রাজধানীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

হোটেল কক্ষে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দণিখানে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় খুন হয়েছেন আদিজা আক্তার (২৭) নামে এক গার্মেন্টশ্রমিক। পাষণ্ড স্বামী তাকে গলা কেটে হত্যা করে। গতকাল সকালে দক্ষিণখান এলাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে পুলিশ আদিজার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক।
দণিখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, স্বামীকে নিয়ে দণিখান এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আদিজা। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। স্বামী রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে। তাদের কোনো সন্তান নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর পরকিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িওয়ালা সেই ঝগড়া মিটিয়ে দেন। এরপর রাতে যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লাশ উদ্ধারের সময় আদিজার পাশ থেকে একটি রশি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর আদিজার গলা কাটা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতের স্বামীকে ধরার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
হোটেল কক্ষে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু : অপর দিকে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে মামুন (২৪) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জাবেদ আহমেদ (২৬) নামে নিহতের আরেক বন্ধুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের হোটেলের কক্ষ থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা ৫৯ নম্বর পুরানা পল্টনের বন্ধু আবাসিক হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন।
ওই হোটেলের ম্যানেজার হাসান মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে মামুন ও তার বন্ধু জাবেদ হোটেলের পাঁচতলার ৫০৫ নম্বর ক ভাড়া নেন। রাতে তারা চিকেন গ্রিল খান। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাবেদ তাকে ফোন করে রুমে যেতে বলেন। পরে তিনি ওই রুমে গিয়ে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মামুনের ভাই সোহাগ জানান, মঙ্গলবার রাতে মামুনের ব্রাজিল যাওয়ার ফাইট ছিল। তবে তা বাতিল হওয়ায় মামুন এবং গ্রাম থেকে তার সঙ্গে যাওয়া বন্ধু জাবেদ ওই হোটেলে ওঠেন। মামুনের পিতার নাম শফিকুল ইসলাম। বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার রথি গ্রামে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর মামুনের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে পুলিশ জানায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.