বার কাউন্সিল নির্বাচন বাতিলের দাবি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। একইসাথে এই নির্বাচনে দুর্নীতির জন্য বার কাউন্সিল নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগও দাবি করেছেন সংগঠনটির মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বারের সহসভাপতি এম গোলাম মোস্তফা এবং আইনজীবী ওয়ালিউর রহমান খান, আবেদ রাজা, রফিকুল হক তালুকদার রাজা প্রমুখ।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট দেয়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও সারা জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোর কোথাও নির্বাচনী এজেন্টদের শিট দেয়া হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেআইনি। আমরা বার কাউন্সিল নির্বাচনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল করে আবার নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা সংশ্লিষ্ট বারের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ভোট প্রয়োগের বিধান আছে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল সংশ্লিষ্ট বারের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোটারদের ভোট প্রদানের কোনো নির্দেশ প্রদান করেননি। বেশ কয়েকটি বারে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে কোনো ধরনের পরিচয়পত্র না দেখিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটদানের সুযোগ করে দিয়েছেন, যার ফলে প্রকৃত আইনজীবীরা ভোট প্রদানে বঞ্চিত হয়েছেন এবং অন্য দিকে আইনজীবী নন এমন অনেকে ভোট দিয়েছেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৯ হাজার ৯২। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোটকেন্দ্রে ভোটার করা হয়েছে মাত্র ৮৫৩ জনকে। শত শত আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোটকেন্দ্রে গত ১৪ মের নির্বাচনে তাদের অনুমতি বা অনুরোধ ছাড়াই ভোটারতালিকা জেলা বারের ভোটকেন্দ্রে স্থানান্তর করায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারেননি। এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তাদের ভোট ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন নি¤œ আদালতের ভোটকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেলকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প থেকে গত ১০ মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
অবিলম্বে বার কাউন্সিল নির্বাচনের দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্ত করে দায়ী ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
তবে এর পরপরই একই স্থানে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান শ ম রেজাউল করিম বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভয়াবহ পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচতে আমাদের প্রতিপ অনাহূতভাবে একটি ধূ¤্রজাল তৈরি করতে অসত্য ভিত্তিহীন কথা বলছে। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি।
গত ১৪ মে সারা দেশের ৭৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই আলাদা করে কেন্দ্রগুলো থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই তথ্যানুসারে নির্বাচিত ১৪টি পদের মধ্যে ১২টি পদ পায় আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা। অন্য দিকে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা মাত্র ২টি পদে জয়লাভ করে। তবে এই ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.