ফিরে দেখা, ফিরে আসা...!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

মা নিষ্পলকভাবে পথের দিকে চেয়ে থাকতেন যখন স্কুল থেকে ফিরতাম। নিভু নিভু হারিকেনের আলোয় প্রখর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন। রাতে যখন পড়তাম ঘুম জড়ানো চোখে; মা গভীর চিন্তায় কপালের ভ্রু কুঁচকিয়ে ভাবতেন, কবে আমি বড় হব।
ভালোভাবে মানুষ করার তাগিদে এই ছোট্ট আমাকে মা শহরে মামাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন আমি বুকে পাথর বেঁধে পেছন ফিরে ফিরে চলে যাচ্ছিলাম...। সেদিনও মা আমার চলে যাওয়ার পথের দিকে চেয়ে ছিলেন। অবশেষে আমি বড় হলাম। চলার মতো মানুষ হলাম। আমি গভীর চিন্তায় মগ্ন হলাম। আমি ফিরে গেলাম আমার ছোটবেলায়। আমি উপলব্ধি করলাম আর ভাবতে লাগলাম ‘আমার বৃদ্ধ মা গ্রামে সেই জীর্ণ কুটিরে কোনোভাবে জীবন কাটিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণবে! কিংবা আমার মা অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় কাতরাবে’। আর আমি সুন্দরী বউ নিয়ে শহরের আলিশান বাসায় আয়েশ করব! না, এ ধরনের কোনো গল্প রচনা করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। তাই লেখা পড়া শেষ করে শহর ছেড়ে গ্রামের ছেলে আবার গ্রামে ফিরে এসেছি। ছোট খাট একটা চাকরি জোগাড় করে নিয়েছি। হয়তো গরিব থেকে যাব। অর্থের অভাব লেগে থাকবে, দুঃখ আর কষ্টে দিনপাতি করতে হবে। হয়তো আমার সামনে অনেকেই শহর থেকে ছুটে আসা দামি গাড়ির হর্ন বাজাবে। সে হর্ন শুনে আমার ঘুম ভেঙে যাবে। অপরের দৌলতের চাকচিক্য হয়তো আমার পরিবারের অন্যদের মন খারাপ করে দিবে। কারণ, এটাই দুনিয়ার রীতি। তবে আমার আফসোস হবে না। কারণ, আমার সান্ত্বনা আমি আমার মায়ের কাছে ফিরে এসেছি।
আমি যেদিন ফিরে এসেছিলাম সেদিন মা অসময়ে আমাকে দেখে মোটেই অবাক হননি! মুচকি হাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম তুই চলে আসবি’।
-‘মা, আমি গ্রামেই তোমার কাছে থাকতে চাই’।
আমার কথা শুনে মা মুচকি হাসি দিলেও মাকে খুব চিন্তিত মনে হয়েছিল। আমি মাকে প্রায়ই ফিরে আসার কথা বলতাম। মা তাই বুঝতে পেরেছিলেন আমি ফিরে আসব।
আমি মায়ের চিন্তা দূর করতে মাকে বললাম, ‘মা চিন্তা করো না আমি গ্রামেই নিজের কর্মসংস্থান করে নিব’! দুঃখিনী মায়ের মুখে হাসি ফেরাতে জীবনমরণ যুদ্ধ করে অবশেষে বর্তমানে আমি গ্রামে মায়ের কাছে নিজের অবস্থান করতে সফল হলাম।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.