বেগম খালেদা জিয়া
বেগম খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করছে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অস্বীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার গোপনীয়তা প্রকাশ করে দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের একটি বড় দলের প্রধান হিসেবে তার রোগের খুঁটিনাটি সব কিছু প্রকাশ করে দিচ্ছে চিকিৎসকেরা। ‘একজন রোগী হিসেবে তার শারীরিক সব সমস্যা প্রকাশ করে দেয়া ইথিকেলি (নীতিগতভাবে) ঠিক হচ্ছে কি না’ এটা নিয়ে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তবে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন অবশ্য ‘বেগম খালেদা জিয়ার গোপনীয়তা নষ্ট হচ্ছে’ এমন কথা নাকচ করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলায় ২টায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। এর আগে গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের কাছে তাঁর অসুস্থতার খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নটি বর্তমানে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। তারা বলছেন, এতে করে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত গোপনীয় প্রকাশ করে দেয়া হচ্ছে যা চিকিৎসকেরা বেগম জিয়ার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারেন না। ‘গোপনীয়তা প্রকাশ হচ্ছে না’ এমন জবাব পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন দিলেও বিএসএমএমইউ’র অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম মানিক অবশ্য এ প্রসঙ্গে একই প্রেসব্রিফিংয়ে এ ধরনের গোপনীয়তা প্রকাশের দায়ভারটা সাংবাদিকদের উপরেই চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরাই খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের কাছে। সাংবাদিকদের জানাতেই চিকিৎসকেরা বেগম জিয়ার রোগ সম্বন্ধে কিস্তারিত জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম আরো জানিয়েছেন, অসুস্থার ডকুমেন্টটা পুরোপুরি গোপনীয় বিষয়। চিকিৎসকদের মুখ ফসকে কিছু কথা বের হয়ে গেছে, আপনারা সব ধরবেন না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের নামকরা একজন অধ্যাপক ডাক্তার জানিয়েছেন, ‘রোগীর অনুমতি ছাড়া তার গোপনীয় কোনো কিছু চিকিৎসক প্রকাশ করতে পারেন না।’ তিনি জানান, ‘যে হিপোক্রেটিক ওউথ (শপথ) পড়ে একজন মেডিক্যাল ছাত্র চিকিৎসক হন সেখানে স্পষ্ট করে এ ব্যাপারটি বলা আছে।’ তিনি আরো জানান, ‘এমনকি স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীকে স্বামীর কোনো অসুখের কথা বলা যাবে না। রোগী যদি পাগল হয় তাহলেও অন্য মানুষের কাছে রোগীর কোনো কথা বলা যাবে না রোগীর আইন উপদেষ্টাকে ছাড়া।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অধ্যাপক আরো বলেন, ‘অথবা রোগী যদি শিশু হয় (মাইনর) তাহলে কেবল রোগীর আইনগত অভিভাবককে কেবল রোগীর গোপন কথা বলা যাবে অন্য কাউকে নয়।’

মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল আল হারুন, বেগম খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি দেয়া শুরু হবে আজ (মঙ্গলবার)। তিনি জানান, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল আছে, অবনতি হয়নি।  বুধবার বিকাল ৪টার পর মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং নতুন নির্দেশনা দেবেন। তিনি আরো জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা গত রাতে (গত সোমবার রাতে) তার রোগের ইতিহাস নিয়েছেন।

উল্লেখ্য সোমবার সকালে ৯টা ২০মিনিটে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল বেগম জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন : খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি শুরু, মেডিকেল বোর্ডের সাথে সাক্ষাত বুধবার
নয়া দিগন্ত অনলাইন ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০৩

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি দেওয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার তার সাথে দেখা করবে মেডিকেল বোর্ড।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কোনো অবনতি হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) থেকে তাকে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। সকালে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধানসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম হাসপাতালে নিয়মিত রাউন্ড দিয়েছে।’

এই দলে পরিচালক আবদুল্লাহ আল হারুনসহ, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী ও আরেক সদস্য সৈয়দ আতিকুল হক ছিলেন।

আবদুল্লাহ আল হারুন আরো বলেন, ‘আগামীকাল (বুধবার) বিকেল ৪টায় মেডিকেল বোর্ডের গঠিত পাঁচ সদস্যই খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে যাবতীয় ব্যবস্থাই হাসপাতাল থেকে যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল(মঙ্গলবার) রাতে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।’

সোমবার বিএসএমএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ৩০ বছর ধরে বাতের সমস্যায় ভুগছেন। যার ফলে উনার বাঁ হাত একটু বাঁকা হয়ে গেছে। মূলত তার গেঁটে বাতটা বেড়ে যাওয়ার ফলে এসব সমস্যা বাড়ছে। বাতের কারণে খালেদা জিয়ার যেসব ওষুধ যে পরিমাণে খাওয়া দরকার ছিল, ঠিক পরিমাণে তা খাওয়া হয়নি। যার ফলে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। এ জন্য তার বাঁ হাত অবশ ও বাঁকা হয়ে গেছে।’

ডা. জলিল আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রধান সমস্যা হলো গেঁটে বাত, কোমরে ব্যথা, মাজায় ব্যথা ও হাতে ব্যথা। এ ছাড়া তার বাঁ হাত বাঁকা হয়ে গেছে কিছুটা। এ ছাড়া তিনি ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে ভুগছেন। তার গিরায় গিরায় ব্যথা আছে, হাই প্রেসারের সমস্যা আছে। হাঁটু প্রতিস্থাপন করার কারণে হাঁটুতেও সমস্যা আছে। সেটিও কিছুটা বেড়েছে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাঁকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.