২০ বছর বেতন পাননা স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী

বালিয়াকান্দি ( রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাওনারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা বেতন পান না ২০ বছর। এতে করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বিদ্যালয়র সঙ্গে জড়িত এসব শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৯ জন শিক্ষক ও দুইজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিনশ ৫০ জন। ৭৫ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে মোট ভবন তিনটি। এরমধ্যে একটি একতলা পাকা ভবন ও অপর দুটি টিনসেড। নয়টি শ্রেণি কক্ষসহ রয়েছে একটি স্বতন্ত্র কম্পিউটার ভবন। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে ২০০২ সালে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে ১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে স্বীকৃতি পায়।

২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ৬০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৫৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন জিপিএ পাঁচ পাওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া ১৬ সালে দুইজন জিপিএ ৫ অর্জনসহ ৯৫ দশমিক ৮৩ জন, ১৫ সালে দুইজন জিপিএ পাঁচসহ শতভাগ, ১৪ সালে দুইজন জিপিএ ৫ পাওয়াসহ ৯৭.৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়। এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৭ সালে ৩৫ অংশ নিয়ে ২১ জন উত্তীর্ণ হয়। এছাড়া আগের বছর ২৮জন অংশ নিয়ে ২৩ জন এবং ২০১৫ সালে ২১ জন অংশ নিয় ২০জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বিদ্যালয়ের ভবন। একটি পাশে একটি একতলা ভবনের পাশে পতপত করে উড়ছে জাতীয় পতাকা। মাঝখানে বড় একটি মাঠ। অপরপাশে টিনসেড দুটি ভবন। একটিতে কম্পিউটার ভবন। দুটি কম্পিউটার দিয়ে কম্পিউটারে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে এসেছে।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সংসদের সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমি এই বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। এখন একটি কলেজে অধ্যাপনা করি। আমার সহপাঠিরা অনেকেই বিভিন্ন দপ্তরে ভালো বেতনে চাকুরী করে। কিন্তু আমাদের শিক্ষকেরা এখন পর্যন্ত কোনো বেতন-ভাতাদি পান না। বিষয়টি আমাদের খুব পীড়া দেয়, কষ্ট লাগে। আমরা নিজেদের সাধ্য মতো বিশিষ্টজনদের কাছে চেষ্টা-তদবির করি। কিন্তু আশ্বাস পেলেও কার্যকর কোনো লাভ হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক খোকন কুমার হোড় বলেন, ২০০২ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। পড়ালেখা শেষ করে বিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ছিলাম। স্বপ্ন ছিলো জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রাখবো। শহরের কয়েকটি বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো ভাবে বেঁচে আছি। বিদ্যালয়টির মায়ায় পড়ে গেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাম রফিকুজ্জামান। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। ডায়াবেটিক রোগে ভূগছেন। তিনি বলেন, দরিদ্র এলাকা। বেশির ভাগ ছাত্রই বিনা বেতনে পড়ে। আমাদের পরে স্বীকৃতি পাওয়া কয়েকটি বিদ্যালয় এমপিওভূক্ত হয়েছে। আমরা শুধু সবার দেওয়া প্রত্যাশায় আছি। কারো কারো চাকুরির জীবন শেষের দিকে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ি বিদায় নিতে হবে। কিন্তু সরকারী বেতন পেলো না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়গুলোর এমপিওভূক্ত করার বিষয়টি অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এমপিও পাওয়ার জন্য সব যোগ্যতা ওই বিদ্যালয়ের রয়েছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় এমপিওভূক্ত করা হয়েছে। এবার এমপিওভূক্তি শুরু হলে বিদ্যালয়টিকে অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এমপিও বন্ধ রয়েছে। আমরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা তদবির করছি। কিন্তু সরকারী ভাবে বন্ধ থাকলে তো আমাদেরও কিছু করার থাকে না। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া তো আপাতত আর কোনো পথ নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.