রোনালদো-মেসি
রোনালদো-মেসি

রোনালদোর বাড়ির অলিখিত এক নিয়ম

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বাড়িতে অলিখিত একটি নিয়ম আছে। আর সেটি হলো- বাড়িতে উচ্চারণ করা যাবে না চির-প্রতিদ্বন্দ্বি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল ‘মেসি’র নাম। হ্যাঁ, বিখ্যাত ক্রীড়া গণমাধ্যম লা ইকুইপেকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন পর্তুগাল তারকার বোন কাতিয়া।

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী দলটির জার্সিতে রোনালদো আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে বর্তমান ফর্মের ধারাবাহিকতা অটুট রেখে পারফরম করবেন বলেই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন মা ডোলোরেস অ্যাভেইরো। গত ১ মে নিজ বাসভবনে প্রথমবারের মতো কোনো গণমাধ্যমের প্রতিনিধিকে প্রবেশের অনুমতির পর বিশেষ সাক্ষাৎকারে রোনালদোর পরিবারিক জীবনের অনেক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনায়ও অংশ নেন।

গত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের রেসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা পেয়েছেন রোনালদো ও মেসি। তাদের মধ্যে কে সেরা- এই একটি ইস্যুতেই প্রতিনিয়ত তাদের দু'জনের উপস্থিতি বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমের শিরোনামে। তবে পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদোর বাড়ির আঙ্গিনায় ওই বিষয়ে টুঁ শব্দটিও করেন না কেউ। বাড়ির বাইরের বাস্তবতার নিরিখে পারস্পারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই অলঙ্ঘনীয় রীতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

কাতিয়া বলেন, ‘আমরা বাড়ির ভেতর মেসির ব্যাপারে কোনো কথা বলি না। কারণ বাড়ির বাইরে গেলেই রোনালদো অনুভব করেন আর্জেন্টাইন তারকার সাথে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বির বাড়তি চাপ। সর্বত্রই আলোচনা চলছে ওই একই ইস্যুতে। এ জন্য তিনি যখন বাড়িতে ফেরেন, আমাদের দায়িত্বে পরিণত হয় তাকে আগলে রাখার কাজ। কারণ রোনালদোর আগামীকালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পর্যাপ্ত রসদ ঘর থেকেই উৎসরিত হয়।’

পেশাদার ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব থাকার বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে রোনালদোর মাঠের দীর্ঘ সাফল্যে। বয়স ৩৩-এ উন্নীত হলেও এখনো তরুণের মতোই বল পায়ের জাদুতে উদ্ভাসিত হচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের সুপারস্টার। চলমান মওসুমে তার গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ৪৩-এ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পর্তুগাল অধিনায়কের ১৩ গোলই এক্স ফ্যাক্টর ভূমিকায় রিয়াল মাদ্রিদের হ্যাটট্রিক ফাইনালে প্রতিনিধিত্বের গৌরব অর্জনে।

স্পেনের জায়ান্টদের সাথে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত। ডোলোরেস বিশ্বাস করেন, আসছে বছরগুলোতেও দাপুটে রোনালদোর দেখা মিলবে মাঠের ফুটবলে।

তিনি বলেন, ‘রোনালদো অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। বল পয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে আজকের অবস্থানে। তবে রোনালদোও একজন মানুষ; মেশিন নন। তিনি যত দিন পারবেন খেলা চালিয়ে যাবেন। আমার বিশ্বাস- ক্যারিয়ারের শীর্ষ ফর্ম অব্যাহত রেখে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে।’

 

গোল্ডেন সু মেসির!

লিভারপুলের তারকা মোহামেদ সালাহকে পিছনে ফেলে ইউরোপীয়ান ফুটবলে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার গোল্ডেন সু পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন বার্সেলোনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি। যদিও মাত্র মাসখানেক আগে ইউরোপের সব প্রতিদ্বন্দ্বিকে পিছনে ফেলে এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে সালাহই ফেবারিট ছিলেন। কিন্তু মার্চের শেষে লিভারপুলের এই মিসরীয় তারকা প্রিমিয়ার লীগে মাত্র তিন গোল করে পিছিয়ে গেছেন। এই সময়ে মেসি লা লিগায় করেছেন আটটি গোল।

ঘরোয়া লীগে সর্বমোট ৩৪ গোল করে মেসি সালাহ থেকে তিন গোল এগিয়ে রয়েছেন। সালাহ’র হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি ম্যাচ। রোববার ঘরের মাঠ এ্যানফিল্ডে লীগে এই মৌসুমের শেষ প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচ লিভারপুল ব্রাইটনকে আতিথ্য দিবে। অন্যদিকে লা লিগা শেষ করতে বার্সেলোনার হাতে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি আছে। সোমবার লেভান্তের বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচের এক সপ্তাহ পরে শেষ ম্যাচে ক্যাম্প ন্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদকে আতিথ্য দিবে কাতালান জায়ান্টরা।

গোল্ডেন সু টেবিলে মূলত গোলের সংখ্যার থেকে পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগে গোল করলে দুই পয়েন্ট যোগ হয়। এবারের মৌসুমে বেনফিকার হয়ে লীগে জোনাস ৩৩টি গোল করেছেন। কিন্তু পর্তুগীজ লীগে গোল করলে ওই খেলোয়াড়েরর নামের পাশে দেড় পয়েন্ট যোগ হয়। যে কারণে তালিকায় জোনাসের অবস্থান নবম। ২৯টি করে গোল করে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লিওয়ানোদোস্কি ও ল্যাজিওর সিরো ইমোবিলে। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর এডিনসন কাভানি, ইন্টার মিলানের মাওরো ইকার্দি ও টটেনহ্যাম হটস্পারের হ্যারি কেন করেছেন ২৮টি করে গোল।

ইতোমধ্যেই মেসি এই পুরস্কারটি চারবার অর্জন করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও চারবার গোল্ডেন সু পেয়েছেন, যার মধ্যে ২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথমবার তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এই পুরস্কার জয় করেছিলেন। এবারের মৌসুমে রোনালদো ২৫ গোল করে অষ্টম স্থানে আছেন।

২০০৮ সাল থেকে ১২ জন বিজয়ীর মধ্যে ১১ জনই ছিলেন লা লিগার। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে লিভারপুলের হয়ে লুইস সুয়ারেজ এই পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

ইউরোপীয়ন লীগে এবারের মৌসুমের শীর্ষ ১০ গোলদাতা :
নাম ------------------- ক্লাব ------ পয়েন্ট ------ গোল
১. লিওনেল মেসি-----বার্সেলোনা ----৬৮ --------৩৪
২. মোহামেদ সালাহ --লিভারপুল -----৬২ --------৩১
৩. সিরো ইমোবিলে ---ল্যাজিও -------৫৮ --------২৯
৪. রবার্ট লিওয়ানোদোস্কি -বায়ার্ন মিউনিখ -৫৮ ----২৯
৫. এডিনসন কাভানি---পিএসজি -----৫৬ ----------২৮
৬. মাওরো ইকার্দি ---- ইন্টার মিলান -৫৬ ----------২৮
৭. হ্যারি কেন --- টটেনহ্যাম হটস্পার -৫৬ ----------২৮
৮. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো- রিয়াল মাদ্রিদ- ৫০ ------২৫
৯. জোনাস --------বেনফিকা ---------৪৯.৫ --------৩৩
১০. লুইস সুয়ারেজ ----বার্সেলোনা ---৪৮ ------------২৪

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.