বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সাংবাদিক নেতারা
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সাংবাদিক নেতারা

৩৭ বছরে মিডিয়ার তেমন সহযোগিতা পাইনি : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সব কিছু নেতিবাচক লেখার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের কল্যাণে যা কিছু তা ইতিবাচক লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৩৭ বছরের দায়িত্ব পালনকালে মিডিয়ার কাছ থেকে আমি তেমন সহযোগিতা পাইনি এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আমাকে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু এতে আমার মাথাব্যথা ছিল না। কারণ আমি জানি, আমি কী করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্য ও সততার পথে থাকলে অবশ্যই ভালো ফল পাওয়া যায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে কোনো মিডিয়া টিকে থাকতে পারে না। আমাদের এ অসুস্থ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং কোনো রকম ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সত্য তুলে ধরতে হবে।


আমরা দেশের জন্য কোনো কিছু করলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা উচিত। এটা আমার বা আমার দলের স্বার্থে নয়; বরং দেশের স্বার্থে।’


প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতীয় প্রেস কাবে বিএফইউজে, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।


তিনি বলেন, প্রতি ১৫ দিন পর পর আমরা বিভিন্ন দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরিবেশিত সংবাদ সংগ্রহ করছি। এতে দেখা যায়, আমাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বেশির ভাগ নেতিবাচক সংবাদ এবং ইতিবাচক সংবাদ খুবই দুর্লভ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মিডিয়ার সব সময় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। দেশকে এগিয়ে নিতে জনকল্যাণ ও জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে।


তিনি বলেন, বিশ্বের প্রত্যেক দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগের নীতিমালা রয়েছে।


শেখ হাসিনা বলেন, একশ্রেণির সংবাদপত্র আছে যারা ২০০১ সালের পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপি-জামায়াত যে নির্যাতন চালিয়েছিল এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছিল তা প্রকাশ করতে চায় না। তবে তিনি সেসব সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ দেন, যারা সেই সময় তার পাশে ছিলেন এবং ওই সময়ে জনগণকে পরিস্থিতি অবহিত করার সাহস জুগিয়েছিলেন।


নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে দুইটি সংবাদপত্রের সমালোচনা করেন, যেগুলোকে তিনি হঠকারী সাংবাদিকতার জন্য অপছন্দ করেন এবং গণভবনেও রাখেন না। তিনি বলেন, এই সংবাদপত্র দুইটি আমার কাছে মূল্যহীন। আমি জনগণের জন্য কী করছি, আমার কাজের মাধ্যমেই তা দৃশ্যমান হবে।


প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশা প্রকাশ করেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অন্যান্য সরকারের শাসনামলের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে জনগণই বুঝতে পারবে তার সরকার এবং অন্যান্য সরকারের মধ্যকার পার্থক্য।


বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় ফেডারেশনের দশ জেলা ইউনিটের সভাপতিরা বক্তব্য রাখেন এবং সাধারণ সম্পাদকেরা প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করেন।


শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষুকের জাতি নয়। কারণ তার সরকার সর্বদা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, যার ফলে মাথাপিছু আয় এখন এক হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।


তিনি এ সময় জনগণের উন্নয়ন এবং তাদের কল্যাণে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে তা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।


একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে থাকবে।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম বার্ষিক সভায় বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার স্বতন্ত্র নীতি আছে।


তিনি বলেন, ওই নীতিমালার কথা মনে রেখে যদি আমরা কাজ করি তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।


বাংলা ট্রিবিউন আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলে আসছে। খুব কম গণমাধ্যমই আছে যারা সরকারের পজিটিভ বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ করে। নেগেটিভই বেশি। আমরা কারো কাছে দয়া-দাণ্যি চাই না। এটুকু দাবি করতেই পারি, আমরা যদি ভালো কাজ করি তা যেন ভালো করে প্রচার করা হয়। আমার স্বার্থে না, দলের স্বার্থে না, দেশের স্বার্থে এটা করবেন।’


তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কথা লিখেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম দুর্নীতি প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু পরে তো কোনো দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। এসব মিথ্যা কথা বলা কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা? যারা এটা বলেছিল তাদের কী করা উচিত আপনারাই বলুন। এখন আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি।’


অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা হওয়া উচিত। সাইবার ক্রাইম নীতিমালা করছি ক্রাইম রোধ করার জন্য। আমি সাংবাদিকদের বলতে চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’


তিনি বলেন, ‘আমরা সাধ্য মতো সাংবাদিকদের সাহায্য করে থাকি। আমরা ১২ হাজারের বেশি সাংবাদিককে প্রশিণ দিয়েছি। আমরা ৯টা ভাষা দিয়ে অ্যাপ তৈরি করেছি। বিভিন্ন ভাষা শেখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদকর্মীরা যারা আমাদের পাশে রয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। দাবি-দাওয়া ছাড়াই আমি কাজ করে দিয়েছি।’


প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি, জনগণের ভোটের অধিকার আমরাই ফিরিয়ে এনেছি। এই দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র আছে বলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম হয়েছি। আমরা চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দেয়ার সমতা অর্জন করেছি। দুর্নীতি নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করেছিল। কিন্তু কেউ আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি। এ একটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক েেত্র বাংলাদেশের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলব না। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি।’


বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎপেণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আকাশ বিজয় করেছি।

স্যাটেলাইট সম্পর্কে অনেকে বলেছেন, রকেট উড়ল, আমরা কী পেলাম। কিন্তু এর মাধ্যমে যে কী ধরনের উন্নয়ন হবে তা বোঝার সাধারণ জ্ঞান যদি তাদের না থেকে তাহলে তাদের দিয়ে এ দেশ কিভাবে চলবে আমার বোধগম্য নয়।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.