ইরাক নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা
ইরাক নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা

ইরাক নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা

আল জাজিরা

 ইরাকের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছে শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সাদর নেতৃত্বাধীন সাইরুন জোট।  যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রদূত রেন্ড আল রহিম বলেন, ‘দুর্নীতি বিরোধী যে প্রচারণা সাদর অনুসারীরা করেছিল, তা লুফে নিয়েছে ইরাকিরা। সাইরুন এবং ফাতাহ এর এগিয়ে থাকার এই বিষয়টি প্রমাণ করে যে, ভোটারদের আদর্শগতভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছে দল দুইটি।’

রোববার ইরাকে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শিয়া নেতা মুক্তাদা আস-সাদের জোট প্রথম অবস্থানে রয়েছে। ইরাকের নির্বাচন কমিশন সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। নির্বাচনে মুক্তাদার জোট ইরাকের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট করেছে। নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিলিশিয়া নেতা হাদি আল আমিরির নেতৃত্বাধীন কংকোয়েস্ট জোট। এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদির নেতৃত্বাধীন ভিক্টোরি জোট রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

ইরাকের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬টি রাজ্যের ফলাফল ঘোষনা করা হয়েছে। প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অন্য সবার থেকে এগিয়ে আছেন মুক্তাদা আল সাদর। দেশটির সংসদের ৩২৯টি আসনের মধ্যে ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে সাইরুন জোট। কুর্দি অধ্যুষিত দোহাক ও তেল সমৃদ্ধ কিরকুকের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই দুইটি রাজ্যে না জিতলেও শেষ পর্যন্ত এগিয়েই থাকবে সাদর সমর্থিত সাইরুন জোট।

সাইরুন ইতমধ্যে পিছনে ফেলেছে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান হাদি আল আমিরি’র জোট ফাতাহ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদী’র নেতৃত্বাধীন নাসর জোটকে। ফাতাহ ও নাসর যথাক্রমে দুই ও তিন নম্বর স্থানে অবস্থান করছে।

ইরাক থেকে ইসলামিক স্টেট বা আইএস নির্মূলের পর এটিই সেখানকার প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে বিগত চার সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোট গ্রহণ হয়েছে সবথেকে কম। তালিকাভুক্ত ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৪৪ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের থেকে এই সংখ্যা ১৫ শতাংশ কম।

আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় এবাদি বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। একইসঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছেন এবাদি। তবে নিরাপত্তা বাড়ালেও দেশটি এখন পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এবাদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এতেই বিদ্রোহী শিয়াপন্থীরা নির্বাচনে ভালো ফলাফল লাভ করেছে।

 

 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.