ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ 

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এলাকাবাসীর চলাচলের একটি রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদে সোমবার কলতাপাড়া বাজারে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পাঁচ গ্রামের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। এসময় মহাসড়কের দু’পাশে যানবাহন আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার রাস্তা খুলে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয় ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে কলতাপাড়া বাজারে ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গৌরীপুর কলতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর থেকে উপজেলার, চূড়ালি, নন্দীগ্রাম, মুলাকান্দি, শালীহর ও তারাকান্দার বিসকা সহ পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা স্কুলের পূর্বপাশের কাঁচা রাস্তা দিয়ে কলতাপাড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদর সহ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ সহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতেন। ২০০৫ সালে স্কুলের পূর্বপাশে নতুন পাঠদান ভবন নির্মাণ ও আশেপাশে বাড়িঘর গড়ে উঠার কারণে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ওইসব গ্রামের বাসিন্দারা স্কুল মাঠের ভেতর দিয়ে চলাচল শুরু করেন। এরপর থেকে স্কুল মাঠ হয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসীকে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তবে গ্রামবাসী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্কুলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত চলাচল অব্যাহত রাখেন। এমনকি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও স্কুলের ভেতর দিয়ে অবাধে চলাচল করতেন গ্রামবাসী। চলতি মাসে বিদ্যালয়টিতে সরকারি ভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে গ্রামবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার সকালে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন গ্রামবাসী। এরপর রাস্তার দাবিতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের দুপাশে যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে গ্রামবাসীকে শান্ত করেন। গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলে, জন্মের পর থেকে আমরা এই ইসকুলের রাস্তা দিয়া চলাচল করতাছি। মার্কেট নির্মাণ করার সময় আওয়ামীলীগ নেতা দিপু স্কুলের পূর্বদিকের রাস্তাটা বন্ধ করে দিছে। এখন স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে পাঁচ গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম খান বলেন, এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করেই বিদ্যালয়ের জায়গায় এই বাউন্ডারী নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুর্শেদা খাতুন বলেন, রাস্তার জন্য গ্রামবাসী সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু গ্রামের আসল রাস্তাটা স্কুলের পূর্বপাশে ভবনের পেছন দিয়ে। কিন্তু গাছ আর সামনে দোকান থাকায় রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.