শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন
শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন

শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট

১৭ মে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিজ দেশে ফিরে আসার দিন। আজ থেকে ৩৭ বছর আগে ১৯৮১ সালের এই দিনেই তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাতা হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে। শেখ হাসিনা ফিরে এসেছেন বলেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে বিশ্ব দরবারে। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে ফিরে শেখ হাসিনা সেদিন শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পেরেছিলেন বলেই আজ মাটিতে মেট্রোরেল, সমুদ্রে সাবমেরিন ক্যাবল এবং স্যাটেলাইন মহাকাশের অংশীদার। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে তার রক্তের উত্তরাধিকার। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য সেদিন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলানগর পর্যন্ত জনসমুদ্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

সেদিন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশে গণজাগরণের ঢেউ জাগে, গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয় আন্দোলনের-রাজনীতির, গণসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায় সংগঠনের। দেশবাসী পায় নতুন আলোর দিশা। আলো হাতে আঁধারের কাণ্ডারী হয়ে বঙ্গবন্ধুবিহীন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় ফিরে এসেছিলেন বলেই স্বল্পোন্নয়ন দেশ থেকে আজকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং মহাকাশের গর্বিত অংশীদার আজকের বাংলাদেশ। সেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সাহসী উচ্চারণ ‘...আমি সামান্য মেয়ে। সক্রিয় রাজনীতির দূরে থেকে আমি ঘরসংসার করছিলাম। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। বাবা-মা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। বাঙালি জাতির আর্থসামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’

সেদিনই তিনি স্বাধীনতাকামী মানুষকে দেন তার অমোঘ দিকনির্দেশনা- ‘শোককে শক্তিতে পরিণত করুন’। শেখ হাসিনা সেদিন জনগণকে দেয়া সেই অঙ্গীকার পূরণে ৩৭ বছর ধরে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জনগণের ভাগ্যবদলে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিন লাখ লাখ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধুকন্যা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে সক্ষম হয়েছেন। তার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। স্বল্পোন্নয়ন দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ। পাঁচ কোটি লোক নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশ হবো। দারিদ্র্য বিমোচনে আপনার সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করেছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করেছেন। আপনার যুগান্তকারী ঘোষণা, ‘একটি লোকও গৃহহীন থাকবে না’ মানবিক বাংলাদেশের প্রতিধ্বনি। আপনার চিন্তাপ্রসূত গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ক্লিনিক, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, ‘মায়ের হাসি’ নামে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান ও ২৫ লাখ মাকে মোবাইল ফোন প্রদান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ফান্ড গঠন, কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা, দুস্থভাতা প্রদানে উপকারভোগী বাংলাদেশের মানুষ। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতির দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ নামের ঐতিহ্যবাহী দলটিকে ব্যালট বিপ্লবে ক্ষমতায় এনে প্রচলিত আইনে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছেন। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সেসময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুণগত একটি পরিবর্তন আসে। দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বড় দৃষ্টান্তও সেসময় ঘটেছে। পার্বত্য এলাকাজুড়ে নানাবিধ কারণে একটি বিশৃঙ্খল ও অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করত। ওই এলাকা দেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ করে সে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছিল তারুণ্যের একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া। ইতোমধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ২০২৩ সালের আগেই উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই রূপকল্প বাস্তবায়ন রাজনৈতিক কোনো কথার ফুলঝুরি নয়; আজ তা প্রমাণিত সত্য। আজকে আমরা স্যাটেলাইট মহাকাশের অংশীদার। ডিজিটালের সুফল ভোগ করছে দেশের জনগণ। হাতের মুঠোয় এখন সবকিছু। দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকারও বেশি। আমাদের এই স্বপ্ন, বিশ্বাস এবং এতটুকু যে অর্জন তা কেবল শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনা এমন একজন নেত্রী, যিনি অসহায় বিপন্ন মানুষের কাছে ব্যাকুল চিত্তে তিনি ছুটে যান মানবিক হƒদয় নিয়ে, মায়ের ভূমিকায় পাশে দাঁড়ান। তার মতো স্নেহশীল মা, কর্মীবান্ধব সভানেত্রী, প্রাজ্ঞ দৃঢ়চেতা দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেত্রী যেভাবে দেশ ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিরন্তর পথ চলছেন, দেশের স্বার্থে যেভাবে আপসহীন দৃঢ়তা দেখিয়ে এসেছেন, তা ইতিহাসে তাকে অমরত্ব দেবে। আজ তার এই দেশে ফেরার শুভ দিনে মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থ, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের মনের দোয়া কবুল করুন। শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ,
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.