ইসলামের সঠিক পরিচিতি রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : রুহানি
ইসলামের সঠিক পরিচিতি রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : রুহানি

ইসলামের সঠিক পরিচিতি রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : রুহানি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, সহিংসতা ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় ভারসাম্যতার ধর্ম ইসলামের সঠিক পরিচিতি রক্ষায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবেলায় শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পবিত্র রমজান মাসে সৎ চিন্তাশীল মানুষদের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হবে এবং এক আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইতোপূর্বে রুহানি বলেন, ‘আমাদের পথ পরিষ্কার। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইরানের মহান ও সাহসী জাতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।ইরানি জাতি  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ভয় করে না এবং তাদের কাছ থেকে আসা হুমকিগুলোকেও পাত্তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি আরো বলেছিলেন,  প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ‘আগ্রাসান চালানোর কোনো ইচ্ছে’ ইরানের নেই। তবে ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অস্ত্র তৈরি করবে। আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছি, প্রয়োজনীয় যে কোনো অস্ত্র আমরা তৈরি করবো। প্রয়োজনে আমরা এগুলো সংগ্রহ করবো। আমরা আর অপেক্ষা করবো না। কারো অনুমোদন বা চুক্তির আশায় আমরা বসে থাকবো না।  ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য আমরা কারো অনুমতি নেব না এবং এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা করব না।

তিনি আরো বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায়। কোনো দেশ বা ব্যক্তি যদি ইয়েমেনের জনগণের কল্যাণ চিন্তা করতে চায় তাহলে তাদের উচিত হবে ধ্বংসাত্মক বোমা ফেলা বন্ধ করা। একইসঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে থাকা দরিদ্র মানুষগুলোর কাছে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহের অনুমতি দিতে চাপ সৃষ্টি করা। ইরানের ক্ষতি করতে গিয়ে আমেরিকা নিজেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং ইউরোপসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আমেরিকার এসব তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছে। 

রুহানি বলেন, স্বাধীন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। দেশের স্বাধীনতা মানেই কেউ ইরানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। যদি ইরানের জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয় তারা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন নাকি বিদেশীদের ওপর নির্ভর করবেন -তাহলে শতকরা ৯৮ ভাগের বেশি মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে জবাব দেবেন। আমাদের জনগণ ইসলামি বিপ্লবের পথ অনুসরণ করা অব্যাহত রাখবেন যা তারা আগেই বেছে নিয়েছেন। স্বাধীনতা অর্জন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মুক্তি অর্জন, ইসলামি ও জাতীয় সংস্কৃতির বিস্তার এবং ইসলামের আলোকে জনগণের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ইরানে বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি এই পথ বদলানো সম্ভব নয়।

রুহানি ভাষণে বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। আমরা তাদের বলতে চাই যে, আমাদের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক আপনাদের ওপর আগ্রাসনের জন্য নয়- এগুলো আত্মরক্ষার জন্যে ব্যবহৃত হবে। শত্রুদের নানা ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা সত্ত্বেও ইরানি জাতি নানা বিজয় ও সাফল্য অর্জন করেছে। ইরানি জাতির ঐক্য দেখে শত্রুরা হয়েছে বিস্মিত এবং তারা এই মহান জাতির পরাক্রমের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়। কিন্তু ইরানের জনগণ ঐক্য, সংহতি ও দৃঢ়তার মাধ্যমে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। আমরা বিশ্বকে এটা জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা শক্তিশালী। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি এবং সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। গোটা বিশ্ব আমেরিকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু মুসলিম দেশ নয় জাতিসঙ্ঘের গুটি কয়েক দেশ ছাড়া আর সবাই সাধারণ পরিষদে ওই ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করেছে। ইরান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে সন্ত্রাসীরা যেখানে ইচ্ছা প্রবেশ করে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু তারা ইরানের সীমান্তে এসে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের লোকজন এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি'র কাছে ধরাশায়ী হয়েছে।

 রুহানি বলেন, ইসরাইল ও অন্য শত্রুদের তৎপরতা রুখতে হলে মুসলমানদের মাঝে অবশ্যই ঐক্য জোরদার করতে হবে। কিছু অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে- ইসলামের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব না দেয়া। 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.