ওগো মা তুমি...

রুমান হাফিজ

ইন্টারমিডিয়েট পরীা শেষ হয়েছে বেশ কয়েক দিন হলো। পরবর্তী সময় কিভাবে কী করব এ নিয়ে খানিকটা চিন্তিত ছিলাম। বিশেষ করে ভার্সিটি অ্যাডমিশনের জন্য প্রস্তুতি নেবো-কি-নেবো না। এর অন্যতম কারণ ছিল পড়ালেখার প্রতি পারিবারিক অনীহা বলতে যথেষ্ট ধারণার অভাব।
এসবকে ঘিরে মন কিছুটা হলেও খারাপ ছিল। এ অবস্থায় আম্মু জিজ্ঞেস করলেন,
-কিতা অইছে তোর, ই মন মরা মন মরা কিতার লাগি? (তোর কী হয়েছে, মনটা খারাপ কী জন্য?)
-আমি ফড়ালেখা বাদ দিলাইমু, আর কিতা খরতাম! (আমি পড়ালেখা বাদ দিয়ে দেবো, এ ছাড়া আর কী করব)
-অউ কিতা খইলে রে হুনা...! (এই কী বললে বাবা?)
মাথায় হাত রেখে আম্মু এমনভাবে কথাটা বলছেন, মনে হচ্ছে যেন তার ওপরে বিশাল এক পাথর চাপা দিয়ে আছে। ডুকরে কেঁদে উঠলেন মুহূর্তেই। একেবারে অবুঝ শিশুদের মতো।
আমার আম্মু কখনও বিদ্যালয়ের জ্ঞান আহরণ করার সুযোগ পাননি। একদম অজ্ঞ। নিজের নামটাও পর্যন্ত লিখতে পারেন না!
আমার পড়ালেখার জন্য সেই ছোটবেলা থেকে এখনো কোনো ছাড় দেননি। নিজে না জানলেও আমার জন্য তার পেরেশানি দেখে আমি অবাক হই।
তবে আমার এই অজ্ঞ আম্মুর সহযোগিতায়ই পরে আমি ভার্সিটিতে অ্যাডমিশন নেই।
বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে প্রথম যেদিন চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেই, সেদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে আম্মু খুব কেঁদেছিলেন। একটা কথাই বারবার বলেছিলেন, ‘ও হুনা বেশ খরি ফড়িও, আর দেকিহুনি চলাফিরা খরিও’ (বাবা পড়ালেখা বেশি করে করবে, আর চোখমুখ সজাগ রেখে চলাফেরা করবা)।
বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ের একটা সুপারিগাছের সাথে ঠেস লাগিয়ে আমার যাওয়ার পথের দিকে আম্মু এক পলকে চেয়ে ছিলেন। অনেক দূর চলে আসি, চেয়ে দেখি আম্মু তখনও দাঁড়ানো। তখন তার চোখে দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল কিনা বুঝতে পারিনি, বোঝা সম্ভবও নয়। কারণ আমার চোখ দুটো তখন ঝাপসা হয়ে এসেছে।
শিার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.