ঢাকা, শুক্রবার,২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভ্রমণ

এখনই বেড়ানোর সময় ‘চা কন্যা’র দেশে

জালাল আহমদ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

৩১ আগস্ট ২০১৫,সোমবার, ১৩:২৬


প্রিন্ট

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলায় প্রবেশদ্বারে অনিন্দ্য সুন্দর ভাস্কর্য ‘চা কন্যা’। সাতগাঁও চা বাগানের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ২০১০ সালে নির্মাণ করে এই ভাস্কর্য। শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো ভ্রমণের জন্য উৎকৃষ্ট। সবুজে ভরপুর চা বাগানে বেড়ানোর আসল সময় এখনই।

এসেছে শরৎ। তবে চা বাগানের বর্ষা এখনো শেষ হয়নি। মে মাস থেকে শুরু হওয়া পাতা তোলার মৌসুম এখনো চলছে চা বাগানগুলোতে। চলবে অক্টোবরের শেষ অবধি।

সাদা ধবধবে এক নারী, পিঠে ঝোলানো ঝুড়ি, কোমল হাতে তুলে চলছেন চা পাতা। ঢাকা-শ্রীমঙ্গল মহাসড়কে রশিদপুর ছাড়িয়ে একটু সামনে গেলেই এক বাঁকে এই চা কন্যার দেখা মেলে।

সাতগাঁও চা বাগানের সহায়তা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন এই ভাস্কয তৈরি করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। এর নাম ‘চা কন্যা’।

হবিগঞ্জ জেলার শেষপ্রান্তে ও মৌলভীবাজার জেলায় প্রবশদ্বারে প্রায় ২৪ ফুট উঁচু ভাস্কর্যটি সব পর্যটককে যেনো স্বাগত জানাতেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। ২০১০ সালের শুরুতে এ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন শিল্পী সঞ্জিত রায়। ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্যের পাশেই সাতগাঁও চা বাগান। পাহাড়ের গায়ে গায়ে এ চা বাগানের সৌন্দর্য অপূর্ব। চা কন্যাকে দেখে ঢুঁ মারতে পারেন এই বাগানেও। তারপর সোজা চলে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল শহরে। শহরের মৌলভীবাজার সড়ক ছেড়ে হাতের ডানে ভানুগাছ সড়ক। এ পথে কিছুটা সামনে এগোলেই সড়কের দুই পাশে মিলবে চা বাগান আর চা বাগান। এগুলো ফিনলে কোম্পানীর চা বাগান।

সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। একই পথে আরো সামান্য সামনে গেলে হাতের বাঁয়ে চা বাগানের ভেতর থেকে একটি পাকা সড়ক সোজা দক্ষিণে চা গবেষণা কেন্দ্রের দিকে চলে গেছে। এ সড়কের আরেকটু ভেতরে গেলে মাইলের পর মাইল ফিনলের চা বাগান।

লাউয়াছড়া উদ্যানে

এই বাগান ঘুরে আবারো চলে আসুন ভানুগাছ সড়কে। চলতে থাকুন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দিকে। এ পথে প্রায় ১২ কিলোমিটার সামনে এগিয়ে গেলে কমলগঞ্জ শহর। সেখান থেকে আবারো হাতের বাঁয়ের সড়কে কয়েক কিলোমিটার গেলে মাধবপুর লেক। এখানে বিশাল এক হ্রদ ঘিরে আছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানীর চা বাগান।

মাধবপুর লেকের আশেপাশের এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ বাগানের সৌন্দর্য একেবারেই আলাদা। একটু সময় নিয়ে ঘুরতে পারেন। মাধবপুর লেকের দক্ষিণ পাশের পাহাড়েও আছে চা বাগান। এ পাহাড়ে উঠে দেখে নিতে পারেন লেকের অন্যরকম সৌন্দর্য।

মাধবপুর লেক থেকে বেরিয়ে হাতের বাঁয়ে পিচঢালা পথে চলুন এবার। আঁকাবাঁকা এ পথ চলে গেছে একেবারে ধলই সীমান্তে। পথের দুই পাশে শুধুই চা বাগান। তবে এ পথের সম্ভবত সবেচেয়ে সুন্দরতম বাগানের নাম ‘শ্রীগোবিন্দপুর’। বেসরকারি মালিকানাধীন এ চা বাগান একেবারেই ছবির মতো সাজানো বলা চলে। আরো দক্ষিণে গেলে বাংলাদেশ সীমান্ত। আর সীমান্ত ঘেঁষেই আছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। এখানে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন দেশের শ্রেষ্ঠ এ সন্তানের প্রতি।

এবার একটু পেছনে এসে ইট বাঁধানো একটি পথ চলে গেছে হাতের বাঁয়ে। এ পথে চলতে প্রথমে ভয় লাগতে পারে। একেবারেই নির্জন চারপাশ। চলতে চলতে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। এটিই ধলই চা বাগান। চলতে থাকুন এ পথে। চা বাগান দেখতে দেখতে একসময় চলে আসবেন আবারও ফিনলে চা বাগানে। একেবারে শ্রীমঙ্গল শহরের পাশেই।

শ্রীমঙ্গল গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট

চা বাগান ভ্রমণ শেষে ঢুঁ দিতে পারেন ঐতিহ্যবাহী নীলকণ্ঠ কেবিনে। সাত রঙের চা ছাড়াও নানান বাহারি চা পাওয়া যায় এখানে। শ্রীমঙ্গল শহরের অনেক জায়গায় সাতরঙা চা পাওয়া গেলেও বিজিবি দফতরের পাশেই হলো আসল নীলকণ্ঠ কেবিন।

যেভাবে যাবেন :
শ্রীমঙ্গলের এ চা বাগানগুলো ভালোভাবে ভ্রমণের জন্য নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে ভ্রমণ সহজ হবে। তবে ঢাকা থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল পৌঁছে সেখান থেকেও গাড়ি ভাড়া করে চা বাগানে বেড়াতে পারেন। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্ত:নগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস।

বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস এবং শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের প্রতিদিন বিকেল ৪টায় ছাড়ে কালনি এক্সপ্রেস। ভাড়া ১১৫ থেকে ৭৬৫ টাকা।

রেলপথে সাধারণত ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। এছাড়া চট্টগ্রাম রেলপথেও সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় মিনিটে ছেড়ে যায় আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ২৩০ থেকে ৯৪৩ টাকা।

অবকাশ যাপন করবেন যেখানে :
শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা ভানুগাছ সড়কে অবস্থিত টি রিসোর্ট (০৮৬২৬-৭১২০৭, ০১৭১২-৯১৬০০১)। এছাড়া এই রাস্তায় আছে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যান্ড সুলতান গলফ এ- টি রিসোর্ট। পাঁচ তারকা মানের এ রিসোর্ট বেশ ব্যয়বহুল (০২-৯৮৫৮৮২৭, ০১৭৩০-৭৯৩৫৫২-৭)। শ্রীমঙ্গলে অন্যান্য থাকার জায়গা হচ্ছে-হবিগঞ্জ সড়কে রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০২-৯৫৫৩৫৭০, ০১৯৩৮৩০৫৭০৭) ও টি টাউন রেস্ট হাউস (০৮৬২৬-৭১০৬৫)। কলেজ রোডে হোটেল প্লাজা (০৮৬২৬-৭১৫২৫) ইত্যাদি। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে চমৎকার দু’টি রিসোর্ট হচ্ছে নিসর্গ নিরব ইকো রিসোর্ট (০১৭১৫০৪১২০৭) এবং নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রির্সোট (০১৭১৬-৯৩৯৫৪০)।

প্রয়োজনীয় তথ্য:
শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো বেড়ানোর জন্য একদিনই যথেষ্ঠ। যেকোনো চা বাগানে প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন। চা শ্রমিকদের ছবি তোলার আগেও অনুমতি নিন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫