ফেনী ও নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত
ফেনী ও নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত

ফেনী ও নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত

শাহাদাত হোসেন ফেনী

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুরে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে শ্রেণিকে ধর্ষণকারী মুসা আলম মাসুদ (৩০) গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুক যুদ্ধে নিহত’ হয়েছে। প্রায় দেড় মাস পালিয়ে থাকার পর পুলিশ তাকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে।


পুলিশের ভাষ্য, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে নিয়ে অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ রাত ২টায় খুশিপুরে অভিযানে যায়। টের পেয়ে সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। গোলাগুলিতে মাসুদ ঘটনাস্থলে নিহত ও চার পুলিশ সদস্য আহত হন।


ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই গ্রামের আবদুল মতিন চেয়ারম্যান বাড়ির শাহ আলমের ছেলে মুসা আলম মাসুদের বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, দু’টি খুন, দু’টি ডাকাতিসহ অর্ধডজন মামলা ও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।


তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালের ৯ জুলাই খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পর এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মাসুদ শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হলে সম্প্রতি সে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর গত ৪ মে একই গ্রামের চার সন্তানের এক জননীকে সে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ৬ মে দাগনভূঞা থানায় মামলা করেন।


এলাকাবাসী জানান, কিছুদিন আগে সে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার স্ত্রীকেও ধর্ষণ করে। স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলেও লোকলজ্জার ভয়ে থানায় মামলা এ ব্যাপার মামলা দায়ের হয়নি।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন জানান, মাসুদ ২০১০ সালের নভেম্বরে ওমরপুরে জোরপূর্বক এক কিশোরীকে বিয়ে করে। বিয়ের পরও এক হিজড়ার সাথে মেলামেশার প্রতিবাদ করায় তার নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসায় ছিল মাসুদের নেশা।
এ দিকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তের পর গতকাল বুধবার বিকেলে

পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। রাত ৮টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হলেও স্থানীয়রা জানা যায় অংশ নেয়নি।


নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র চুরির আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পুলিশের অস্ত্র খোয়া এবং পরে উদ্ধারের ঘটনায় মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ২টায় দাপা আলামিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পারভেজ (৩০) ফতুল্লার দাপা পাইলট স্কুল এলাকার সোবহান মিয়ার ছেলে।


পুলিশের দাবি, দাপা এলাকায় ছিনতাইকারী দুই গ্রুপের গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ত্রিপক্ষীয় গোলাগুলি চলে। এ সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পারভেজ মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি রিভলবার ও তিনটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।


গত ১৩ মে রোববার রাতে এএসআই সুমন কুমার পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ফতুল্লা রেলস্টেশন রোড এলাকার একটি বালুর মাঠে ডিউটি করছিলেন। গভীর রাতে কনস্টেবল সোহেল রানার সাথে থাকা একটি চাইনিজ রাইফেল খোয়া যায়। পর দিন ১৪ মে সোমবার বেলা ১১টায় ফতুল্লার দাপা বালুর মাঠে ডোবার পাশ থেকে রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই সুমন কুমার পাল, তিন কনস্টেবল মাসুদ রানা, আরিফ ও সোহেল রানাকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়।


পরে সুমন পাল বাদি হয়ে পারভেজসহ তিনজনকে আসামি করে সোমবার রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, পারভেজ ওই অস্ত্রটি লুট করেছিল। পারভেজ পুলিশের সোর্স হিসেবেই এলাকাতে পরিচিত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.