ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

৪ কোটি উদ্বাস্তু ও দেশের নিরাপত্তা!

জিএসএফ থেকে অনুদান নয়, ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু প্যারিস, ফ্রান্স থেকে

১০ ডিসেম্বর ২০১৫,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় বসবাসরত চার কোটি মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আগত সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতারা এ বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। এ জন্য তারা অনুদান হিসেবে আর্থিক সহায়তাও কামনা করেছেন। কিন্তু সত্যি সত্যিই যদি এত বিশালসংখ্যক মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়, সে ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকি কী হবে সে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে না বলে মনে করছেন জলবায়ু নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। জলবায়ু নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ বিষয়ে আরো সোচ্চার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানান। কারণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, এখনই এ বিষয়ে তুলে ধরা না হলে কাক্সিক্ষত আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে না।
এ দিকে অনুদান নয়, বহুল অলোচিত ‘গ্লোবাল কাইমেট ফান্ড’ (জিসিএফ) থেকে ঋণ পেতে পারে বাংলাদেশ। প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এসে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ তহবিল থেকে প্রতি বছর ৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান চাওয়া হয়েছে বলে জানান বিশিষ্ট জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সালিমুল হক। তবে এটি জলবায়ু সম্মেলনে সুরাহার সম্ভাবনা খুবই কম। বাইরে অনুষ্ঠিত জিএসএফ বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হতে পারে।
চাহিদামাফিক অর্থ না পেলে কী করবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছেÑ জিএসএফ থেকে অর্থ অনুদান হিসেবে দিতে হবে। যদি বাংলাদেশের চাহিদামাফিক এ অর্থ পাওয়া না যায় তবে সে ক্ষেত্রে কী করা হবেÑ এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছে। গত মঙ্গলবার প্যারিস স্থানীয় সময় বেলা ৩টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বলেন, এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব (রেসপনসিবিলিটি) নেই। এটি দেশের অর্থমন্ত্রী দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা জিএসএফ তহবিল থেকে কোনো ধরনের ঋণ নয়, সম্পূর্ণ অনুদান চাই। ধনী দেশগুলোর দায়িত্ব পড়ে এখান থেকে অনুদান হিসেবে আমাদের অর্থ দেয়া। কারণ পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে আমরা দায়ী নই। কিন্তু ফল আমরা ভোগ করছি।
প্যারিসের উপকণ্ঠে লে ব্যুর্জে অবস্থিত এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে জলবায়ু সম্মেলনে এ প্রতিনিধিরা সাথে দেখা হয়, বাংলাদেশের বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বর্তমানে নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক ‘গ্লোবাল মিলিটারি অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল অন কাইমেট চেঞ্জ’-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) মুনিরুজ্জামানের সাথে। বিভিন্ন বিষয়ে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত দেড় থেকে দুই কোটি (বর্তমানে চার কোটি) মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। এ বিপর্যয় রোধে আর্থিক সহায়তাও চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে না, এত বিশালসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু হলে তারা দেশের নিরাপত্তার জন্য কতখানি ঝুঁকির সৃষ্টি করবে। এসব লোক যদি শহরমুখী হয় তবে তো পুরো শহরই ভেঙে (কলাপসড) পড়বে। শুধু তা-ই নয়, এরা তো দেশের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘিœত করবে। ধনী দেশগুলোকে আমাদের বোঝানো উচিত এ ধরনের সমস্যা শুধু দেশেরই নয়, পুরো আঞ্চলিক ও বিশ্বের নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। আর নিরাপত্তার এসব বিষয় যদি আমরা সামনে তুলে ধরতে পারি তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা পাওয়া তেমন কোনো সমস্যা বাংলাদেশের হবে না। ধনী দেশগুলো তখন নিজে থেকেই আমাদের সহায়তা এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।
জলবায়ু সম্মেলন থেকে কী পাওয়ার আশা করা যায়Ñ এ প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সম্মেলন শেষে একটি চুক্তি যে হবে তা পরিষ্কার, কিন্তু এটিকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ রয়ে গেছে।
এবার সুন্দরবন রক্ষায় ভারতের উদ্যোগে শামিল বাংলাদেশ
বিশ্বের সবচেয়ে ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে বিবেচিত সুন্দরবন। সুন্দরবনের ৬০ শতাংশেরও বেশি পড়েছে বাংলাদেশের ভাগে। আর বাকি ৪০ শতাংশের কম রয়েছে ভারতের অংশ। এখন এই সুন্দরবনকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে ভারত। এ জন্য দেশটি বাংলাদেশকে পাশেও চেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা বাংলাদেশের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।
গতকাল বুধবার প্যারিসে ‘কপ ২১’ সম্মেলনস্থলে সুন্দরবন রিজিওন কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ (এসআরসিআই) সম্পর্কিত আলোচনায় বসেন বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ভারতের পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভারকর।
এসআরসিআই উদ্যোগের ল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সুন্দরবনের জন্য সরকার, সুশীলসমাজ ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সমন্বিত কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুন্দরবনের ভূমিকা সম্পর্কে বিশ্ব দরবারে অবস্থান তৈরি করে তা প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইকো-পর্যটন, টেকসই মৎস্য আহরণ ও জলজ পালন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিদেশী কারিগরি ও অর্থসহায়তা চাওয়া হতে পারে এই এসআরসিআই উদ্যোগে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫