ক্রিস হার্বার্ট 
ক্রিস হার্বার্ট 

ইসলামভীতির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সেনার মর্মস্পর্শী পোস্ট

ইন্ডিপেন্ডেন্ট

ইসলামভীতি ছড়ানোর বিপদ সম্পর্কে একজন ব্রিটিশ সেনার একটি মর্মস্পর্শী অনলাইন পোস্ট অনেকের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরাক যুদ্ধে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের হয়ে অংশ নিয়ে ওই সেনা তার পা হারিয়েছেন। ওই সেনার নাম ক্রিস হার্বার্ট। ২০০৭ সালে ইরাকের বসরা নগরীতে তার ল্যান্ড রোভারের পাশেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি আহত হন। পরে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। ওই হামলায় লুক সিম্পসন নামে তার একজন ঘনিষ্ঠ সহচর নিহত হন।

ওই হামলার সময়ে হার্বার্টের বয়স ছিল মাত্রই ১৯ বছর এবং এটি অনিবার্যভাবে তার জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার মাধ্যমে যারা তাকে আহত করেছে তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে তার মনে কোনো ঘৃণা জাগেনি। ২০১৫ সালে পোস্ট করা এক বার্তায় হার্বার্ট লিখেছিলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণে আমি আমর পা হারানোয় কিছু লোক আমার কাছ থেকে বর্ণবাদ আশা করছিলেন। কিন্তু আমার কাছ তা না পাওয়ায় তারা হতাশ হচ্ছেন। আমি তাদের বলছি : হ্যাঁ, একজন মুসলিম পুরুষের বোমা হামলায় আমি আহত হয়েছি এবং আমি আমার পা হারিয়েছি। সে দিন ব্রিটিশ সেনার ইউনিফর্ম পরিহিত একজন মুসলিমও তার হাত হারিয়েছিল। একজন মুসলিম চিকিৎসা সহায়তাকর্মী আমাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে দিয়েছিল। একজন মুসলিম সার্জন আমার অস্ত্রোপচার করেছিলেন, ফলে আমার জীবন রক্ষা পায়। 

তাদের টিমে একজন একজন মুসলিম নার্স ছিলেন। আমি যখন যুক্তরাজ্যে ফিরে আসি, তখন তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন। একজন মুসলিম হেলথ কেয়ার সহকারী সেই দলটির অংশ ছিলেন, যিনি কৃত্রিম পা দিয়ে আমাকে হাঁটতে শেখাতে সাহায্য করেছিলেন। দেশে ফিরে আসার পর প্রথমবারের মতো বাবার সঙ্গে বিয়ার পান করতে বাইরে গেলে একজন মুসলমান ট্যাক্সিচালক বিনা মূল্যে আমাকে তার ট্যাক্সিতে সুযোগ দিয়েছিলেন। বারে গেলে একজন মুসলিম ডাক্তার আমার বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আমার চিকিৎসা সম্পর্কিত বিভিন্ন ওষুধ ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আপনি একজন নারী বা পুরুষের অপকর্মের জন্য তার সমগ্র জাতিকে ঘৃণা করতে পারেন। কিন্তু আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি আমার ওপর চাপিয়ে দেবেন না।’

‘আইএস ও তালেবানের মতো গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের জন্য সব মুসলমানকে দোষারোপ করা হচ্ছে, এটা কেকেকে বা ওয়েস্টবোরো ব্যাপ্টিস্ট চার্চের কর্মকাণ্ডের জন্য সব খ্রিষ্টানকে দোষারোপ করার মতো।’ কু ক্লাক্স ক্লানকে সংক্ষেপে কেকেকে বলা হয়। আন্দোলনে জড়িতরা আমেরিকার সমাজব্যবস্থাকে ‘বিশুদ্ধ’ করার নামে অত্যাচার করেছিল। ক্রিস হার্বার্ট যে বাক্যটির মাধ্যমে শেষ করেন তাহলো : ‘আপনার জীবনকে ভালোবাসুন, আপনার পরিবারকে আলিঙ্গন করুন এবং কাজে ফিরে যান।’ তার এ পোস্টটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল এবং হার্বার্টের পোস্টের পর এটি এক লাখ ২৫ হাজার বার শেয়ার হয়েছিল। জেকে রাউলিংয়ের মতো সেলিব্রিটিও এটি শেয়ার করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ওপর তার নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে : রুহানি
আলজাজিরা

পুরো বিশ্বের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চাপিয়ে দেয়ায় দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। গতকাল চীনের উপকূলবর্তী কিংদাও শহরে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে রুহানি আরো বলেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা বিশ্বের বাকি দেশগুলোর ওপর বিশাল হুমকির সৃষ্টি করেছে।


সম্মেলনে রুহানি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ হচ্ছে ২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট এবং ইরান এই জোটের পর্যবেক্ষক হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার এবং ইরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই এই পরমাণু চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালানোর কারণে চীন ও রাশিয়ার প্রশংসা করেন রুহানি।
পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসায় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শান্ত পরিস্থিতিকে কঠিনভাবে অস্থিতিশীল করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। পুতিন বলেন, ইরানের সাথে চুক্তিকারী দেশ হিসেবে রাশিয়া এই চুক্তিকে সম্মান করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মস্কো এই চুক্তির বাস্তবায়নের পক্ষেই রয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.