২০২২ সালের পর টিকে থাকবে না ইসরাইল!
২০২২ সালের পর টিকে থাকবে না ইসরাইল!

২০২২ সালের পর টিকে থাকবে না ইসরাইল!

ফরেন পলিসি জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক পোস্ট

ইসরাইল এখন অনেক দুর্বল ও অনিরাপদ। ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বহু ইসরাইলি নাগরিক উদ্বিগ্ন ও সন্দিহান। ভেতর থেকেই ইসরাইলের ধ্বসে-পড়া এবং ধ্বংস ও বিলীন হওয়ার কথা ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হচ্ছে। এসবই প্রমাণ করে- ইসরাইলের যুদ্ধে জেতার দিন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ইসরাইল যুদ্ধ বাধালে সে যুদ্ধ তার ইচ্ছায় শেষ হবে না। আর যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত ও দীর্ঘায়ত হয় তাহলে ইসরাইল ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে এবং তা ইসরাইলের অস্তিত্বকেই করবে হুমকিগ্রস্ত।

২০১৩ সালের  ১২ মার্চ Holiday পত্রিকায় মার্কিন লেখক Kevin Barrett প্রণীত 'Kissinger, US intelligence endorse a world without Israel' – এ প্রবন্ধে বলা হয়েছে: কতিপয় সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রাক্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ হেনরি কিসিঞ্জার এবং আরো ষোলটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা একমত প্রকাশ করেছেন যে অতি নিকট ভবিষ্যতে ইসরাইল আর টিকে থাকবে না।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ কিসিঞ্জারের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে- দশ বছরের মধ্যে ইসরাইল আর থাকবে না। অর্থাৎ কিসিঞ্জারের মতে ২০২২ সালে ইসরাইল আর বিদ্যমান থাকবে না। কিসিঞ্জারের মতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদিও নির্দিষ্ট করে সময়-সীমার কথা উল্লেখ করেনি কিন্তু তারা ( ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থা ) ৮২ পৃষ্ঠার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে এ শিরোনামে:  একটি ইসরাইলোত্তর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রস্তুতি ( Preparing for a Post-Israel Middle East )  

১৬টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা একমত যে, ইসরাইল আরব বসন্ত, ইসলামী জাগরণ এবং  ইরানের উত্থানের সমম্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনপন্থী  ভবিষ্যৎ শক্তিকে  মোকাবেলা  ও প্রতিহত করতে পারবে না। 

ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী  ২০১৬ সালে বলেছিলেন: আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। ইসরাইল যদি (ইরানকে আক্রমণ করার মতো ) কোনো ভুল বা অন্যায় করে বসে তাহলে আমরা তেল আবিব এবং হাইফা নগরীকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।

২০০৭ সালের ১২ ডিসেম্বরে ইসরাইলী  সংবাদপত্র ইয়েদিঔত আহারোনৌত ynet news.com/ opinion : Gabi Sheffer-প্রণীত 'We won’t win in Gaza' তথা 'আমরা গাজায় কখনো জিততে পারব না' শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছে: আইডিএফ তথা ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ৩০ বছরে একটি যুদ্ধেও জেতেনি। বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে গাজা পুনর্দখল করা হলে তা যুদ্ধ জেতার মতো এক  অলীক ধারণার দিকে পরিচালিত করবে।

 

ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যর্থতায় উদ্বিগ্ন ইসরাইল
হারেৎজ ও চ্যানেল ১০, ২৬ জুলাই ২০১৮

বার বার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যর্থতায় উদ্বিগ্ন ইসরাইল। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ইসরাইলের সেনাবাহিনীর পর্যুদস্ত হয়ে পড়া মেনে নিতে পারছে না দেশটির নাগরিকরা। 'ডেভিড স্লিং' ও 'আয়রন ডোম' এর ব্যর্থতার পর  প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে দেশটির নীতিনির্ধারকরা। ক্রমাগত ব্যর্থতায় হতাশা ভর করছে সেনাদের মাঝেও। তবে সামরিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে আরো অত্যাধুনিক করতে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে দেশটি।

ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'ডেভিড স্লিং' সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। অধিকৃত গোলান মালভূমিতে মোতায়েন এই ব্যবস্থাকে সোমবার প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১০ এ খবর দিয়েছে।

টিভি চ্যানেলর খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়া থেকে ইসরাইলে 'তুশকা' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই ডেভিড স্লিং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কাজ শুরু করে। সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য দু'টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু এর একটিও সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত হানতে পারেনি।

এই প্রথম ইসরাইল 'ডেভিড স্লিং' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে ইসরাইলি টিভির খবরে বলা হয়েছে। এর আগে ইসরাইলের 'আয়রন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বারবারই ফিলিস্তিনি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসরাইলের দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে গাজায় ৫০ দিনের যুদ্ধে অধিকৃত ইসরাইল লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনিরা তিন হাজার ২৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে মাত্র ৫৫৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পেরেছিল ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আয়রন ডোম'।

নেতানিয়াহুর ব্যর্থতায় আতঙ্কে ইসরাইল
ডয়চেভেলে ও রয়টার্স, ০৬ জুন ২০১৮

ইরান চুক্তি বাতিলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ সফর করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জার্মানি সফর করেছেন। কিন্তু পরমাণু চুক্তি বাতিল নিয়ে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সোমবার নেতানিয়াহু মার্কেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মার্কেল তাকে জানিয়ে দেন ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিতে থাকছে জার্মানি। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় জাতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি করে ইরান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার জন্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি হুমকিস্বরূপ। ইরান এখনো ইসরাইলকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। 

নেতানিয়াহু প্যারিসে পৌঁছে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে দেখা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তি স্বাক্ষরিত দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের নীতি অনুসরণ করতে আহ্বান জানান। তিনি ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চুক্তি বাতিলের কথা বলেন।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি চুক্তি অনুযায়ী তা বন্ধ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তিন ইউরোপীয় রাষ্ট্র। এখনই সময় তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরি বন্ধ করতে।

কিন্তু ইসরাইল বলছে, যে ইরান পশ্চিমা দেশকে ঘৃণা করে এবং ইরান তার পরমাণু পরিকল্পনা ফেরার আগেই আর্থিক রিজার্ভ ফিরে পেতে নিষেধাজ্ঞা বিরতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।

নেতানিয়াহু টুইটারের ভিডিও দেখিয়ে বলেন, ইরানের নেতা আয়াতুল্লা খামেনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার ইচ্ছা ইসরাইলকে ধ্বংস করা। সে কীভাবে ধ্বংস করবে তার বর্ণনা বলেছে, ইউরেনিয়ামের আর্সেনাল দ্বারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করে করবে। আমরা বিস্মিত নই, আমরা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সমর্থন করি না।

রোবাবার খামেনির পুরাতন টুইটবার্তা টেনে বলেন, ইসরাইল একটি মারাত্মক ক্যানসার টিউমার। এটাকে উপড়ে ফেলতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.