ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন শুক্রবার
ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন শুক্রবার

ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন শুক্রবার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান শুক্রবার ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন ডেকেছেন। সম্মেলন শেষে বেলা তিনটার দিকে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুল শহরে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সীমান্তে ইসরাইলি সেনাদের হাতে ৬০ ফিলিস্তিনি শহীদ হওয়ার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

তিনি জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আঙ্কারা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন ডাকবে। মুসলিম দেশগুলোর উচিত- কোনো  ব্যর্থতা ছাড়াই ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক পর্যালোচনা করা। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমস্বরে এগুতে হবে।

মঙ্গলবার জেরুসালেম শহরে আমেরিকার দূতাবাস উদ্বোধন উপলক্ষে গাজা সীমান্তে শান্তিপূর্ণ ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় আঙ্কারা।

 

ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত করতে চায় : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, আতঙ্কের বীজ বপন করে তেল আবিব গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলা অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন। ইসরাইলি বিমান হামলায় সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে।

এরদোগান বলেছেন, ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। মুসলিম বিশ্ব জেরুসালেম হারাবে তুরস্ক তা কখনও সহ্য করবে না। তেলআবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে জেরুসালেমে নেয়ার পদক্ষেপের পরিণতি হবে ভয়াবহ। জেরুসালেম ইসরাইলের নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া সত্ত্বেও পূর্ব জেরুসালেম হবে ফিলিস্তিনের রাজধানী।

এরদোগান বলেছিলেন, মানবতার কল্যাণের জন্য নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র মানুষ হত্যার পেছনে অর্থ ব্যয় করছে । সিরিয়ার কুর্দিদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্র তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। মার্কিন অস্ত্রভর্তি হাজার হাজার ট্রাক ও কার্গো বিমান সিরিয়ায় গেছে। এসব অস্ত্র অবশ্যই তুর্কি সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। যখন আমরা এ সম্পর্কে কথা বলি তখন তারা বলে অস্ত্র ফেরত নেয়া হবে। তাদের অস্ত্র পিকেকে গেরিলাদের হাতে পড়েছে। একই কথা আমরা ইরাকের ক্ষেত্রেও শুনেছি।তারা যে অর্থ মানুষ হত্যার পেছনে ব্যয় করছে তার দশভাগের একভাগও যদি মানবতার কল্যাণে ব্যয় করা হতো তাহলে কোনো প্রশ্ন উঠত না।

এরদোগান বলেছিলেন, সব ধরনের মন্দ কাজের মা-বাবা সুদ। এজন্য সুদের নিম্ন হার নির্ধারণের জন্য দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান নাচ্ছি। জনগণ যদি চায় তাহলে আমি সুদের হারের এই অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামব এবং ইনশাল্লাহ জয়লাভ করব। কারণ আমার বিশ্বাস- সুদ হচ্ছে সব খারাপের মা-বাবা।

এরদোগান বলেছিলেন, ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো সিরিয়ার শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে না। অথচ তুরস্ককে ৩৫ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হয়েছে। তিনি সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা এসে বলল, ওখানে রাসায়নিক অস্ত্র আছে। আর তারপর হামলা চালালো। রাসায়নিক অস্ত্রের তুলনায় ঢের বেশি মানুষ মারা গেছে প্রচলিত অস্ত্রের কারণে।

এরদোগান প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমি জানতে চাই, আপনারা শুধু রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে কেন খোঁজ করেন? আপনারা প্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহার খতিয়ে দেখছেন না কেন? রাসায়নিক অস্ত্রে যদি একজনের মৃত্যু হয়ে থাকে হয়ে থাকে, তাহলে প্রচলিত অস্ত্রের কারণে সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইচ্ছামতো দেশগুলোর ওপরে চালানো বোমাবৃষ্টি এবং ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ বন্ধ করে আসুন বিশ্ব শান্তি নিশ্চিতে একটি নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.