কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের প্রতিক্রিয়া

‘ট্রাম্প দেশে ফিরার আগেই চুক্তি বাতিল হতে পারে’

বিবিসি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের মধ্যে ‘দারুণ ভালো’ আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে কিম জং উন পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার অঙ্গীকার করেছেন।

দুই নেতার স্বাক্ষরিত দলিলে কিম কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এর পর এক নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এমন কিছু খুঁটিনাটি প্রকাশ করেন - কাগজপত্রে যার উল্লেখ নেই।

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক একান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন পরীক্ষা ক্ষেত্র’ ধ্বংস করতে রাজি হয়েছেন, এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক মহড়া চালানো বন্ধ করবে। তিনি এসব যুদ্ধের মহড়াকে ‘ব্যয়বহুল এবং উস্কানিমূলক’ বলেও বর্ণনা করেন।

কেউ কেউ অবশ্য এই মহড়া বন্ধের অঙ্গীকারকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিয়েছে’ বলে চিত্রিত করতে চাইছেন। তবে এই প্রথম ক্ষমতাসীন অবস্থায় কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উত্তর কোরিয়ার নেতার বৈঠক হলো - যারা কিছুকাল আগেও পরস্পরের উদ্দেশ্যে অপমানকর ব্যঙ্গবিদ্রুপ ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন।

শীর্ষ বৈঠকের মূল বিষয় ছিল: পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং উত্তেজনা হ্রাস। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয় - দুই দেশ নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করবে, এবং যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে। কিম কোরিয়ান উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ রূপে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার জন্য তার অবিচল এবং দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কিভাবে এটা করা হবে তা স্পষ্ট করা হয় নি বলে কোন কোন বিশ্লেষক মতামত দিয়েছেন।

তাদের কথা : মাত্র দেড় পৃষ্ঠার এই দলিলটি অস্পষ্ট এবং ‘এর ভেতরে কিছু নেই।’

তবে পরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পরমাণূ অস্ত্র ত্যাগের ব্যাপারটি যেন যাচাই করে দেখা যায় - তাতে কিম রাজী হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আপাতত: বলবৎ থাকবে, তবে কিম অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে পরে তা তুলে নেয়া হতে পারে।

এই বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, এর মধ্যে দিয়ে শীতল যুদ্ধের যুগের শেষ সংঘাতের অবসান হলো। একে আরো স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়া এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এখন উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা যেতে পারে। তবে ইরান বলেছে, এমনও হতে পারে যে ট্রাম্প দেশে ফিরে যাবার আগেই এ চুক্তি বাতিল করে দিতে পারেন।

আরো পড়ুন : দ্বিপক্ষীয় দলিলে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প-কিম
স্কাই নিউজ, স্ট্রেইটস টাইমস ও বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দুইজনই একটি দ্বিপাক্ষিক ‘সমন্বিত’ দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই দলিলটি দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি নাকি দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপনের চুক্তি সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেল্লা হোটেলে বিরল এক বৈঠকের ওই নথিতে স্বাক্ষর করেন কিম-ট্রাম্প। এসময় ট্রাম্প বলেন, আমরা একসাথে অত্যন্ত ভালো একটা সময় পার করলাম। শিগগিরই এই চুক্তির ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দলিলটি স্বাক্ষর করার পর বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে আমরা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিলে স্বাক্ষর করেছি। তবে দলিলে কী আছে সেটা না বলে তিনি জানান, এটা সমন্বিত একটি দলিল। আপনারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দেখতে পারবেন। মানুষ খুব খুশি হতে যাচ্ছে।

বিবিসি বলছে, দুই নেতা ঠিক কি বিষয়ের নথিপত্রে স্বাক্ষর করলেন তা জানা না গেলেও বলা হচ্ছে এটি ঐতিহাসিক ও সুসংহত।

ট্রাম্প-কিমের যৌথ ঘোষণার চারটি মূল পয়েন্ট চিহ্নিত করেছেন বিবিসি- ১. দুই দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া নিজেদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেছে। ২. কোরীয় উপদ্বীপে টেকসই এবং স্থিতিশীল শান্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া একসাথে কাজ করবে। ৩. চলতি বছরের ২৭ এপ্রিলের পানমুনজোম ঘোষণা পুনর্নিশ্চিত করে কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিশ্রুতি। ৪. যুদ্ধবন্দীদের উদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই যা সনাক্ত করা হয়েছে তা অবিলম্বে পুনর্বাসনের অন্তর্ভুক্ত করাসহ উভয় দেশই পিওএম বা এমআইএ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে।

কিম ও ট্রাম্প দুইজনই স্বাক্ষর করে দলিলটি বিনিময়ের পর পরস্পরের সাথে করমর্দন করেন। কিম বলেন, আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্ব একটি বড় পরিবর্তন দেখতে যাচ্ছে। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই মিটিংটি সম্ভব করে তোলার জন্য। সারা পৃথিবীর মানুষ এ মুহূর্তে আমাদের দেখছে। পৃথিবীর অনেক মানুষই হয়তো ভাবছে, এটা কল্পকাহিনী, বিজ্ঞান কল্পবাহিনীর চলচ্চিত্র।

স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে দুপক্ষের আলোচনার ফলাফল জানানো হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) এ ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উন এক দ্বিপাক্ষিক দলিলে স্বাক্ষর করেন।

ঐতিহাসিক বৈঠকের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করতে গেছে। শরীরী ভাষা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এমনই জানাচ্ছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক শরীরী ভাষার ওপর বিশেষায়িত ইনফ্লুয়েন্স সলিউশনস নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কারেন লেয়ং বলেন, সাক্ষাতের প্রথম ৬০ সেকেন্ডে দেখা গেছে, দুই নেতাই নেতৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁদের করমর্দন সমকক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। ট্রাম্পকে এ ব্যাপারে খুব সচেতন থাকতে দেখা গেছে। তাঁর কথাবার্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হোক, তা তিনি চেয়েছেন এবং বৈঠকের নেতা তিনিই, তা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।’

কথাবার্তার বেশির ভাগই ট্রাম্প বলেছেন এবং কিমকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা গেছে। ডোনাল্ডের কাঁধ চাপড়ে দিতে দেখা গেছে কিমকে। এটা অপর পক্ষের ওপর নিজের প্রভাবকে বোঝায়।

কিমের চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী ট্রাম্প হোটেলের লাইব্রেরির দিকে পথ দেখিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতাকে নিয়ে গেছেন। সেখানে একান্তে বৈঠক করেছেন। পথ দেখানোর সময় কিমের পিঠে হাত রাখেন ট্রাম্প।

শরীরী ভাষার বিশেষজ্ঞ লিয়ং আরো বলেন, বসে থাকার সময় দুই নেতার স্নায়বিক দুর্বলতা ঢেকে রাখা কঠিন ছিল। ট্রাম্পের ছিল তির্যক হাসি, হাত উশখুশ করছিল এবং কিম ঝুঁকে ছিলেন ও মেঝের দিকে তাকিয়েছিলেন। কিম কথা বলছেন দোভাষীর সাহায্যে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রথম মিনিটেই তিনি বুঝতে পারবেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা আসলে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে মনোযোগী কি না।

সকালে সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে ট্রাম্প ও কিম বৈঠকে বসেন। পরে তাঁরা আলোচনার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.