নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পত্তিই কাল হয়েছে বৃদ্ধ আবদুর রহমানের জীবনে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পত্তিই কাল হয়েছে বৃদ্ধ আবদুর রহমানের জীবনে। এই সম্পদ হাতিয়ে নিতে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। যে ভাইবোনদের কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন সেই ভাইবোনরা মিলে আবদুর রহমানের সব সম্পদ ইতোমধ্যেই গ্রাস করেছে। এখন আবদুর রহমানের শেষ সম্বল নবাবপুর রোডের বাড়িটিও কেড়ে নিতে চায়। তা দিতে রাজি না হওয়ায় আবদুর রহমানকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দিয়েছে ভাইবোন ও তাদের ভাড়াটে গুণ্ডারা। পুলিশ আবদুর রহমানের মামলা না নিয়ে উল্টো তার ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।


ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর নবাবপুর রোডে। বৃদ্ধ আবদুর রহমান ওই এলাকার ১৭ নং বাড়িটির মালিক। গত মঙ্গলবার ওই পরিবারের ওপর হামলা চালানো হলে আবদুর রহমান, তার স্ত্রী মনি রহমান এবং ছেলে শাওন আহত হন। পরে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন।
আবদুর রহমান ও তার স্ত্রীর অভিযোগ, ঘটনার পর তারা একাধিকবার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মামলা করতে পারেননি। পুলিশ উল্টো হামলাকারীদের মামলা নিয়ে সেই মামলায় তাদের সন্তান শাওনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। দুই মামলায় দুই পক্ষের ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


হাত, মাথা ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম নিয়ে গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আসেন বৃদ্ধ আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী মনি। আবদুর রহমান বলেন, এক সময় তার মামা খুব অসুস্থ ছিলেন। তার সেবা-যতœ করার মতো কেউ ছিল না। তিনি মামার সেবা করতেন। মামা মারা যাওয়ার সময় উত্তরাধিকার না থাকায় তাকে সম্পত্তি (বাড়ি ও জমি) দিয়ে যান। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। স্ত্রী মনি, তার দুই সন্তান এবং আগের ঘরের দুই সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ভাই কেনান, বোন সেতারা প্রায়ই সম্পত্তির ভাগ চাচ্ছিল। তাদের বলেছি, তৃতীয় তলাবিশিষ্ট ভবনটি আরো কয়েক তলায় বৃদ্ধি করে সবাইকে একটি করে ফ্যাট দিব। কিন্তু তারা তা মানছে না। গত মঙ্গলবার দুপুরে কেনান, সেতারা, তাদের মেয়ে জামাই আহাম্মদ, ছেলে আসলাম ও সালাম, ভাতিজা মিলটন, ভাতিজী সুমি, সুমির মা মেরী আমাদের ওপর হামলা চালায়। রড, হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়ে তাদের জখম করে। তার দুই হাত ভেঙে দেয়, আঘাতে দাঁত পড়ে যায়। তার স্ত্রী ও ছেলেকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
আহত মনি রহমান বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে বংশাল থানায় গেলে পুলিশ বলে, আপনারা তো আহত। আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। আমরা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে থানায় যাই। কিন্তু থানা মামলা না নেয়ায় মিন্টু রোড ডিবি কার্যালয়ে যাই। তারা আবার থানায় পাঠায়। তখন পুলিশ মামলা নিবে বলে বসিয়ে রাখে। সন্ধ্যার পর ছেলে শাওন ও মেয়ে শ্রাবনকে মামলা করতে থানায় রেখে তারা আবার হাসপাতালে যান। এই ফাঁকে হামলাকারীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ তাদের মামলা নিয়ে থানায় বসে থাকা শাওনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আতঙ্কে আহতাবস্থায় তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।


জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি সাহিদুর রহমান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলা করেছে। মামলা নং ৩১, ৩২। তার দাবি, আবদুর রহমানের ছেলে শাওন বাদি হয়ে মামলা করেছে। সেই মামলায় শওকত আলী, কেনান, সেতারা, আসলাম ও সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর শওকতদের মামলায় শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই মামলায় গ্রেফতার সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মনি বলেন, তার স্বামীর আরো সম্পদ ছিল। ওই সম্পদ সব লিখে নিয়ে গেছে ভাইবোনরা মিলে। এখন ওই বাড়িটুকুও কেড়ে নিতে চায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.