রোদের ঝিলিকে কৃষকের আনন্দ
রোদের ঝিলিকে কৃষকের আনন্দ

রোদের ঝিলিকে কৃষকের আনন্দ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারে দু’সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ঝড় তুফানের পর গত তিন দিনের রোদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষান কৃষাণীরা । রোদের ঝিলিকে তাদের মনে আনন্দ দেখা দিয়েছে। রোদ না থাকায় কাটা ধান ও মাড়াই করা ধানে পচন ধরে র্দুগন্ধ ছড়াচ্ছিল কৃষকের ঘরে ঘরে । কৃষকের তথ্য মতে এক হাজার মণ ধান নষ্ট হয়েছে। তিন দিনের রোদে আবার ধুমধামে চলছে ধান কাটা মাড়াই ও প্রক্রিয়াজাত করণ কাজ।

রাজনগরে হাওর কাওয়াদীঘি হাওর কড়াইয়া ও গ্রামীন মাঠের ৪ হাজার হেক্টর ধান তোলার কাজে ব্যস্থ রয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন হলেও হঠাৎ ধানের দাম পড়ে যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট রয়েছে এতে লাভের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

কাওয়াদীঘি হাওর পারের কৃষক ছালিক মিয়া বলেন বৃষ্টির কারনে ২০ বিঘার মধ্যে ১০ বিঘা কাটা হয়েছে। ১৫ মন মাড়াই ধান পঁচে গেছে। গত দু’দিনের রোদে ধান কাটা শুরু করেছি। বাড়ির পঁচা গন্ধ দুর হয়েছে। কথা হয় হাওর পারের রক্তা গ্রামের শান্ত মিয়া, আঞ্জুমান মিয়া, কাউছ মিয়ার সাথে তারা বলেন নিচু হাওরের ধান অনেকটাই কাটা হয়ে গেছে। আমরা বৃষ্টির কারনে ধান কাটা বন্ধ করে দেই। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় আবার শুর করেছি। তবে ধান শুকাতে না পারায় তাদের ৮০ মন সিদ্ধ ধান নষ্ট হয়েছে। শারম পুরের সুন্দর আলী বলেন, ১০ মন সিদ্ধ ধান পচে যাওয়ার ভয়ে বস্তা বন্ধি করে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন পানিতে সিদ্ধ ধান ডুবিয়ে রাখলে তা নষ্ট হয় না। ১০/১২ দিন সংরক্ষিত থাকবে। এটা হচ্ছে তার নতুন কৌশল।

গত তিন দিনের রোদে গন্ধ ধরা ধান প্রক্রিয়া জাত করতে পারছেন। কৃষকরা আনন্দ উদ্দিপনায় গ্রামীন জনপদে ধানমাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন। রাজনগর উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের মদিপুর গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন ২ দিন ধরে রোদ পাওয়ায় পচা ধানের গন্ধ যাচ্ছে। তার ৭ মন পঁচে গেছে রোদ পেয়ে এখন আনন্দ লাগছে। ধান শুকাইতে পারছি। একই গ্রামের পারভেজ মিয়া বলেন বৃষ্টি কেটে যাওয়ায় ধান মাড়াই দিচ্ছি। একদিন রোদ থাকলেই ধান শুকানো যাবে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে জেলায় এ পর্যন্ত ৮০ভাগ বোরো ধান কেটেছেন কৃষকেরা। হাওর অঞ্চল থেকে কাটা হয়েছে ৯৯ভাগ। কুলাউড়া ও বড়লেখায় ৯৯ ভাগ,জুড়ীতে ১শ ভাগ, রাজনগরে ৮০ ভাগ,কমলগঞ্জে ৮৫ ভাগ,শ্রীমঙ্গলে ৬৫ ভাগ ও সদর উপজেলায় ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওর ও গ্রামীন মাঠে ১৬০ হেক্টর জমির পুরো ধান কাটা বাকি রয়েছে এখনো । সারা জেলায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত (গত সোমবার ) ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৯ হাজার হেক্টর।

উপ-পরিচালকের দায়িত্ব প্রাপ্ত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত বলেন, জেলায় এবছর ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় হাওরে কৃষকের ধান পঁচে যাচ্ছে কিনা এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারদিনের বৃষ্টিতে হাওরে ধানের কোন ক্ষতি হবেনা। যেহেতু ধান পানিতে তলিয়ে যায়নি এখনো।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.