পঁচা ডিম, মৃত মুরগীর বাচ্চা ও বিষ্ঠার গন্ধে টেকা দায়

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী গ্রামে অবস্থিত সিপি হ্যাচারী লিমিটেডের (প্রজেক্ট নম্বর-৮) পঁচা ডিম, মৃত মুরগীর বাচ্চা ও বিষ্ঠার বিষাক্ত গন্ধে এলাকায় মানুষের টেকা দায় হয়ে গেছে। আশপাশে বসবাসকারীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছেন। তাছাড়া হ্যাচারীর বিষাক্ত বর্জ্য বোরো জমি ও উম্মক্ত স্থানে ফেলার কারণে প্রায় ৫০ একর বোরো ধান চিটা হয়ে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীনসহ বহু জমি অনাবাদী রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াসেস সারর্ভিসেস (এজিআরও) সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী লিমিটেড বেশ কয়েক বছর আগে ভালুকা ভরাডোবা-ঘাটাইল সড়কের পাশে উপজেলার নারাঙ্গী গ্রামে প্রায় তিন একর জমি নিয়ে মুরগীর হ্যাচারী (মুরগীর বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) গড়ে তুলেন। কিন্তু হ্যাচারী কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনের তোয়াক্কা না করে উম্মুক্ত স্থানে এমনকি বোরো জমিতে বিষাক্ত বর্জ্য, পঁচা ডিম, মৃত মুরগীর বাচ্চা, বিষ্ঠা, সিরিঞ্জ, সুই, পলিথিন ও ঔষধের খালি বোতল ফেলায় প্রায় ৫০ একর বোরো জমির ধান ৪০ থেকে ৫০ ভাগই চিটা হয়ে গেছে।

তাছাড়া দূগর্ন্ধের কারণে হ্যাচারীর উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম পাশের তালুটিয়া গ্রামসহ আশপাশের প্রায় দুই শতাধীক পরিবারের কয়েক হাজার লোক চরম দূর্ভোগের শিকার হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে অন্যত্র যাওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, এই এলাকার অধিকাংশ জমিই দুই ফসলী। এবছর তিনি তিন একর বোরো ধান আবাদ করেছেন। ধানের ফলনও হয়েছিল চমৎকার কিন্তু সিপি হ্যাচারীর বিষাক্ত বর্জ্য ও বিষ্ঠার কারণে প্রায় অর্ধেক ধান চিটা হয়ে গেছে।

তেমনি কৃষক আব্দুর রহমানের ১০ কাঠা, আবুল কালামের ৬ কাঠা, আব্দুস সামাদের দুই কাঠা, হামেদ আলীর এক একর, শামছুন্নাহারের ৮ কাঠা, গিয়াস উদ্দিন মাস্টারের ১০ কাঠা, আলম ফকিরের ৫ কাঠা, নবু ক্বারীর তিন একর ও নজরুল ইসলামের এক একরসহ প্রায় ৫০/ ৬০ জন কৃষকের ৫০ থেকে ৬০ একর জমির বোরো ধানের একই অবস্থা।

স্থানীয়রা জানান, হ্যাচারীর দুই পাশে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের লোকজন দুগর্ন্ধের কারণে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নাকে কাপড় দিয়েও বসবাস করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চিন্তা করছেন। তারা আরো জানান, এসব ব্যাপারে হ্যাচারী কর্তৃপক্ষ, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বার বার জানানোর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

হ্যাচারীর বর্জ্য অপসারনকারী মো: আসাদ নিজেকে ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, হ্যাচারীর সমুদয় জমি তারা কোম্পানীর কাছে বিক্রি করেছেন। তাই কোম্পানীর কিছু দায়িত্ব বিনা স্বার্থে পালন করে চলেছেন। তবে বিষাক্ত গদ্ধের বিষয়টি সঠিক নয়। হ্যাচারীল পঁচা ডিম ও মরা বাচ্চা গর্ত করে মাঠি চাপা দেয়া হয়ে থাকে। এতে এলাকার লোকদের কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
হ্যাচারীর ম্যানেজার মানজের আলী মঞ্জু জানান, এসব ব্যাপারে এলাকাবাসি কখনো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, স্থানীয় সুরুজ মিয়া, হারুন ও আসাদ হ্যাচারীর মৃত বাচ্চা, পঁচা ডিম ও বিষ্ঠা অপসারণের কাজ নিয়েছেন। তারা হ্যাচারী থেকে ওসব বেড় করে কোথায় নিয়ে রাখে তা তাদের জানার বিষয় নয়। তাছাড়া গর্ত করে মাটিচাপা দেয়ার ব্যাপারে তাদেরকে বলা হয়েছে। যদি উম্মুক্ত স্থানে ওসব ফেলে থাকে তবে খোঁজ নিয়ে এলাকাবসির স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান মো: বজলুর রহমান তালুকদার এলাকাবাসির দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে দুর্ভোগের ঘটনাটি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেননা। তিনি বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে আরো শক্ত অবস্থানে গিয়ে এলাকার লোকদের দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা ও ফসলি জমি বাঁচাতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.