গরমে কিভাবে সুস্থ থাকবেন?
গরমে কিভাবে সুস্থ থাকবেন?

গরমে কিভাবে সুস্থ থাকবেন?

ফাহমিদা জাবীন

গ্রীষ্মের দিনগুলোতে রোদের মাত্রা যেন দিন দিন বেড়েই চলে। গরমের প্রচণ্ডতায় সারা দিন এক অস্বস্তি নিয়েই কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হয়। গ্রীষ্মের এই তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে সময়োপযোগী কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে খাদ্য অভ্যাস থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, ত্বক, চুলের পরিচর্যা ও পোশাক সবই রয়েছে। এসময় প্রয়োজন বিশেষ সচেতনতা। গরমে সারা দিনের প্রস্তুতি নিয়ে কিভাবে নিজেকে সতেজ রাখবেন সে বিষয়ে জানাচ্ছেন বেয়ার বিজ বিউটি সেলুন ও বেয়ার বিজ ফিটনেস সেন্টারের স্বত্বাধিকারী শারমিন সেলিম তুলি।

গরমে সতেজ থাকতে : এ সময়ে সূর্যের অতি বেগুনিরশ্মি আপনার ত্বককে বিবর্ণ করে দিতে পারে। সেই সাথে এই রশ্মির প্রভাবে ত্বকের কোষগুলো মরে গিয়ে ত্বক হারিয়ে ফেলতে পারে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। তাই গরমে গুরুত্ব নিয়ে ত্বকের যত্ন নেয়া উচিত। রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা যানবাহন থেকে রক্ষা পেতে রোদে বাইরে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে মুখ, গলায়, হাতে ও পায়ে সানস্ক্রিন লোশান মেখে নিতে হবে। গরমেরও আপনার ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ও লোশান ব্যবহার করতে হবে। আর রোদ থেকে ত্বক ও চুলকে বাঁচাতে ছাতা ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এসে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে টমেটো রস বা তরমুজের রস মুখে ঘষলে রোদেপোড়া ভাব দূর হয়। এটি ভালো ক্লিনজারের কাজও করে। সব সময় ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘেমে গেলে ত্বকের লোমকূপ খুলে যায়। এতে ময়লা আটকে গিয়ে সহজেই ব্রণ দেখা দেয়। ব্রণের সমস্যায় কাঁচা হলুদ বাটা, নিমপাতা বাটা, মসুর ডাল বাটা মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সাধারণত যাদের ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত অতিরিক্ত গরমে তাদের ত্বক আরো তেলতেলে দেখায়। এই তেলতেলে ভাব দূর করতে শসা কুরিয়ে লাগাতে পারেন অথবা শসার রস ঠাণ্ডা করে মুখে লাগাবেন।

এতে তেলতেলে ভাব দূর হয়ে ত্বক সতেজ হয়ে উঠবে। গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম ঝরার কারণে শরীর ক্লান্ত দেখায়। এর প্রভাবে ত্বক ও কালো ক্লান্ত, নিঃস্বপ্রাণ, নির্জীব দেখায়। কিছু রূপচর্চা করতে পারেন এই ক্লান্তি দূর করতে। গাজরের রস ও মধু এক সাথে মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এতে ত্বক তরতাজা লাগবে। চন্দন গুঁড়া ও মধু এক সাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে আরাম মিলবে। চোখের ক্লান্তি দূর করতে শসা কেটে চোখে দিয়ে চোখ বুজে থাকতে পারেন কিছুক্ষণ, ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন এতে চোখের ক্লান্তি দূর হবে। গোলাপজল ও পানি এক সাথে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। তার মধ্যে তুলো ভিজিয়ে চোখে মুখে চেপে রাখুন। গরমে চুল প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। সপ্তাহে দুদিন চুলে তেল ম্যাসেজ করে এক ঘণ্টার মধ্যে ধুয়ে ফেলতে পারলে ভালো। ঘেমে, ময়লা জমে অনেক সময় মাথার ত্বকে গোটার মতো দেখা দেয়। মাথার ত্বক ভালো রাখতে সপ্তাহে কয়েক দিন নিমপাতাসহ সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। গোসল শেষ করার আগে ৪-৫ মগ নিমপাতা সেদ্ধ পানি গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিলেই হবে।

সাজসজ্জা : দিনে কী রাতে এই গরমে নিজেকে সতেজ রাখতে প্রয়োজন ও পরিবেশ বুঝে হাল্কা মেকআপই স্বস্তিদায়ক। এই সময় পানি নিরোধক সব প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারলে ভাল। মেকআপের আগে ত্বকের ধরণ বুঝে প্রসাধনী বাছাই করুন। মেকআপ করার আগে ভালো করে মুখটা ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন। এবার এক টুকরো বরফ পুরো মুখে আর গলায় ঘষে নিন। এতে লোমকূপ বন্ধ হবে। ঘাম কম হবে। এবার একটি তুলায় অ্যাসট্রিজেন্ট ভিজিয়ে মুখে, ঘাড়ে বুলিয়ে নিতে পারেন। এটি মুখের ঘাম ও তেল নিয়ন্ত্রণ করবে। ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হলে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন। রোদে বের হলে এবার সানস্ক্রিন লোশান লাগাবেন ত্বকের ধরন অনুযায়ী। ম্যাট ফাউন্ডেশন বা কমপ্যাক্ট পাউডার হাল্কা করে লাগিয়ে নিন। এ সময় মেকআপের জন্য মিনারেল কমপ্যাক্ট পাউডার ভালো কাজ দিবে। লিপস্টিক, কাজল, আইশ্যাডো সব কিছু ম্যাট ও হাল্কা রঙের হতে হবে। খোলা চুলে না থেকে চুল উঁচু করে বেঁধে, পনিটেল করে কিংবা পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখলেও স্বস্তিদায়ক ও স্মার্ট একটা লুক আসবে।

পোশাক পরিচ্ছদ : গ্রীষ্মের এই তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে আরামদায়ক পোশাক বেছে নিতে হবে। গরমে সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই। এ সময় ভারী কাজের পোশাক এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। গাঢ় রঙ বাদ দিন। এ ছাড়া লিলেন, ধুপিয়ান, বয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাঁতের কাপড় ও গরমের জন্য বেশ উপযোগী। ফুলেল, চেক বা হাল্কা প্রিন্টের কামিজ বা কুর্তি পরতে পারেন। গেঞ্জি কাপড়ের টপস ও ফতুয়াও গরমের জন্য ভালো। উৎসবে ও অনুষ্ঠানে পরতে পারেন জামদানি সিল্ক বা একেবারে পাতলা কাতান শাড়ি। গরমে অনুষঙ্গও খুব হাল্কা পাতলা হওয়া চাই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.