উত্তর কোরিয়াকে যে শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর কোরিয়াকে যে শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়াকে যে শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ফক্স নিউজ ও রয়টার্স

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিলে দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগের দ্বার খুলবে। সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। উত্তর কোরিয়া যদি তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে সম্মত হয়, তাহলে মার্কিন বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেখানে বিনিয়োগের এ সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রাইভেট সেক্টরের ব্যবসায়ীরা পিয়ংইয়ং যেতে পারবেন। তারা উত্তর কোরিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশটিকে সহায়তার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সেখানকার অবকাঠামো ও কৃষি খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন চাপে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়নি উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অব্যাহত চাপের কারণেই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে বলে ওয়াশিংটন যে মন্তব্য করেছে, তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। জনমতকে বিভ্রান্ত না করতেও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তারা জানিয়েছে, দেশটির শান্তিপ্রিয় প্রচেষ্টাকে যেন দুর্বলতা ভাবা না হয়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ খবর জানিয়েছে।

পারমাণবিক ও পেণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের জেরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসঙ্ঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত মাসে দণি কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সাথে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তবে কিভাবে এই নিরস্ত্রীকরণ অর্জিত হবে তা ওই বৈঠকের ঘোষণায় ছিল না। এই বৈঠকের পর আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কিম জং উনের। ওয়াশিংটন দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ এবং অবরোধের কারণে উত্তর কোরিয়া আলোচনায় বসতে ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়।

তবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে কেসিএনএ বলেছে, দণি কোরিয়ায় কৌশলগত সরঞ্জাম মোতায়েন ও মানবাধিকার ইস্যু তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তর কোরিয়াকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের কাজ চলমান থাকা উচিত হবে না। কারণ তাহলে এটিকে আলোচনার জন্য কষ্টার্জিত পরিবেশ নষ্টের ভয়ঙ্কর চেষ্টা হিসেবে দেখা হবে। কেসিএনএকে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের শান্তিপ্রিয় অভিপ্রায়কে ওয়াশিংটন দুর্বলতা, চাপ আর সামরিক হুমকির ফল ধরে নিয়ে ভুল হিসাব কষলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু সমাধানে তা সহায়ক হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আগের প্রশাসনগুলোর মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ ও অবরোধ অব্যাহত রাখবেন তিনি। শুক্রবার ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সিউলে দণি কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং ইয়ো-ইয়ংয়ের সাথে সাাৎ করেন। সাাতের পর হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে দুই নেতা তাদের প্রতিরা মনোভাব বদল করবেন না। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.