠের দরজা তৈরি করা হয়েছে। প্রাচীন মসজিদটির ভেতরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন কারুকার্য চোখে পড়ে। মসজিদের সামনের অংশে শ্বেত পাথরের নামফলকে আরবিতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও কালিমা তাইয়্যেবা এবং ফারসি ভাষায় কবিতার ছন্দে মসজিটির নির্মাণকারী ও হিজরি সালের বর্ণনা রয়েছে। মসজিদের ভেতরে শতাধিক এবং সামনে আরো কয়েক শ’ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ মসজিদে প্রতি বছর ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কালের সাক্ষী এ মসজিদটি সংস্কারের অভাবে প্রাচীন ও স্থাপত্য নিদর্শন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে মসজিদের কোথাও কোথাও পালেস্তরা খসে পড়ছে। দেয়ালে শেওলা গজিয়ে উঠেছে। দেখা দিয়েছে ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ভেতরে ঢোকে বলে স্থানীয়রা জানান।
চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদটি ১৯৮৭ সালে প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের গেজেটভুক্ত হয়। ১৯৯২ সালে প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় জাদুঘর থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটির কিছু কিছু অংশের সংস্কারকাজ করা হয়। অর্থসঙ্কটে পুরো সংস্কার করা তখন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে মসজিদের কিছু সংস্কারকাজ হয়েছিল বলে মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমানে মসজিদটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। এলাকাবাসী দ্রুত মসজিদটি সংস্কারের দাবি করেছেন। বর্তমানে এর দেয়াল, গম্বুজ ও ছাদ শেওলা ধরে কালো হয়ে গেছে। মসজিদ এলাকায় নেই নিরাপত্তা দেয়াল। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে চাঁদগাজী ভূঁইয়া দারুল কুরআন নামে একটি নূরানি মাদরাসাসহ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষালয় গড়ে উঠেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বার ভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদগাজী ভূঁইয়ার নামে এলাকায় চাঁদগাজী বাজার, চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদগাজী ইসলামিক পাঠাগারসহ বহু স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মক্তব এবং বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার ঐতিহ্য রক্ষার্থে চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদটি সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয় চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন দিদার ও প্রভাষক কালিম উদ্দিনসহ অনেকে। ২০০৯ সালে প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগে মসজিদটি সংস্কারের জন্য আবেদন করেও আজো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদগাজী ভূঁইয়ার বংশধর মাওলানা আনোয়ারুল্লা ভূঁইয়া।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫