পৃথিবীর সব মা ভালো থেকো

সিয়াম বিন আহমাদ

মা শব্দটা উচ্চারণ করলেই চোখের কোণে অশ্রু এসে ভিড় জমায়। স্মৃতিগুলো বেদনার রঙে ভিজতে থাকে। পৃথিবীর প্রতিটি মায়ের গল্প উপমাহীন এক ভালোবাসার গল্প। সন্তানের একফোঁটা সুখের জন্য নিজেকে বিসর্জন দেয়ার গল্প। ওই নিস্তব্ধ ঘোমটায় বেদনা লুকোনোর গল্প। মায়ের গল্প আছে স্মৃতির ডায়েরিতে। হৃদয়নগরীতে। বেদনার কালিতে। আজো মাঝে মধ্যে নিশুতি রাতে ঘুম ভেঙে যায়; মায়ের কথা বড্ড বেশি মনে পড়ে। ইচ্ছে হয় চিৎকার করে কাঁদি। কিন্তু আজ কাঁদলেও কেউ চোখের পানি মুছে শাড়ির আঁচলটি ভেজা ভেজা করবে না। আদর মেখে দুধ-কলা ভাত কেউই খাইয়ে দেবে না এবেলা। মায়ের মতো বুকে মায়াবী আঁচল বিছিয়ে আজ আর কেউ বলবে না ‘বাবু এখানে একটু ঘুমো তো।’
আজ সাঁঝবেলা পড়ার টেবিলে বসলে ঢেঁকিঘর থেকে মায়ের রান্নার ঘ্রাণ আসে না। হাট থেকে ইলিশমাছ আনলে নিশ্চিত থাকতে পারি না মাছের ডিমটা আমার পাতে আসবে। সেই দিনের মতো আজ ধমকের সুরে কেউ বলে না এই মুরগির মাথাটা কেউ ছুঁবে না। এটা আমার বাবু খাবে। ও মাথা বড্ড পছন্দ করে। আর মাথা খেলে ওর মাথাও ভালো হবে। দেখো, আমার বাবুটা ঠিকই একদিন বড় ডাক্তার হবে।’ ফেলে আসা ওই দিনগুলো কল্পনায় আনলে আমি স্থির থাকতে পারি না। ইচ্ছে হয় বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদি।
জীবনের সব স্মৃতি ধূসর হয়ে গেলেও মায়ের স্মৃতি কখনও ম্লান হয়ে যায় না। সুখের দিনগুলোতেও মাকে মনে করে কান্না পায়। খুব করে কাঁদতে ইচ্ছে হয়। যদিও সেটা নীরবে-সঙ্গোপনে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়। কারণে-অকারণে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে মা সন্তানের পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকে। মা সন্তানের পরম প্রশান্তি। মানুষ প্রত্যাশিত জীবনে দুর্দিন কাটিয়ে ঠিকই একদিন শান্তির দেখা পায়। সেদিন কোনো কষ্ট না থাকলেও ‘আজ মা নেই’ এই অনুভূতিটা খুব করে পোড়ায়। মায়ের শূন্যতা চৈত্রের মতো চৌচির করে দেয় ভেতরটা। ওই শূন্য চিত্তটাকে কুরে কুরে খায় স্মৃতি। কখনও বা স্বপ্নও। মা এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.