নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা

ভিন্নভাবে চিন্তা করার সাহস জুগিয়েছিলেন ড. পিয়াস করিম

নিউ ইয়র্ক থেকে সংবাদদাতা

দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটকালে আমাদের ভিন্নভাবে চিন্তা করবার সাহস জুগিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম। সমাজে যখন সহিষ্ণুতা থাকে না, যখন পুরো সমাজে সংঘাতময় পরিস্থিতি তখন পিয়াসদের মতো মানুষদের মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হয়।

গতকাল শনিবার নিউ ইয়র্কে বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. পিয়াস করিমের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রবাসী নাগরিক সমাজ আয়োজিত নাগরিক স্মরণ সভায় একথা বলেন বক্তারা।

সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য দেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, কলামিস্ট মাহমুদ রেজা চৌধূরী, মইন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মইনুদ্দিন নাসের, সাপ্তাহিক এখন সময়ের সম্পাদক কাজী শামসুল হক, সময় টেলিভিশনের ব্যুরো চিফ শিহাব উদ্দিন কিসলু, ডিআরইউর সাবেক সেক্রেটারি মনোয়ারুল ইসলাম, বিএফইউজের অফিস সেক্রেটারি ইমরান আনসারীসহ অনেকে।

স্মরণ সভায় মোবাইলে যোগ দিয়ে ড. আলী রিয়াজ বলেন, সমাজে সংঘাত যখন তুঙ্গে, সহিঞ্চুতা যখন হারিয়ে বসেছে- এমন সময়ে পিয়াস করিমের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। কারণ তিনি আমাদেরকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সাহস যুগিয়ে গিয়েছেন।

কলামিস্ট মাহমুদ রেজা চৌধুরী বলেন, জীবিত পিয়াসের চেয়ে মৃত পিয়াস অনেক শক্তিশালী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তাকে নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে এর প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই। অথচ পিয়াস আমৃত্যু প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই সমুন্নত করতে সংগ্রাম করে গেছেন।

পিয়াস করিমের বাল্যবন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে কর্মরত মইন চৌধুরী বলেন, পিয়াস মার্কসবাদী ছিলেন একথা সত্য, কিন্তু তিনি একজন জাতীয়তাবাদীও ছিলেন। পিয়াস পাকিস্তানের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়ে ভারতের আধিপত্য মেনে নিতে পারেননি বলেই শহীদ মিনারে তার লাশ নিয়ে যেতে দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, পিয়াসের অপমানের প্রতিদান একদিন আমাদেরকে ভোগ করতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক মইনুদ্দিন নাসের বলেন, পিয়াস করিমের মৃত্যুর পর আমরা যে ব্যবহার দেখিয়েছি- এতে জাতি হিসেবে আমাদের নিচু মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। অথচ পিয়াস করিম ছিলেন বাংলাদেশের একজন অগ্রসর চিন্তার মানুষ।

নাগরিক স্মরণ সভাটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক মনির হায়দার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.