উপগ্রহ কৃত্রিম, প্রচারণা খাদহীন
উপগ্রহ কৃত্রিম, প্রচারণা খাদহীন

উপগ্রহ কৃত্রিম, প্রচারণা খাদহীন

জসিম উদ্দিন

মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন নিয়ে সরকারের প্রচারণায় মনে হওয়া স্বাভাবিক বাঙালি জাতি বিশ্বে একটা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই প্রচারণাকে আরো বেগবান করেছে দেশের মিডিয়া। সরকারি প্রচারণার গুরুত্ব কতটুকু, সেটা বুঝে উঠতে জনগণকে রীতিমতো ধাঁধায় পড়তে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহটির নির্মাণ ও মহাকাশে উৎক্ষেপণ- এর কোনোটিই বাংলাদেশ নিজে করেনি। উপগ্রহটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্স এবং মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে বাংলাদেশের। এর উচ্চব্যয় নিয়ে সরকারবিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ভারতের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ এর চেয়ে তিন গুণ কম খরচে নির্মিত ও স্থাপিত হয়েছে মহাকাশে। ওই উপগ্রহের সুবিধা নেয়ার জন্য বাংলাদেশসহ সার্কের সাতটি দেশকে তারা আমন্ত্রণ জানায়। বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনভাবে এটি বাংলাদেশের স্বার্থে ব্যবহার হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এর চাবি কেবল দু’জনের কাছে রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। 

কৃত্রিম উপগ্রহটির সফল উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। একে স্মরণীয় করে রাখতে রোজা শুরুর আগেই দেশব্যাপী উৎসব করা হয়। অথচ মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন অভিনব কিছু নয়। এর আগে আরো ৫৬টি দেশ তাদের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করেছে। যার সূচনা হয়েছিল আরো ছয় দশক আগে, ১৯৫৭ সালে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ পাঠিয়ে মহাকাশে প্রথম জাতি হিসেবে অবস্থান নেয়। এরপর একে একে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও চীন। স্পুটনিক পাঠিয়ে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া আতশবাজি করেছিল কি না জানা নেই। তবে সত্যিই পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে এটি ছিল একটি বড় অর্জন। এর পরের কয়েক দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নব নব উদ্ভাবন এনে পৃথিবীকে এগিয়ে নেয়। প্রতিযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এতে আরো দারুণ সব সফলতা যোগ করে।

কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ও এর গতিবিধি নিয়ে কাজ করে এন২ওয়াইওডটকম। ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ইতোমধ্যে মহাকাশে ৫৯টি দেশ আলাদাভাবে, কয়েকটি দেশ যৌথভাবে এবং বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা মিলে চার হাজার ৭৩৮ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহটি সেই হিসেবে মহাকাশে স্থাপিত চার হাজার ৭৩৯তম কৃত্রিম উপগ্রহ। আমরা আমুদে জাতি, একটুতে উৎসব করতে পছন্দ করি। অর্জন কতটুকু হলো সেটা নিয়ে ভাবতে মোটেও আগ্রহী নই। কিন্তু এ ধরনের কিছু করার আগে আমাদের চিন্তা করা উচিত ঘটনার গুরুত্ব কতটুকু। বিষয়টি শিশুসুলভ হালকা কিছু হয়ে যাবে না তো?

অন্য আরেকটি ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, মহাকাশে সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা দুই হাজার ২৭১টি। ওয়েবসাইটটির তথ্য মতে, সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পাঠানো উপগ্রহের সংখ্যা এক হাজার ৬১৮টি। কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর শতকও যদি আমেরিকা উদযাপন করত, তাহলে ১৬ বার তাদের আতশবাজি পোড়াতে হতো। দেশটি এমনটি করেছে কি না জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে ৮০৩টি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঠানো উপগ্রহের সংখ্যা এক হাজার ৫০৪টি। রাশিয়ার বর্তমান সক্রিয় উপগ্রহের সংখ্যা ১৪২টি। চীনের সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা ২০৪টি। সক্রিয় রয়েছে জাপানের ১৭২টি, ভারতের ৮৮টি, ফ্রান্সের ৬৮টি, জার্মানির ৫২টি, কানাডার ৪৮টি, যুক্তরাজ্যের ৪২টি, ইতালির ২৭টি কৃত্রিম উপগ্রহ। বাংলাদেশের জনগণের তিন ভাগেরও কম জনসংখ্যার রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে ২৪টি সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ। দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা পাঁচ কোটি ১০ লাখের কিছু বেশি। দেশটির সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের কমপক্ষে ৭২টি কৃত্রিম উপগ্রহ থাকা উচিত ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন দেশটির অর্থনীতি আমাদের মতো পশ্চাৎপদ ছিল।

বাংলাদেশের একটি উপজেলার সমান স্বাধীন দেশ লুক্সেমবার্গেরও কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে আগে থেকে। এ ছাড়া এমন সব সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে, যার মালিকানা একজন বা কয়েকজন মাত্র ব্যক্তি। এ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করে তারা আনন্দে দিশেহারা হয়ে যাননি। উপমহাদেশের আরেকটি দরিদ্র দেশ পাকিস্তানেরও তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণ একটি সাধারণ ঘটনা। প্রায় প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর কাজ এখন চলছে। অনেক কোম্পানি নিজেদের প্রয়োজনে যৌথভাবে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাচ্ছে। প্রায় সব ধনী দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কারখানা ও উৎক্ষেপণের জন্য স্টেশন রয়েছে। পৃথিবীর অষ্টম জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ যখন এই ক্ষমতা অর্জন করবে, সেটি উদযাপনের একটা বিষয় হয়তো হতে পারে। তত দিনে হয়তো পৃথিবী এত দূর এগিয়ে যাবে যে, সেটাও উদযাপন করা বেমানান ঠেকবে।

কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো হয় যোগাযোগ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, প্রকৌশলগত উন্নয়ন, সমুদ্র জাহাজ চলাচল ও অবস্থান নির্ণয়, মহাকাশ গবেষণা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তর পর্যবেক্ষণ করার জন্য। ব্যবহারিক দিক দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহের শ্রেণিবিভাজন রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহার, সরকারি ব্যবহার, সামরিক প্রয়োজনে এবং বেসরকারি অন্যান্য প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করা হয়। যে কারণে ধনী দেশগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাচ্ছে। একেকটি দেশের শত শত কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু উপগ্রহের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। যোগাযোগের জন্য এগুলো এক একটি স্বয়ংস¤পন্ন ইউনিট। বাংলাদেশের উচিত নীরবে অগ্রগতি অর্জন করা। এর মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা। যেমনটি আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার সামরিক শক্তিতে আমাদের ছাড়িয়ে বহু দূর এগিয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষেপণের ইতিহাস মসৃণ হয়নি। কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এটি বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণ হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। ঠিক এক মিনিট আগে ৩টা ৪৬ মিনিটে থেমে যায় সব আয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য ‘সামান্য’ কারিগরি সমস্যার আশঙ্কা থাকায় উড়ছে না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। অনেকে প্রস্তুতি নিয়ে সময়টি উদযাপন করতে না পেরে হতাশ হন নিশ্চয়ই। শেষ পর্যন্ত এটি সফলভাবে আকাশে উঠতে সমর্থ হয়। পরের দিন রাত ২টা ১৪ মিনিটে উপগ্রহটি যাত্রা শুরু করতে সমর্থ হয়।

জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের মর্যাদাগত অবস্থান কোথায় দেখতে চাই, সেই লক্ষ্যও সম্ভবত আমরা নির্ধারণ করিনি। ছোট এক-একটা জিনিস আমরা যতটা বড় করে দেখেছি, তাতে নিজেদের সাথে সঠিক আচরণটি করছি না। আয়তনে বড় না হলেও জনসংখ্যায় আমরা পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ দেশ। এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী রাশিয়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের চেয়ে জনসংখ্যায় আমরা বৃহৎ দেশ। প্রতিটি ক্ষেত্রে না হোক, এসব দেশের চেয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে থাকতে পারতাম। ‘না থাকা’ কিংবা ‘পিছিয়ে থাকার’ হিসাবে আমরা এসব দেশ থেকে এগিয়ে। ইতিবাচক কোনো একটি ক্ষেত্রেও আমরা দেশগুলো থেকে এগিয়ে নেই। কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়ে আমরা যেভাবে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছি, তাতে কোনোভাবে আমাদের সম্মান বাড়বে না।

বাংলাদেশের সরকার নিজের প্রচার-প্রচারণার জন্য এ ধরনের অর্জনগুলোতে অনেক বড় করে দেখাতে চাইছে। কিছু দিন তারা সমুদ্র জয়ের নামে প্রচারণা চালিয়েছে। বাস্তবিক অর্থে সেখানে আমাদের কোনো অর্জন এখনো আসেনি। প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোবসাগরে তাদের অবস্থানকে অনেক বেশি সংহত করেছে। প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে তারা অনেক এগিয়ে গেছে। নৌ-প্রতিরক্ষায় দু’টি দেশই আমাদের চেয়ে এগিয়ে। সমুদ্রকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে অনেক গুণ এগিয়ে। বৃহৎ দেশ ভারতের থেকে আমরা না হয় পিছিয়ে থাকলাম; কিন্তু গরিব পশ্চাৎপদ মিয়ানমারের থেকে আমরা কিভাবে পিছিয়ে পড়তে পারি। দেশটি সমুদ্র থেকে খনিজ সম্পদ ও মৎস্য আহরণে আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে। তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে তারা এর মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখনো এসব ক্ষেত্রে একটা জরিপও চালাতে পারেনি।

একইভাবে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিপুল প্রচারণা চালানো হয়েছে। বাস্তবে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাইনি। উত্তরণের একটা পথে রয়েছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এমন সনদ অর্জন অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়, সেটি পাওয়ার পথ বন্ধ হবে এর ফলে। তাই অনেক দেশ যথেষ্ট উন্নতি সাধন করার পরও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়নি। মধ্যম আয়ের দেশের তকমা দিতে চাইলেও তারা নেয়নি। অর্থাৎ ওইসব দেশ তাদের প্রকৃত উন্নয়ন চায়, ফাঁকা প্রচারণা চায় না। অযথা বাহবা চায় না। আমাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। আমরা উন্নয়ন চাই না, আগে বাহবা চাই। একটা কিছু ক্যাশ করতে পারলেই যেন আমরা বড় হয়ে গেলাম।

ভারতের দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ
ভারতের দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহটি আসলে হওয়ার কথা সার্ক উপগ্রহ। এটির সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১৪ সালে সার্কের কাঠমান্ডু শীর্ষ বৈঠকে। পাকিস্তান শুরুতে এটি নির্মাণে ভারতের সাথে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু ভারত সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজটি করতে রাজি না হওয়ায় সার্কের ছায়ায় তা করা গেল না, বলে তারা জানায়। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয় যে, ভারতের দক্ষিণ এশিয়া উপগ্রহে বাংলাদেশ অংশ নেবে। তার তিন দিন পর বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেন। পর্যায়ক্রমে ভারতের উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে অন্য ছয়টি দেশও এই উপগ্রহে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহে ভারতের খরচ হয়েছে সাড়ে ৪০০ কোটি রুপি। মার্কিন ডলারে রূপান্তর করলে এ খরচ সাত কোটি রুপি হয়। বাংলাদেশ যে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাশূন্যে স্থাপন করছে, তার খরচ পড়ছে এর পাঁচ গুণের বেশি। সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বাংলাদেশ সেবা পেয়েছে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ যে উপগ্রহটি পাঠিয়েছে, সেটি গুণে মানে অনেক বেশি ভালো হওয়ার কথা। কারণ, এটির খরচ পড়ছে ভারতীয় উপগ্রহ স্থাপনের পাঁচ গুণেরও বেশি। তবে একটি কথা এখানে স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে পারে, বাংলাদেশে পাবলিক মানি খরচের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নেই। ইচ্ছেমতো প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ব্যয়ও বাড়িয়ে নেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে একটি সন্দেহ থেকে যায়, বঙ্গবন্ধু উপগ্রহটি প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় উপগ্রহের তুলনায় পাঁচ গুণ শক্তিশালী আদৌ হবে কি না। এ ক্ষেত্রে কিছুটা আশা করা যেতে পারে এ কারণে যে, বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া উপগ্রহ আয়োজনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করা হবে না।

যেসব তথ্য-উপাত্ত ভারতের প্রতিবেশীরা পেতে পারে, সেগুলো সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত উপগ্রহ প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে থাকে। ভারতের এ উপগ্রহ টেলিযোগাযোগ, সম্প্রচার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আবহাওয়া পূর্বাভাস দেয়ার কাজে লাগবে। আমরা এ সেবাগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিচ্ছি। তবে এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদ ম্যাপিং করা যাবে। আমাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানার আগে ভারত জানতে পারবে। কৃত্রিম উপগ্রহের পুরো মেয়াদকালেই আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য চাই না কেন, তা ভারতের কাছে অজানা থাকবে না। এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি হচ্ছে ভারতের শ্রীহরিকোটায়। আমাদের জন্য গোপন নিরাপদ কোনো চ্যানেল এতে থাকছে না। তবে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের উপগ্রহের ওপর নির্ভর করতে পারব বলে আশা করা যায়।

jjshim146@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.