মা-কান্তিহীন পরিশ্রমী

তানভীর আহাম্মেদ

খুব সকাল। দিনের আলো ছড়িয়ে সব দিক আলোকিত হয়ে ওঠে। সবাই ঘুমে কাতর। এই ঘুম যে ভাঙতে চায় না। পাখিরাও নীড় ছেড়ে যায় কাকভোরে। ঘুমকাতুরে ভাব ছেড়ে সে সময় আরও একটি পাখি ঘরের সবার আগে জেগে ওঠে। সে মা; সে যে দায়িত্বশীল নারী। চোখ খুলেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হয় একগাদা দায়িত্ব নিয়ে। সবার ঘুম ভাঙার আগেই উঠে সে সকালের নাশতা তৈরি করে। তবে আগেভাগেই নাশতা খাওয়া হয় না তার। কারণ, আগে সবার তৃপ্তি আর এতেই তার সন্তুষ্টি।
এটা শুরুর গল্প। দিন তো পুরাই বাকি। কিছুণ পরই বাসা খালি। না, টিভি দেখে অথবা বই পরে হেলায় কাটানো নিষেধ। দুপুরের খাবার আপাতত প্রথম পদপে। কী রান্না হবে, কখন করবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা অবশেষে করা। খাবার একটু পরেও রান্না হতে পারে। তবে সে সময়টায় বসে থাকার অবকাশ নেই। হয়তো ঘর গোছানো। আর ঘরে ছোট শিশু থাকলে তো তাকে ঘিরেই কাটে অনেকটা সময়। সে যে ভবিষ্যৎ, টুকিটাকি এখনি তাকে শেখাতে হবে। মাথার ভেতর এক ঝাঁক চিন্তা। কখন ঘরে ফেরার মানুষেরা আসবে। হয়তো সময়টা ঠিকই জানে। এর পরও ভাবতে হয় তাকে। আসার যান পেয়েছে তো, অনেক ুধা মনে হয় তাদের। ওদের ুধা যে তার সহ্য হয় না। তাই তো রাতের রান্নার জন্য প্রস্তুত সে। অতএব রাতের রান্না। ঘরে ফেরে সবাই।
বিশ্রামের জন্য অলস হয়ে বসে থাকে সবাই। কিন্তু এই কর্মী নারীর বিশ্রাম নিতে নেই। সন্তানের জন্য রাতের শিকিা যে সে-ই। রাতের খাবার, অতঃপর সবার ঘুমিয়ে পড়া। সারা দিনের কান্তি ঝেড়ে সবাই দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে চোখ বোজে। কিন্তু না, মায়ের তা হয় না। তার চোখ বন্ধ হয় এর পরের সকালের কথা ভেবে। অসুস্থ হলেও চেপে যায় সে, বিশ্রাম লাগে না। কারণ, তার অলস বিশ্রাম মানে সবার কষ্ট আর সবার সুখ মানে তার প্রশান্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.