ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল

এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন মেরামতের উদ্যোগ নেই : ১৩ কোটি টাকায় নতুন কেনার উদ্যোগ

হামিম উল কবির

০৬ আগস্ট ২০১৫,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মহাখালীতে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) ও কমপিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (সিটিস্ক্যান) মেশিন মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে নতুন মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ক্যান্সার রোগীদের রোগ শনাক্তের জন্য এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন অত্যাবশ্যক হলেও এ দুটো মেশিন দীর্ঘ দিন থেকেই অকেজো হয়ে আছে। এমআরআই মেশিনটি ক্যান্সার হাসপাতালে ২০০৮ সালে বসানো হয়। বসানোর কয়েক দিন পরই নষ্ট হয়ে যায়। সিটিস্ক্যান মেশিনটিও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নষ্ট। মেশিন দুইটি মেরামত না করে নতুন কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এ দুটো মেশিন কেনার জন্য কমপক্ষে ১৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ উদ্দেশ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ হাসপাতালে বর্তমান এমআরআই মেশিনটি উন্মুক্ত (ওপেন) পদ্ধতির। ওপেন এমআরআই মেশিনের নিচে শুয়ে টেস্ট করতে রোগীরা যেমন আরামবোধ করেন না তেমনি এটা থেকে প্রাপ্ত টেস্ট রিপোর্টও খুব সূক্ষ্ম হয় না। বাংলাদেশে কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল ২০০৪-০৫ সালেই সর্বাধুনিক ‘১.৫ অথবা ৩ তেসলা’ এমআরআই মেশিন নিয়ে আসে। তেসলা এমআরআই মেশিনের রিপোর্টও খুব পরিষ্কার আসে। এত উদাহরণ সামনে থাকা সত্ত্বেও ক্যান্সার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন পুরনো ধরনের ওপেন এমআরআই মেশিনই নিয়ে আসে। ক্যান্সার হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, কেবল নিজের পকেট ভারী করার জন্য হাসপাতালের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পুরনো মেশিন কেনেন। ফলে মেশিনটি বসানোর পরপরই অল্প কয়েক দিন পর অচল হয়ে গেছে।
ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মোয়াররফ হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানিয়েছেন, এমআরআই মেশিনটি চূড়ান্তভাবে ২০০৯ সালে অকেজো হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর এমএসডির মাধ্যমে নতুন এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন কেনার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। পুরনো মেশিনটি মেরামতের উদ্যোগ না নিয়ে কেন নতুন মেশিন কেনা হচ্ছেÑ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মোয়াররফ হোসেন বলেন, এমআরআই মেশিনটি সচল করতে হলে হিলিয়াম গ্যাসের প্রয়োজন হয়। হিলিয়াম গ্যাস কিনতে যে টাকা লাগবে তার সমপরিমাণ টাকায় একটি নতুন মেশিন কেনা যাবে। মেরামত করলে আমাদের জন্য এটা ‘কস্ট অ্যাফেক্টিভ’ হবে না। সেজন্য আমরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি নতুন এমআরআই মেশিন কেনার জন্য সুপারিশ করেছি। তিনি বলেন, ক্যান্সার হাসপাতালে যে মেশিন বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত পুরনো। এই মডেলের এমআরআই মেশিন এখন আর ব্যবহার হয় না। এখন উন্নত প্রযুক্তির মেশিন এসেছে। সে কারণে আমরা নতুন একটি মেশিন কেনার জন্য বলেছি।
ঢাকায় কর্মরত একটি টার্সিয়ারি হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, এমআরআই মেশিন চালাতে ছয় মাস অন্তর হিলিয়াম গ্যাস প্রয়োজন হয়। মেশিনে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের মূল্য কোনোভাবেই মেশিনের সমান নয়। ব্যাপারটি যদি এমনই হতো তাহলে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলো এমআরআই টেস্ট করতে পারত না। তারা একই মেশিন দিয়ে বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে। মেশিন নষ্ট হলে প্রস্তুতকারী কোম্পানির প্রকৌশলীরা মেরামত করে দেবে এটা কেনার শর্তেই থাকে। ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন এত দামী মেশিনটি মেরামত না করে নতুন কিনতে যাচ্ছে তা তারাই ভালো বলতে পারবে। ওই অধ্যাপক বলেন, ওপেন এমআরআই মেশিনটি পুরনো মডেলের এটা সঠিক। কিন্তু এ মেশিন ঢাকায় এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা: সামিউল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি চেষ্টা করেও। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ২০১৪ সালে মোট দুই লাখ তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে নিশ্চিত ক্যান্সার রোগী চিকিৎসার জন্য এসেছে ১১ হাজার ১০৮ জন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫